ঢাকা, মঙ্গলবার 25 September 2018, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বইমেলা শুরু, সাহিত্য পুরষ্কারের তালিকায় নেই নাটক ও বিজ্ঞান

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গনে 'বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার' সবচেয়ে সম্মানজনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৬০ সাল থেকে এ পুরষ্কার দিয়ে আসছে বাংলা একাডেমি।

কবিতা, কথা সাহিত্য, অনুবাদ ও গবেষণাসহ ২০১৬ সালে সাতটি ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেয়া হয়।

কিন্তু নাটক এবং বিজ্ঞান বিষয়ক লেখালেখির ক্ষেত্রে কাউকে পুরষ্কার দেয়া হয়নি। বাংলা একাডেমি বলছে এ দু'টি ক্ষেত্রে পুরষ্কার দেবার জন্য যথেষ্ট মানসম্মত লেখা পাওয়া যায়নি।

গত ১০ বছর ধরেই বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরষ্কারে নাটকের ক্ষেত্রে পুরষ্কার প্রদানের বিষয়টি অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। যদিও ২০১৫ সালে একজনকে সে ক্যাটাগরিতে পুরষ্কার দেয়া হয়েছে।

নাটকের ক্ষেত্রে কোন পুরষ্কার না দেয়ায় এ নিয়ে স্বভাবতই হতাশ এবং ক্ষুব্ধ নাট্যজগতের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

কিন্তু নাটকের ক্ষেত্রে পুরষ্কার পাওয়ার মতো কাজ না থাকার যে যুক্তি দেখানো হচ্ছে সেটি কতটা গ্রহণযোগ্য?

বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত নাট্য ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশিদ মনে করেন নাটকের প্রতি অবহেলার কারণেই বাংলা একাডেমির পুরষ্কারে নাটক বিষয়টি অনিয়মিত হয়ে পড়েছে।

মামুনুর রশিদ বলেন, "নাটকের ক্ষেত্রে পুরষ্কার দেবার মতো লোক পাওয়া যাবেনা এটা কোন কথা হলো? তারা (বাংলা একাডেমি) যে বলছে মানসম্মত পাওয়া যায়নি সেটা নিয়ে আমি চ্যালেঞ্জ করবো।"

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বজিত ঘোষ মনে করেন, নাটকের ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার মতো কাজ এবং ব্যক্তি দু'টোই আছে।

তবে অধ্যাপক বিশ্বজিত ঘোষ ২০১১ সালে গবেষণা ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি পুরষ্কার পেয়েছেন। তার লেখা এবং সম্পাদিত বইয়ের বইয়ের সংখ্যা ৫০টির বেশি।

অধ্যাপক ঘোষ মনে করেন, বাংলা একাডেমি যে পুরষ্কার দেয় সেখানে মানদণ্ড হিসেবে নাটক লেখা এবং নাটকের বইকে হয়তো প্রাধান্য দেয়া হতে পারে। কিন্তু শুধু লিখিত বইকে মূল্যায়ন না করে নাটক মঞ্চায়নের বিষয়টিকে যদি বিবেচনায় নেয়া হয় তাহলে পুরষ্কার পাবার মতো 'যথেষ্ঠ যোগ্য ব্যক্তি' বাংলাদেশে আছে বলে তিনি মনে করেন।

অধ্যাপক ঘোষ বলছেন, নাটকের ক্ষেত্রে দু'টি দিক আছে। একটি হচ্ছে নাটক মঞ্চস্থ করা এবং অন্যটি হচ্ছে নাটকের বই লেখা।

তিনি মনে করেন পুরষ্কার দেবার ক্ষেত্রে এ দু'টো বিষয়কে একসাথে মূল্যায়ন করা উচিত।

অধ্যাপক ঘোষ বলেন, " যারা নাটক লেখেন, তাদের কাছে নাটক প্রকাশের চাইতে নাটক মঞ্চায়নের দিকে মনোযোগ থাকে বেশি। এটাই হওয়া উচিত।"

কিন্তু বিচারকমন্ডলী হয়তো ভাবতে পারেন যারা পুরষ্কার পাবার জন্য মনোনীত হয়েছেন তাদের হয়তো যথেষ্ঠ প্রকাশনা নেই, বলছিলেন অধ্যাপক ঘোষ।

বাংলাদেশে নাটকের বই প্রকাশ বেশ সীমিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলা একাডেমি বলছে, কয়েকটি ধাপে পুরষ্কারের জন্য ব্যক্তিদের বাছাই করা হয়।

কর্মকর্তারা বলছেন, বিচারক হিসেবে যাদের রাখা হয় তাদের নাম প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়না।

বাংলা একাডেমির পরিচালক শাহিদা খাতুন বিবিসিকে বলেন, "পুরষ্কারের জন্য নাম বাছাই করতে বাংলা একাডেমি ফেলোদের নিয়ে তিন কমিটি কাজ করে । পুরষ্কারের জন্য নামগুলো সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র থেকে আসতে হয়। না আসলে আমাদের কিছু করার থাকেনা"।-বিবিসি বাংলা

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ