ঢাকা, শুক্রবার 3 February 2017, ২১ মাঘ ১৪২৩, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিধানসভার অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি

২ ফেব্রুয়ারি, পার্স টুডে : ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের তুমুল হট্টগোল ও হাতাহাতির জেরে বিধানসভা এবং বিধান পরিষদের কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি করা হয়েছে।

গত বুধবার বিরোধী দলের সদস্যরা হাউসে চেয়ার, টেবিল ও মাইক ছুঁড়ে ফেলে ভাঙচুর করেন এবং কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় তিন বিধায়ক ও এক ‘মার্শাল’ আহত হয়েছেন। আহত বিধায়করা হলেন ন্যাশনাল কনফারেন্সের আলতাফ আহমদ ওয়ানি কালু, কংগ্রেসের এমএলসি যুগল কিশোর এবং ন্যাশনাল কনফারেন্সের সাজ্জাদ কিচলু। আহত মার্শালের নাম সাজিদ আহমেদ।  

ক্ষুব্ধ জনপ্রতিনিধিরা রাজ্য সরকার, বিজেপি এবং আরএসএস বিরোধী স্লোগান দেন। পরিস্থিতি খারাপ হতে দেখে বিধানসভার স্পিকার কবিন্দ্র গুপ্তা এবং বিধান পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী এনায়েত আলী হাউসের কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি ঘোষণা করতে বাধ্য হন। ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিধানসভা অধিবেশন চলার কথা ছিল।

জম্মু-কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী মেহেবুবা মুফতি সম্প্রতি মন্তব্য করেন যে, কারো পক্ষ থেকে রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা ৩৭০ ধারা রদ করার চেষ্টা বড় জাতীয়তাবিরোধী কাজ হবে।

বুধবার বিধানসভার কাজ শুরু হতেই ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ স্পিকারের কাছে জানতে চান মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্যকে কী বিধানসভার রেকর্ড থেকে বাদ দেয়া হয়েছে? তিনি এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্টীকরণ দাবি করেন।

ওমর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী কবে এ নিয়ে বিবৃতি দেবেন?  মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি অবশ্য এদিন সভায় উপস্থিত ছিলেন না।

স্পিকার কবিন্দ্র গুপ্তা ওই বিষয়ে বলা শুরু করতেই বিরোধী সদস্যরা ওয়েলে নেমে তুমুল বিক্ষোভ দেখান। কংগ্রেস এমএলসি যুগল কিশোর শর্মা বলেন, ‘যারা ৩৭০ ধারা তুলে দিতে চায় তাদেরকে জাতীয়তাবিরোধী বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর অর্থ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিও জাতীয়তাবিরোধী এবং তার অনুসারী বিজেপিও জাতীয়তাবিরোধী।’

তিনি বলেন, বিধান পরিষদে গণতন্ত্রের সঙ্গে উপহাস করা হয়েছে। কংগ্রেস সদস্যরা কেবল এটাই দাবি করছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পরে বিজেপি তার অবস্থান স্পষ্ট করুক এবং এ নিয়ে আলোচনা হোক। কিন্তু ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে আলোচনার দাবি নাকচ করে দেয়া হয়। চেয়ারম্যানও তাতে সায় দেন। এরপরেই সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ