ঢাকা, শুক্রবার 3 February 2017, ২১ মাঘ ১৪২৩, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গফরগাঁওয়ে মাসকলাইয়ের বাম্পার ফলন

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা ঃ ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এখন চলছে মাসকলাই মাড়াইয়ের ধূম। এবার উপজেলায় ৪৮০ হেক্টর জমিতে মাসকলাই (ডাল) চাষ হয়েছে। এছাড়াও ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে জেগে উঠা চরের দিগন্ত জুড়ে যতদূর চোখ যায় শুধু মাসকলাই ক্ষেতের সবুজের সমারোহ। মাসকলাইয়ের বাম্পার ফলন হওয়ায় চলতি মৌসুমে  ৫ শতাধিক কৃষকের ভাগ্যে বদলে গেছে। চরআলগী ইউনিয়নের বালুয়া কান্দা গ্রামের কৃষক সৈকত মিয়া জানান, ধান চাষের উপর নির্ভরশীল চরাঞ্চলে কৃষকরা ব্রহ্মপুত্রের বুকে জেগে উঠা চরে মাসকলাই  চাষ শতাধিক কৃষকের জীবনে এবার এনে দিবে নতুন গতি। ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে এবার মাসকলাইয়ের বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষীরা।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদের চর ছাড়াও উপজেলার টাঙ্গাব, দত্তের বাজার ও পাঁচবাগ ইউনিয়নে প্রচুর মাসকলাই চাষ হয়েছে। এ তিনটি ইউনিয়নের অন্তত ৫ শতাধিক কৃষক ফলন ভাল হওয়ায় আশাতীত লাভবান হবেন।
চরআলগী ইউনিয়নের বালুয়া কন্দা গ্রামের কৃষক আঃ জলিল জানান, ব্রহ্মপত্র নদে জেগে উঠা চরে এবার সে ৪ এরক জমি অন্যের কাছ থেকে বর্গা নিয়ে মাসকলাই চাষ করেছে। ৪ একর জমিতে মাসকলাই চাষ করতে জলিলের ১৪’শ টাকার বীজ লেগেছে। বাম্পার ফলন হওয়ায় প্রতি একরে কম করে হলেও ৩০ থেকে ৩১ মন মাসকলাই উৎপাদন আশা করছেন তিনি। মাসকলাই চাষে সার ও কীটনাশকের প্রয়োজন পড়েনা। ফলে উৎপাদন খরচ ব্যতিত মাসকলাই বিক্রির সম্পুর্ন টাকাই লাভ হয়। একই গ্রামের কৃষক আব্দুল হান্নান ব্রহ্মপুত্রের বুকে জেগে উঠা চরে ৩ একর ও সূরুজ মিয়া ৪ একর জমিতে মাসকলাই চাষ করেছেন। তারা জানান, জমিতে মাসকলাই অত্যন্ত ভাল হওয়ায় আশা করছি প্রতি একরে ৩০-৩২ মন করে উৎপাদিত হবে। প্রতি একরে উৎপাদিত মাসকলাই বাজার ভাল থাকলে ৯০ থেকে ৯২ হাজার টাকা বিক্রি হবে। শ্রমিকের পারিশ্রমিক ও উৎপাদণ খরচ ব্যতিত যার প্রায় পুরোটাই লাভ। তবে প্রয়োগ সম্পর্কে না জানা, চাষ পদ্ধতির উপর প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণের অভাব, রবি শস্যে সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায়, ভাল বিপণন ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় কৃষকদের উৎপাদিত রবি শস্য বেঁচে প্রত্যাশা অনুযায়ী লাভ করতে পারছেনা এ অঞ্চলের কৃষকরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ