ঢাকা, বুধবার 1 February 2017, ১৯ মাঘ ১৪২৩, ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভাজা রসুন কোয়ার মাহাত্ম্য

আমরা প্রায়ই বলে থাকি, রসুনের প্রচুর স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বহু মানুষই কাঁচা রসুন খান উচ্চ রক্তচাপ, হাই কোলেস্টেরলের সমস্যা কমাতে। এমনকি রসুন এতটাই উপকারী যে নিয়মিত খেলে করোনারি আর্টারি ডিজিজ, হার্ট অ্যাটাকসহ নানান রোগের ঝুঁকি কমে। কেননা এর ফলে রক্তবাহী ধমনিতে অতিরিক্ত প্লাক জমে রক্ত সঞ্চালনের পথে আর বাধা থাকে না। ফলে হার্টের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কাও প্রায় থাকেই না এবং জানলে অবাক হবেন, রসুন অ্যাঞ্জিওটেনসিন টু নামক একটি হরমোনের নিঃসরণে বাধা দেয় এবং এর ফলে হার্টের রক্তবাহী ধমনিগুলো রিল্যাক্স হয়, ফলে রক্ত চলাচলের পথও প্রশস্ত হয়। ফলে অ্যাথেরাস্কেলরোসিসের মতো জটিল হৃদরোগের সম্ভাবনাও কমে। অবশ্য সবচেয়ে ভালো ফল পেতে পুষ্টিবিদরা একসঙ্গে রসুনের গোটাছয়েক ভাজা কোয়া খেতে বলেন। রসুনের এত উপকারীতা, যে সে জন্য গবেষক এবং পুষ্টিবিদরা একে ‘পাওয়ারফুল ফুড’ হিসাবে অভিহিত করেন। এব্যাপারে আসা যাক ভাজা রসুন কোয়া প্রসঙ্গে-
১ম ঘণ্টায় : ভাজা কোয়াগুলো খাওয়ার প্রথম ঘণ্টায় রসুন অন্ত্রে গিয়ে হজম হয়ে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খাদ্য হয়ে ওঠে।
২-৪ ঘণ্টায় : পরবর্তী দুই থেকে চার ঘন্টার মধ্যে এই রসুনগুলো শরীরের ফ্রি র‌্যাডিক্যালসের বিরুদ্ধে লড়ে, ফলে যাবতীয় দূষিত পদার্থ (টক্সিন) আস্তে আস্তে শরীর থেকে বেরিয়ে যায় এবং ক্যান্সার কোষের বাড়বাড়ন্ত যেমন আটকায়, তেমনি আগের ক্যান্সার কোষ থাকলে সেগুলোকেও ধ্বংস করে দেয়।
৪-৬ ঘণ্টায় : আস্তে আস্তে শরীরের পরিপাকক্রিয়া শুরু হয় এবং শরীরের অতিরিক্ত ফ্লুয়িড এবং সঞ্চিত মেদকে বার্ন করে দেয় এই ছোট্ট কয়েকটি ভাজা রসুন কোয়া। তাহলেই ভাবুন রসুনের কী মাহাত্ম্য।
৬-৭ ঘণ্টায় : রসুনে থাকে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। রক্ততে রসুন কোয়াগুলো যখন বিপাক ক্রিয়ার ফলে আস্তে আস্তে মিশে যায়, তখনই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে থাকে।
৬-১০ ঘণ্টায় : এই সময় রসুন কোষের উপর নানাভাবে কাজ করে ও অক্সিডেশনের বিরুদ্ধে শরীরকে প্রতিরোধ করে।
১০-২৪ ঘণ্টায় : পরিপাকের পর রসুন আপনার শরীরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় ব্যস্ত থাকে, মানে রক্ত থেকে যাবতীয় দূষিত কিছু বের করে দিয়ে অঙ্গ-প্রত্যক্ষকে রাখে সুরক্ষিত। কী রকম? শরীরের খারাপ কোলেস্টরল এলডিএলের মাত্রা কমিয়ে রক্তকে রাখে শুদ্ধ। রক্তবাহী ধমনিতে অতিরিক্ত মেদ জমতে দেয় না, ধমনি পরিষ্কার থাকার ফলে হার্টের রোগও চট করে শরীরকে কাবু করতে পারে না।
অন্যান্য উপকরিতা :
* রসুন আমাদের শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে।
* রসুন খুব ভারী কোনও ধাতব পদার্থকে খাদ্য বা পানীয়ের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করার হাত থেকে আটকায়।
* হাড়ের স্বাস্থ্য মজবুত করে।
* নানাবিধ পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ার জন্য সহজেই ক্লান্তি দূর করে। কোষের সার্বিক স্বাস্থ্য ও আয়ু রক্ষা করে। * নিয়মিত ছুটি করে ভাজা রসুন কোয়া খেলে অ্যাথলেটিকদের পারফরম্যান্স উন্নত হয়।
* যারা দ্রুত ওজন কমাতে চান, তাদেরও পুষ্টিবিদরা রসুন খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
* রক্তচাপ কমিয়ে তা স্বাভাবিক মাত্রাতে রাখতেও ভাজা রসুন কোয়া গুরুত্বপূর্ণ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ