ঢাকা, শুক্রবার 3 February 2017, ২১ মাঘ ১৪২৩, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রে আলু পচে যাওয়ার উপক্রম

নীলফামারী সংবাদদাতা : দেবীগঞ্জ প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতার কারণে যথাসময়ে ১৪০ টন আলু বীজ বিক্রি হয় নি। ৫৮ টাকা প্রতিকেজি মূল্যের আলু বীজ অবশেষে ১ টাকা ১০ পয়সা কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছে। এতে সরকারের প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে পরিচালক পরিকল্পনা (বিএনআর) জয়দেবপুর গাজীপুর এর সোহেব হাসানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত টিম তদন্ত করছে। প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, কার্ডিনাল জাতের আলু বীজ ৫৮ টাকা কেজি দরে বিক্রয়ের স্বাভাবিক দর  ছিল। এ দামে আলু বীজ বিক্রয় না হলে গত বছরের ৫ ডিসেম্বরে ৪০ টাকা দর নির্ধারণ করা হয়। এ দামেও বীজগুলো বিক্রয় না হওয়ায় ১৩ ডিসেম্বরে ২৫ টাকা নতুন দর নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বিক্রয় কমিটির সভাপতি প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশিষ কুমার সাহা রেজুলেশনে স্বাক্ষর না করায় সর্বশেষ দর ২৫ টাকা দরেও আলু বীজগুলো বিক্রয় করা সম্ভব হয় নাই। এক পর্যায়ে সাইফুল ইসলাম নামের এক আলু চাষী ১৪ টাকা কেজি দরে প্রজনন কেন্দ্রে রক্ষিত ১৪০ টন আলু বীজ ক্রয়ে রাজী হয়। এজন্য গত ১৫ ডিসেম্বর উক্ত কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশিষ কুমার সাহা বিক্রয় শীটে স্বাক্ষর না করায় আলু বীজ বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। ১৪ টাকা কেজি দরে বিক্রির ব্যাপারে পরিচালক ও মহা-পরিচালকের অনুমতি থাকলেও পিএসও আশিষ কুমার সাহা তার দায়িত্বহীনতা ও ব্যক্তিস্বার্থের কারণে স্বাক্ষর করেনি বলে অভিযোগে প্রকাশ। এমনকি ক্রেতাকে তিনি তার ভাড়াটিয়া বাহিনী দিয়ে হুমকি ধমকি দিয়েছেন যাতে সে সরকারী বীজ ক্রয় না করে। এ সুযোগে তার ব্যক্তিগত ও শশুরের উৎপাদিত ২০০ টন বীজ আলু বিক্রি করেন। দেবীগঞ্জ প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্র এলাকার কৃষক ইবরাহীম হোসেন (৪৩) ও সিরাজুল (৩৮) সহ অনেকে  জানান, আমরা প্রতি বছর এখান হতে আলু বীজ ক্রয় করে আলু চাষ করি। এবারে বীজ ক্রয়ের আবেদন করলে আমাদের জানানো হয় যে, বিক্রয়ের জন্য কোন বীজ নেই। সব বীজ শেষ হয়ে গেছে। তখন আমরা বিভিন্ন দোকান থেকে নি¤œমানের আলুর বীজ ক্রয় করি। আবার অনেকে বীজের অভাবে অন্য ফসল চাষ করে। তারা আরো জানায়, এখন এই কেন্দ্রের চারিদিকে শুধুই পঁচা আলুর গন্ধ। এখন শুনছি পঁচা আলুর বীজগুলো নাকি এক টাকায় গরুর খাবারের জন্য বিক্রি করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ