ঢাকা, শুক্রবার 3 February 2017, ২১ মাঘ ১৪২৩, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নজরুল একাডেমিতে কথাশিল্পী নজিবর রহমানের ১৫৮তম জন্মবার্ষিকী

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল ছিলেন অমর কথাশিল্পী মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরতœ। উপন্যাস জগতে বাঙালি মুসলমানকে তিনি পথ দেখিয়েছেন। তাঁর রচিত ‘আনোয়ারা’ উপন্যাস একসময় শিক্ষিত প্রত্যেক বাঙালি মুসলিম পরিবারে সংগৃহীত ও ব্যাপকভাবে পঠিত হতো। সেকালে তিনি ছিলেন সর্বাধিক জনপ্রিয় মুসলিম ঔপন্যাসিক। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ও শিক্ষা-সাহিত্য ও সমাজ উন্নয়নে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। ৩১শে জানুয়ারী, মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারের নজর“ল একাডেমিতে কথাশিল্পী নজিবর রহমানের ১৫৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন একাডেমি’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।
একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দৈনিক নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির সহ-সভাপতি মুহম্মদ আব্দুল হান্নান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন এডভোকেট ফাইজুল কবির, কথাশিল্পী মাহবুবুল হক, ইতিহাসবিদ মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম, একাডেমির সাধারণ সম্পাদক ও নজিবর রহমানের নাতি এডভোকেট গোলাম হাসনায়েন, রওশন আলী, ইমদাদুল হক চৌধুরী, মানসুর মোজাম্মেল, ফাহিম ফয়সাল, ওয়াহিদ আল হাসান প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সোহরাব আসাদ।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আলমগীর মহিউদ্দিন বলেন, নজিবর রহমান উপন্যাস জগতে মুসলমানদের পথ দেখিয়েছেন। সে সময়ের প্রেক্ষাপটে তিনি ছিলেন একটি প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। ব্রিটিশরা যখন ভারত দখল করেছিল, তখন তাদের পরিকল্পনা ছিল মগজ ধোলাই করে পরাধীন জাতিকে অনুগত দাসে পরিণত করে রাখা। এজন্য তারা তিন ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছিল। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, সে শিক্ষাব্যবস্থা এখনো চলছে। তিনি বলেন, মুসলমানদের কাছে বারবার চ্যালেঞ্জ আসছে। সে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য কেউ না কেউ জেগে উঠছে। বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের জন্য এখন যে চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে, তা মোকাবেলার জন্য আমাদেরকে জেগে উঠতে হবে। দেশের মানুষ এখন সত্যটাও বলতে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে থাকেন। তবে আমাদের সবার কাছে সত্য পৌঁছে দিতে হবে।
সভাপতির ভাষণে মুহম্মদ মতিউর রহমান বলেন, নজিবর রহমান বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারা সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর সাহিত্যে বাঙালি মুসলিম সমাজ-চিত্র, মুসলমানদের জীবন ও সংস্কৃতির পরিচয় ফুটে উঠেছে। তিনি ছিলেন মুসলিম নবজাগরণের অন্যতম পথপ্রদর্শক।
জীবনধর্মী এ শক্তিমান কথাসাহিত্যিক একসময় জনপ্রিয়তার শীর্ষে স্থান করে নিয়েছিলেন। বক্তারা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে নজিবর রহমানের সাহিত্যকে পাঠ্যতালিকাভুক্ত করার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নামে আবাসিক হল নির্মাণ ও তাঁর বসতবাটি হাটিকুমরুলে ‘নজিবর রহমান ভবন’ নির্মাণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বক্তারা উল্লেখ করেন, এতদিন পর্যন্ত নজিবর রহমান সম্পর্কে বিস্তারিত জানার তেমন কোনো সুযোগ ছিলনা এবং তাঁর গ্রন্থাদিও ছিল দু®প্রাপ্য। কিন্ত সম্প্রতি মুহম্মদ মতিউর রহমান নজিবর রহমানের জীবন ও সাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থ ও তাঁর রচনাবলী দুই খন্ডে প্রকাশ করায় এ অভাব অনেকটাই দূর হয়েছে। বক্তারা নজিবর রহমানের সাহিত্য চর্চা ও গবেষণার জন্য গবেষক ও নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান।
-এডভোকেট গোলাম হাসনায়েন

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ