ঢাকা, শনিবার 17 November 2018, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সোশ্যাল মিডিয়া কি মূল ধারার গণমাধ্যম থেকে বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে?

অনলাইন ডেস্ক: বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় লাইকের সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে গেছে।অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম জনপ্রিয় এই মাধ্যমে যারা বিবিসি বাংলাকে অনুসরণ করেন, তাদের সংখ্যা এখন এক কোটিরও বেশী।

সারা বিশ্বেই এখন সোশ্যাল মিডিয়া শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে নানা দেশে এমনকি প্রতিবাদ আন্দোলন সংগঠিত করার ক্ষেত্রেও এটি বড় প্লাটফর্ম হয়ে উঠেছে।

কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া কি মূলধারার গণমাধ্যমের সমান্তরাল কিংবা বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক শামীম রেজা বলছিলেন "সোশ্যাল মিডিয়া বিকল্প ধারা হিসেবে শুরু হয়েছিল। কিন্তু এটা বিকল্প মাধ্যম হিসেবে বিকশিত হচ্ছে নাকি গণমাধ্যমের সমান্তরাল হচ্ছে -এটা বলার জন্য কিছু সময় প্রয়োজন। তবে এর কাঠামো বিকল্প ধারার"।

মি: রেজার মতে "সোশ্যাল মিডিয়া ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং তার যে প্রভাব তৈরির ক্ষমতা সেটা গুরুত্বপূর্ণ"।

তবে সোশ্যাল মিডিয়ার এমন উত্থানে বাংলাদেশের মূল ধারার গণমাধ্যম যেমন সংবাদপত্র, টেলিভিশন , রেডিও ক্ষতিগ্রস্ত হবার কোনও সম্ভাবনা দেখছেন না মি: রেজা।

"কারণ এই মাধ্যমের সঙ্গে প্রযুক্তি জড়িত। ক্ষতিগ্রস্ত হবে না মনে হবার কারণ হলো এখানে আপনি হয়তো প্ল্যাটফর্ম পাল্টাচ্ছেন, হয়তো ফরম্যাট পাল্টাতে হচ্ছে। কিন্তু সংবাদতো আর পাল্টাচ্ছে না।

"সংবাদ পরিবেশনের যে রীতি, ভালো সাংবাদিকতার যে চাহিদা তা বাংলাদেশে রয়েই যাচ্ছে। বাংলাদেশের সমাজে-রাজনীতি-অর্থনীতি-সংস্কৃতিতে চাহিদাগুলো থেকে যাচ্ছে।"

 

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক শামীম রেজা

"আর পুরনো গণমাধ্যমগুলোও এই সুযোগ গ্রহণ করছে। তারা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছে, অনলাইনভিত্তিক মাধ্যম ব্যবহার হচ্ছে।

ভবিষ্যত যেহেতু ওদিকে যাচ্ছে এবং চাহিদা যেহেতু ওইদিকে বাড়ছে, ব্যবহারকারী যারা তারা যখন ক্রমশ সামাজিক মাধ্যমের দিকে ঝুঁকছে এবং ওই মাধ্যমেই তারা খবর পড়তে চাইছেন- সুতরাং ক্ষতিগ্রস্ত হবার কোনও কারণ দেখি না"- বলছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক শামীম রেজা।

তিনি মনে করেন এই মাধ্যমে শেয়ারিং বা বিনিময়ের যে বিষয় রয়েছে সেটা অন্য মাধ্যমে সম্ভব নয়।

"এর একটা শিথিল সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে। এক কথায় এই মাধ্যম অনেক বেশি অংশগ্রহণমূলক। অ্যাক্টিভিজমের জন্য অনেক বেশি সহজ এবং ওই অর্থে অনেক বেশি গণতান্ত্রিক"।

"একটি রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধান থেকে শুরু করে একজন সাধারণ মানুষ পর্যন্ত মত বিনিময়ের একটা অসাধারণ সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। মানুষ নিজের মতামত জানাতে পারছে। ব্যবহারকারী বা জনগণের জন্য সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।"

"যে মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কাঠামো বেশি পাওয়া যাবে সেটারই বেশি ভবিষ্যত থাকবে" বলে মনে করছেন অধ্যাপক শামীম রেজা।

-বিবিসি বাংলা

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ