ঢাকা, শুক্রবার 3 February 2017, ২১ মাঘ ১৪২৩, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আমেরিকান মুসলিমরাও স্বদেশে ফিরতে ব্যাপক হয়রানির শিকার

২ ফেব্রুয়ারি আনাদোলু/নিউজ এবিসি :  নিজ দেশে ফিরে আসার পথে আমেরিকান মুসলিমরা মার্কিন কাস্টমস ও সীমান্ত নিরাপত্তাকর্মীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পরতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটির মুসলিম নেতারা। 

আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিলের ফ্লোরিডা ব্যুরো প্রধান হাসান শিবলী আনাদুলো সংস্থাকে এ তথ্য জানান।

হাসান শিবলী বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে সেখানে আমেরিকান মুসলমানদের ধর্ম চর্চা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ ও আটক রাখা প্রথায় পরিণত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তবে, গত দুই সপ্তাহে আমেরিকান মুসলিমদের ওপর হয়রানি আগের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।মার্কিন মুসলিম নাগরিক যারা বিদেশ থেকে দেশ ফিরছেন তাদের ব্যাপক তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ সাক্ষর করেন। এতে ৯০ দিনের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।

এছাড়াও, সিরীয় শরণার্থী ও অভিবাসীদের দেশটিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। এর পর থেকেই দেশটিতে মুসলিমদের ওপর দুর্যোগ নেমে আসে। 

এই সিদ্ধান্তে ট্রাম্প প্রশাসন প্রবল বিরোধিতার সম্মুখীন হচ্ছে। দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার সাংবিধানিক ব্যাখ্যা চেয়ে দেশটিতে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।

হাসান শিবলী জানান, কাস্টমস ও সীমান্ত নিরাপত্তাকর্মীরা মুসলিম আমেরিকানদের ‘চরম অসঙ্গত’ ও ‘ইঙ্গিতপূর্ণ’ ভঙ্গিতে জিজ্ঞাসা করে থাকেন। ‘আপনি কি ধর্মপ্রাণ মুসলিম?’, ‘আপনি দিনে কত ওয়াক্ত নামাজ পড়েন?’, আপনি কোন ধরনের চিন্তাধারা অনুসরণ করেন?’, ‘কোন ধর্মীয় নেতাকে আপনি অনুসরণ করেন?’ ইত্যাদি।

শিবলী আরো জানান, তারপর কাস্টমস ও সীমান্ত নিরাপত্তা কর্মীরা জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া এসব তথ্য এফবিআইয়ের সঙ্গে শেয়ার করেন।  

এ সপ্তাহের গোড়ার দিকে শিবলী মুসলিম আমেরিকানদের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। বার্তায় তিনি তাদের অধিকার ভঙ্গের প্রতিরোধ হিসেবে এ ধরনের কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানাতে তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

তার সংগঠন এর সঙ্গে সম্পর্কিত ১০টি আইনি অভিযোগ দায়ের করেছে এবং দেশব্যাপী আইনি চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি জানান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুসলিম নিষেধাজ্ঞার তোলপাড়ের মধ্যে আটলান্টার কফি শপে শেতাঙ্গ এক আমেরিকান আসমা ইলহুনি নামের মুসলিম এক নারীকে হয়রানি ও লাঞ্ছিত করেন।

আসমা আমেরিকান নাগরিক। তিনি জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের স্নাতকের ছাত্রী এবং যুক্তরাষ্ট্রে মেক্সিকোর ডেমোক্রেট দলের প্রতিনিধি ব্রেনডা লোপেজের শিক্ষানবিশ।

ক্যাফেতে ওই ব্যক্তি ছবি তুলতে গেলে আসমা তার প্রতিবাদ করেন। এ সময় শেতাঙ্গ ওই ব্যক্তি অকথ্য ভাষায় গালি দিয়ে চিৎকার করে ওঠেন, ‘তোমার গ্রীণ কার্ড আছে?’

এ ঘটনায় ৩৯ বছর বয়সী আসমা ইলহুনি রব কোহেলার নামে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।

আসমা বলেন, জোস কফি শপে গিয়ে নিজের ল্যাপটপে বসে কাজ করছিলাম। এ সময় ওই ব্যক্তি এসে কোনো কিছু না বলেই মোবাইলে আমার ছবি তোলা শুরু করেন।

তিনি জানান, মাথার মধ্যে ব্যবসায়িক বিষয় ঘোরাফেরা করায় প্রথমে আমি তা এড়িয়ে যায়। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আসমা বলেন, ‘আমি লোকটিকে জিজ্ঞাসা করি, তুমি কি আমার ছবি তুলেছো? চলে যাওয়ার ভঙ্গিতে তোমাকে ভালো লেগেছে, তাই ১১টি ছবি তুলেছি বলেই হাসতে থাকেন তিনি। আমি তার কাছ থেকে আমাকে করা ভিডিও টেপ চাই। এরপরই তিনি চটে যান। আমাকে বলতে থাকেন, তুমি কি শেতাঙ্গ?’

 ‘এরপর লোকটি আমার পাশে জোর করে বসার চেষ্টা করে এবং এক পর্যায়ে চিৎকার করে বলে ওঠে, তোমার কি গ্রিন কার্ড আছে? এ সময় রব কোহেলার আমাকে কয়েকবার ধাক্কাও দেন’, বলেন আসমা ইলহুনি।

অবশ্য এ ঘটনা টের পেয়ে কফিশপের বেশ কয়েকজন কর্মী এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। পরে চা খেয়ে সেখানে থেকে বিদায় হন আসমা।

পরে আসমা এ ঘটনার ভিডিও নিজের ফেসবুকে আপলোড করলে তা ভাইরাল হয়। ৯০ হাজারের উপরে তা ভিউ হয়েছে।

অবশ্য এ ঘটনায় কফিশপ কর্তৃপক্ষ দুঃখপ্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। তারা বলেছে, গ্রাহকদের প্রতি আমাদের আরো যতœবান হওয়া উচিত ছিল।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকে দেশটিতে মুসলিমরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ