ঢাকা, রোববার 29 January 2017, ১৬ মাঘ ১৪২৩, ৩০ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ছড়া/কবিতা

সরষে ফুলের হলদে খামে
নজরুল ইসলাম শান্ত

শীত-শীতালির পরিবেশে শিশির ভেজা ঘাসে
ছোপায়-থোপায় মুক্ত সাজায় তীব্র শীতের মাসে
লেপ-তোষকের নরম ওমে ঘুমপরীরা দোলে
শীতের পোশাক গায় জড়িয়ে শিশু মায়ের কোলে।
সকাল বেলায় হালকা রোদে মিষ্টি আলো ছড়ায়
হোগলা-পাটি বিছিয়ে কেহ ব্যস্ত লেখাপড়ায়
দাদির হাতের ভাঁজা মুড়ি সঙ্গে খেজুর গুড়
কড়কড়ানো দাঁতের ভাঁজে মচমচে মুড়মুড়।
সরষে ফুলের হলদে খামে ধামারণের বিল
অন্য কোন রঙের সাথে নেই কোন তার মিল
বক-কবুতর উড়ে আসে ইরি ধানের ক্ষেতে
ঝোপের ভেতর ডাহুক ডাকে সমস্বরে মেতে।
মায়ের হাতের ফিন্নি পায়েস ভীষণ মজা লাগে
ভাই-বোনেতে ঝগড়া বাঁধে, কে খাবে কার আগে
মৌমাছিরা গুনগুনিয়ে বরই ফুলের মাঝে
মধু পানের অন্বেষণে ব্যস্ত নিজের কাজে।
সরষে ফুলে ভ্রমর বসে মৌমাছি নেয় মধু
তাই না দেখে রয় তাকিয়ে এক কিষাণীর বধূ।
বধূর হাতে পান্তা বাসন আঁচল গাঁথা নূন
হাতে চুড়ি পায়ে নুপুর বাজে ঝুনুর-ঝুন।
খানিক দূরের গুলমাদুরে মীর সাহেবের বাগ
রাত-বিরাতে চলছে সেথায় লালনগীতির রাগ
টাক-ডুমাডুম ঢোলক বাজে সঙ্গে কাসাবাটি
সাজের বেলায় শীত ঋতুতে ফুর্তি ফাটাফাটি।


আমার গাঁ
মাহমুদ শরীফ

আমি থাকি নীল-সবুজের
ছায়া ঘেরা গাঁয়ে
গড়াই তীরের মায়া কানন
কুমারখালীর বাঁয়ে।

গাছ গাছালী-পাখ পাখালী
ফুল ফসলের শোভা
গড়াই তীরে দাঁড়িয়ে দেখি
রোজই পুবের প্রভা।

বিল ও দীঘির শাপলা শালুক
পানকৌড়ির ডুব
গড়াই বুকে পাল তোলা নাও
বাহ কী অপরূপ!

হরেক রকম পিঠা পুলি
কীযে মজার গন্ধ
রাখাল ছেলের বাঁশির সুর
হা-ডু-ডু-র ছন্দ।

আঁকাবাঁকা মেঠোপথ আর-
জোনাক পোকার আলো
‘হাঁসদিয়া’ গাঁও সুখ নগরী
তাইতো বাসিভালো।

খুকু খেলে

খুকু খেলে রঙের পুতুল
দুপুর বেলা
খুকুর খুশিই সারা বাড়ি
সুখের মেলা।

খুকু দেয় পুতুল বিয়ে
মেয়ে-জামাই
কার সাধ্য খুকুর খেলা
বিয়ে থামায়।


স্বপ্ন দেখি
আব্দুল বাছিত

স্বপ্ন দেখি আকাশ ছোঁয়ার
পাতাল ফেড়ে নামার
আসলে পথে আঁধার তবু
নেই যে সময় থামার।

স্বপ্ন আমার দু'চোখ জুড়ে
বিশ্বটাকে জানার
বিশ্বমাঝে মানবলোকে
সুখপাখিটি আনার।

স্বপ্ন দেখি দেশটা আমার
খাঁটি সোনার হবে
শান্তি সুখের সমাজটা তাই
উঠবে হেসে তবে।


ইলিশ
আব্দুস সালাম
 
যাচ্ছে পাওয়া হাটবাজারে
ইলিশ দামে সস্তা
ফ্রিজে ভরে রাখছে কেহ
কিনছে কেহ বস্তা।
 
কিন্তু অনেক মানুষ আছে
স্বাদ গিয়েছে ভুলে
তাদের পাতে দেব না হয়
একটু ইলিশ তুলে।
 
দিন কেটে যায় খেয়ে যাদের
পান্তা এবং বাসি
তাদের পাতে পড়লে ইলিশ
ফুটবে মুখে হাসি।
 
মা ইলিশ ও জাটকা যেন
আর না ধরে কেউ
ইলিশ ভরা থাকবে নদী
জাগবে মনে ঢেউ।

 
অতিথি পাখি
মুহাম্মাদ আলী মজুমদার

আমাদের এই দেশে
পৌষ-মাঘ এলে
দূর দেশ হতে পাখি
আসে ডানা মেলে।
হাওড়-বাওড়ে তারা
নাচানাচি করে
ক্ষুধা পেলে ছোট মাছ
কীট-পোকা ধরে।
তারা খুব ভালোবাসে
আমাদের দেশ
নির্মল রাখে তারা
এই পরিবেশ।
তারা হলো আমাদের
অতিথি-স্বজন
এই দেশ, এই মাটি
তাদের আপন।
পাখিদের মনে তাই
দিও নাকো শোক
যারা এই পাখি ধরে
তারা বদলোক।


শেয়ালের বিয়ে
শাহ্ আলম শেখ শান্ত

রোদবৃষ্টি একসাথে আজ
শেয়াল মামার বিয়ে
যাচ্ছে উড়ে ঐ বিয়েতে
টুনটুনি আর টিয়ে !
বায়না ধরে খায় না কিছু
খুকুমণি সারাহ্
ঐ বিয়েতে যেতে হবে
একপায়ে সে খাড়া !
বাবা বলে, মিথ্যে ওসব
খুকু বলে, না, না
শুনছি আমি দাদির মুখে
করো নাকো মানা !
কোথায় বিয়ে! যাবে কিসে!
রেগে বলে বাবা
ময়ূরপংখী নায়ে যাবো
তুমি সাথে যাবা?


অতিথি পাখি
হোসেন মোতালেব

তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে
সাগর নদী চক এড়িয়ে
আসছে পাকি উড়ে
সাইবেরিয়া বেশতো দূরে
ঝাপটে পাখা আসছে উড়ে
    আকাশে ঘুরে ঘুরে।

ওরা হল শীতের পাখি
কিচিরমিচির ডাকাডাকি
    আসছে মোদের দেশে
বিল বাওর আজ তাইতো মুখর
হরেক পাখির ডাকে তুখোর
    শীতেই অবশেষে।
উড়ছে পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে
খালে বিলে নদীর বাঁকে
    দিন দুপুর আর রাতে
বক সারস আর দেশের পাখি
নতুন সুরে উঠলো ডাকি
    অতিথি পাখির সাথে।


চালাক পাখি বোকা পাখি
আলতাফ হোসেন রায়হান

বনের পাখি মুক্ত আকাশে
    করে ডাকাডাকি
এ ডাল থেকে ওডালে যায়
    করে নাচানাচি।
খাঁচার ভিতর বন্দি পাখি
    কিচিরমিচির করে
মুক্তি পাবার আশা করে
    ছটফটায়ে নড়ে।
চালাক পাখি ডিম পাড়ে
     বোকা পাখির বাসায়
না বুঝিয়া ডিম ফুটায়
    মা ডাকের আশায়।
এইভাবে চালাক পাখি
     বংশ বিস্তার করে
কুহু কুহু শব্দ করে
পাতার ফাঁকে নড়ে।


শীত এসেছে
মুন্সী আসাদ উল্লাহ

শীত এসেছে শীত এসেছে
হিম কুয়াশার ভিড়
হিমের ভারে কাঁপছে যেন
সবুজ শীতল নীড়।
খেজুর গাছে রসের কলস
রসে থাকে ভরে।
রসে মধুর চুমুক দিতে
শীতটা পড়ে ঝরে।
লাউয়ের মাঁচায় শীত এসেছে
সবুজ মাঠে শীত,
মাঠে সবুজ ঘাসের বুকে
কুয়াশা গায় গীত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ