ঢাকা, শুক্রবার 3 February 2017, ২১ মাঘ ১৪২৩, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নিজস্ব কয়লায় জ্বালানি চাহিদা পূরণে বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার : বাপেক্সকে শক্তিশালীকরণ এবং কয়লানীতি সংস্কারের মাধ্যমে নিজস্ব কয়লা দিয়ে জ্বালানি চাহিদা পূরণে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাজট্রিজ (ডিসিসিআই)।

২০১৭ সালে ডিসিসিআইয়ের কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সংস্থাটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ পরামর্শ দেন ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান। এ সাংবাদিক সম্মেলনে ঢাকা চেম্বারের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

আবুল কাসেম বলেন, আমাদের এখানে জ্বালানি চাহিদা প্রচুর। এ চাহিদা পূরণে আমদানি নির্ভরতা কমাতে নিজস্ব খনির সন্ধান এবং সেখান থেকে জ্বালানি দ্রব্য উত্তোলনে গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমানে যে পরিমাণে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে- তা মেটাতে নতুন কূপ খননই আমাদের প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিৎ। আর এ কাজের জন্য বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে হবে। প্রয়োজনে সংস্কার করতে হবে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, শুধু বাপেক্সকে শক্তিশালীকরণ এবং সংস্কার করে জ্বালানি চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে না। আমাদের কয়লানীতিরও সংস্কার করতে হবে। কয়লা আমদানি নির্ভরতা কমানোর দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। নিজস্ব কয়লা দিয়ে চাহিদ পূরণ করতে হবে।

তিনি বলেন, যেকোনো মূল্য আমাদের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে হবে। কীভাবে তা করা যায়- এর রূপরেখা তৈরি করতে হবে সরকারকেই।

আবুল কাসেম খান বলেন, আমাদের এখানে আশানুরূপ পর্যায়ে বিদেশী বিনিয়োগ হচ্ছে না। ভারত, পাকিস্তান, জাপান এবং ভিয়েতনামের তুলনায় বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ অনেক কম। এটি বাড়াতেও সরকারকে কার্যকরী উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অবকাঠামো, ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা, ১২টি পিপিপি প্রকল্প, ঘন ঘন পলিসি পরিবর্তন এবং ২৫ লাখ মানুষের চাকরির বাজারে সংযুক্তি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বর্তমানে যেখানে ৮৮ শতাংশ মানুষ যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য সড়ক পথ ব্যবহার করে, সেখানে মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ রেল এবং ৮ শতাংশ মানুষ নদী পথ ব্যবহার করে। নিরাপদ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে রেল ও নৌ যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।

এ ছাড়া সঠিক পরিকল্পনার অভাবে এবং মাত্রাতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপের কারণে ঢাকা শহরে মানুষ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছে না। তাই ঢাকাভিত্তিক প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ করতে অন্যান্য জেলা শহরেও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর জন্য পরামর্শ দেন তিনি।

একই সঙ্গে বিদ্যুৎখাতে ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কাজে বেসরকারি অংশগ্রহণ, দ্রত কয়লা উত্তোলন ও ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, পাবলিক-প্রাইভেট ডায়লগ ফোরামকে শক্তিশালীকরণ ও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে রিফরম কমিশন প্রতিষ্ঠা, রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিআরটি এবং এমআরটি দ্রত বাস্তবায়ন, ৮ লেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে দ্রত সম্পন্নকরণ, ডুয়িং বিজনেস ইনডেক্স এ বাংলাদেশের অবস্থান উন্নয়নেরও পরামর্শ দেয় ডিসিসিআই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ