ঢাকা, শুক্রবার 3 February 2017, ২১ মাঘ ১৪২৩, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ডায়রিয়ায় ৩ শতাধিক আক্রান্ত লালমনিরহাটে আবারো শৈত্য প্রবাহ

লালমনিরহাট সংবাদদাতা : “মাঘের জারে বাঘ কান্দে” উত্তরাঞ্চলের এ প্রবাদটি আসলেই সত্য! মাঘ মাস প্রায় শেষের দিকে তবুও মেঘলা আকাশ ছাড়ে না। সোমবার রাত থেকেই লালমনিরহাটে আবারো শৈত্য প্রবাহ শুরু হয়েছে। ছিন্ন মূল মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। বিশেষ করে শ্রমজীবীসহ তিস্তা-ধরলা পারের মানুষ পড়েছে চরম দুর্ভোগে। প্রচ- শৈত্য প্রবাহের কারণে বাড়ি থেকে বের হতে না পারায় হাজার হাজার ক্ষেতমজুর পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছে। হাট-বাজার,  রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা জেলার মানুষ। এদিকে, শৈত্যপ্রবাহ কমলেও গত কাল রাত থেকে আবারো বেড়েছে, আর এতে করে থরথরে কাঁপছে এ জেলার মানুষজন। বিশেষ করে শিশুসহ বয়স্কদের দুরাবস্থা চোখে পড়ার মতো। আরো আছে গরীব-দুঃস্থ মানুষজন। তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীর চর এলাকায় দেখা যায়, আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করার চেষ্টা করছে অসহায় ও ছিন্নমূল পরিবারগুলো। শীতবস্ত্রের অভাবে বিপাকে পড়েছেন এসব মানুষ। আরও বেশি বিপাকে পড়েছে সহায় সম্বলহীন হতদরিদ্র পরিবারগুলো। পুরনো গরম কাপড়ের দোকানে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও দাম অনেকটাই বেশী। আবার পেট বাচনোর তাগিদে দিনমজুরেরা এ প্রচন্ড শীতেও বেড়িয়ে পড়েছে উপার্জনের সন্ধানে। এ রিপোট লেখা পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল লালমনিরহাট জেলা। এ দিকে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শীতার্থদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করা হলেও যা চাহিদার তুলনায় অনেকটাই কম বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। অপরদিকে লালমনিরহাটে গত ৭ দিনে ৩ শতাধিক লোক ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি। এর মধ্যে ১৮৯ জন ৫ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে প্রায় ৩ শতাধিক। লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ আজমল হক জানান, সদর হাসপাতালে সোমবার ১৮ জন ও মঙ্গলবার ১৭ জন ডায়ারিয়া রোগী ভর্তি হয়েছে। অনেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রতিদিনেই এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে চিকিৎসক সংকট থাকার কারণে রোগীদের চাপ সামলাতে অনেক হিমশিম খেতে হচ্ছে। লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডাঃ আহসানুল হক বাবু জানান, ডায়ারিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই আছে। এ সময় বৈরী আবহাওয়ার কারণে একটু ডায়ারিয়া দেখা দেয়। আমরা স্বাস্থ্য মাঠ কর্মীদের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে নিয়মিত পরিদর্শন করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ