ঢাকা, শুক্রবার 3 February 2017, ২১ মাঘ ১৪২৩, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অতিরিক্ত চার্জের কারণে ঘোড়াঘাটে সেচ দিতে পারছে না কৃষক

দিনাজপুর অফিস: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে লালমাটি এলাকায় একশ বিঘা জমিতে এখনও সেচ দিতে পারেনি স্থানীয় কৃষকরা। গভীর নলকূপের অপারেটররা কৃষকের কাছ থেকে অবৈধভাবে আগাম এবং সেচ কমিটির নির্ধারিত মূল্যের চাইতে অতিরিক্ত সেচ চার্জ আদায় করায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে কৃষকরা অভিযোগ করেছেন।
ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ এখলাস হোসেন সরকার জানান, এ বছর ৯ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলায় মোট গভীর নলকূপ রয়েছে ২৩২টি। এর মধ্যে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পরিচালিত ৬৩টি, বিএডিসি’র ১০টি এবং বাকী ১৫৯টি ব্যক্তিমালিকানাধীন। ঘোড়াঘাট উপজেলা সেচ কমিটি গত ৩ জানুয়ারি এক সভায় এ বছর বিদ্যুৎ ও ডিজেল চালিত গভীর নলকূপের ক্ষেত্রে একর প্রতি উচু জমি ৪ হাজার টাকা এবং নিচু জমি ৩ হাজার ৫০০ টাকা সেচ খরচ নির্ধারণ করে। উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের মধ্যে বুলাকিপুর ও ঘোড়াঘাট ইউনিয়নকে উচু এবং সিংড়া ও পালশা ইউনিয়নকে নিচু এলাকা হিসেবে চিহ্নত করা হয়। সেচ কমিটির নির্ধারিত মূল্যে সেচ চার্জ আদায় করতে গভীর নলকূপ মালিকদের জানানোসহ কৃষকদের অবগত করতে এলাকায় মাইকিং করা হয়। কিন্তু বরেন্দ্র ও বিএডিসি অপারেটর এবং ব্যক্তিগত মালিকানায় পরিচালিত সবরকম জমিতেই একর প্রতি ৬ হাজার টাকা করে আদায় করছে। সেই সাথে বিঘা প্রতি ৫০০ এবং একর প্রতি ১ হাজার টাকা অগ্রিম না দিলে সেচ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে না বলে ভুক্তভোগী কৃষকরা অভিযোগ করেছেন। লালমাটি পূর্বপাড়া এলাকার কৃষক সোলায়মান, আব্দুল জলিল, মাহাতাব ও হাফিজুরসহ প্রায় ১৫/২০ জন কৃষক অভিযোগ করেন, ওই গ্রামের বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের পরিচালিত গভীর নলকূপের অপারেটর জব্বার মিয়া বিঘা প্রতি ২ হাজার টাকা অতিরিক্ত দাবি করেন। সেচ কমিটি নির্ধারিত টাকাই তাকে দিতে চাইলে জব্বার সে টাকায় সেচ না দিয়ে পানি দেয়া বন্ধ রেখেছেন। ফলে শুধু ওই গ্রামেই প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে সেচ দেয়া হয়নি। একইভাবে রঘুনাথপুর এলাকার কৃষকরাও জানান, তাদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বরেন্দ্রর অপারেটর জব্বার মিয়া অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “সবাই নেছে হারাও নেছি”।
এ বিষয়ে সেচ কমিটির সভাপতি ও ঘোড়াঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম চৌধুরী জানান, মতামতের ভিত্তিতেই চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে। কেউ বেশী অর্থ আদায় করলে তার বিরুদ্ধে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ