ঢাকা, সোমবার 6 February 2017, ২৪ মাঘ ১৪২৩, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ট্রাম্পের আপিলও খারিজ

সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে আদালতে দেওয়া রুলের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করেছে দেশটির একটি আদালত। ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাহী আদেশে এ নিষেধাজ্ঞা জারির পর শুক্রবার সিয়াটলের একটি আদালত এ নিষেধাজ্ঞাকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করে তা স্থগিত করেছিল। এর স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।

শনিবার শেষ রাতের দিকে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে তা পুনর্বহালের আবেদন জানায়। আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের এ আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। খারিজের আদেশে আদালত জানিয়েছেন, চূড়ান্ত শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার ওপর স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রকে আরও যুক্তি-প্রমাণ হাজির করার জন্য সোমবার পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছেন। বিবিসি/বাংলা ট্রিবিউন/রয়টার্স

আপিলে দেশটির জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এছাড়া দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্পের এ নিষেধাজ্ঞা ধর্মীয় স্বাধীনতাকে খর্ব করেনি, এটাতে নির্দিষ্ট দেশকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট আপিলে উল্লেখ করেছে, প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের ক্ষমতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করার অধিকার নেই রাষ্ট্রের।

শুক্রবার ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতের রুলের পর সাতটি মুসলিমপ্রধান দেশের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন। ওই দিন রাতেই দেশটির জাস্টিস ডিপার্টমেন্টে জানিয়েছিল, ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে।

মুসলিমপ্রধান সাত দেশের নাগরিকদের প্রবেশ নিয়ে ট্রাম্পের আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, এ ধরনের আইনি রুলিংয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্র খারাপ ও বিপজ্জনক মানুষে ভরে যেতে পারে।

এর আগে মিস্টার ট্রাম্প টুইটারে জানিয়েছিলেন, তথাকথিত বিচারক আইনের প্রয়োগ স্থগিত করেছেন। ট্রাম্প আরও জানিয়েছিলেন, আদালতের এই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হবে। ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হবে।

এরপর শনিবার ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা জয়ী হবো। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই আমরা জয়ী হবো’।

যুক্তরাষ্ট্রমুখী অভিবাসন সীমিত করতে ২৭ জানুয়ারি এক নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। আদেশ অনুযায়ী, আগামী চার মাস যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ থাকবে। সিরীয়দের জন্য এই আদেশ পরবর্তী নির্দেশের আগ পর্যন্ত বহাল থাকবে। ৩ মাস বন্ধ থাকবে সাত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি। ট্রাম্পের নির্বাহী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্বৈত-নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়া (গ্রিন কার্ড হোল্ডার) ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও ওই আদেশ কার্যকর হবে।

লন্ডনে ব্যাপক বিক্ষোভ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে লন্ডনে প্রতিবাদে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। শনিবার বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট-এর সামনে গিয়ে জড়ো হন। গত শনিবার সন্ধ্যায় সেখানে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিতর্কিত যুক্তরাজ্য সফর বাতিল করার জন্য প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে-র কাছে দাবি জানিয়েছেন।

প্রতিবাদ মিছিলটি আয়োজন করা হয়েছে যৌথভাবে। আয়োজকদের মধ্যে রয়েছে স্টপ দ্য ওয়ার কোয়ালিশন, স্ট্যান্ড আপ গ র‌্যাসিজম এবং মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন অব ব্রিটেন। বিক্ষোভ মিছিলটি লন্ডনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সামনে থেকে শুরু হয়ে ডাউনিং স্ট্রিট আসে। মিছিলকারীদের হাতে প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিলো, ‘নো টু ট্রাম্প, নো টু ওয়ার’। এছাড়া ট্রাম্পের ছবিতে ক্যাপশন হিসেবে লেখা রয়েছে, ‘বিকারগ্রস্ত আমেরিকান’।

মিছিলের পূর্বে এক সংবাদ সম্মেলনে পূর্ব লন্ডন মসজিদের নির্বাহী পরিচালক দিলোওয়ার খান বলেন, আমরা সমতায় বিশ্বাস করি। আমি মনে করি যা (ট্রাম্প) করছেন তা আমাদের সমাজের পুরো কাঠামো ধ্বংস করে দিচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনের একটি ভিডিও বার্তা সমাবেশে দেখানো হয়। ভিডিও বার্তা করবিন উল্লেখ করেন, যদি ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফর বহাল রাখেন, তাহলে থেরেসা মে নিজেকে ইতিহাসের ভুল পক্ষের সঙ্গ দেবেন।

লন্ডন ছাড়াও যুক্তরাজ্যের আরও ১২টি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্রাইটন, বার্মিংহাম ও শেফিল্ড।

যুক্তরাষ্ট্রমুখী অভিবাসন সীমিত করতে ২৭ জানুয়ারি এক নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। আদেশ অনুযায়ী, আগামী চার মাস যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ থাকবে। সিরীয়দের জন্য এই আদেশ পরবর্তী নির্দেশের আগ পর্যন্ত বহাল থাকবে। ৩ মাস বন্ধ থাকবে সাত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি। ট্রাম্পের নির্বাহী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্বৈত-নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়া (গ্রিন কার্ড হোল্ডার) ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও ওই আদেশ কার্যকর হবে।

গত শুক্রবার ট্রাম্পের এ নির্বাহী আদেশকে অসাংবিধানিক আখ্যায়িত করে স্থগিতাদেশ দেয় সিয়াটলের একটি আদালত। এরপর স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে করা ট্রাম্প প্রশাসনের আপিলও খারিজ করে দেয় আদালত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ