ঢাকা, সোমবার 6 February 2017, ২৪ মাঘ ১৪২৩, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বর্তমান সরকারের মেয়াদেই ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা হবে -অর্থমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা হবে। যাতে নতুন সরকার এটি বাস্তবায়ন করতে পারে। এক বছরে চুরি হওয়া রিজার্ভ ফেরৎ না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

গতকাল রোববার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে (আইডিইবি) অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আশরাফুল মকবুলের সভাপতিত্বে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ফজলে কবির, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমান, সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ প্রমুখ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অনেক দিন ধরে কমিশন গঠনের বিরোধিতা করে আসছিলাম। কারণ এখনো দেশের ব্যাংকিং খাতের এটা বাস্তবায়নের সক্ষমতা নেই। তবে বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা হবে, যাতে নতুন সরকার এটি বাস্তবায়ন করতে পারে।

মুহিত বলেন, আমাদের ব্যাংকিং সেক্টর বেশ উন্নত। এর হয়ত দুর্বলতাও রয়েছে। অনেকেই বলেন একটা ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা দরকার। আমি এতদিন পর্যন্ত সেই ধারণা নেইনি। কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে, আমাদের উচ্চাভিলাষ-অভিযাত্রা গুচ্ছে এমন কোনো সংকট কখনো জন্ম নেয়নি।

তিনি বলেন, আইন-কানুন রীতিনীতি ইত্যাদি দেখার জন্য একটা ব্যাংকিং কমিশন দরকার। কিন্তু সেটার সময় এখনো হয়নি। তবে সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে এটি করা হবে, যাতে নতুন সরকার এটি বাস্তবায়ন করতে পারে। তখন ব্যাংকিং সেক্টরের যে অবস্থা হবে, তখনই একটা কমিশন ব্যাংকিং সেক্টরকে সুদৃঢ় পথে এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা বাতলাতে পারবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সোনালী ব্যাংক কিছুদিন আগেও সরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ছিল। বর্তমানে এই অবস্থান থেকে একটু পেছনে পড়ে গেছে। সাময়িক এই অবস্থা থেকে অতিসত্বর তারা আগের অবস্থান দখল করবে বলে আমার বিশ্বাস।

রিজার্ভ চুরির ঘটনা এক বছর অতিবাহিত হলেও এর কোন অগ্রগতি নেই। গতকাল সচিবালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। 

তিনি বলেন, আমাদেরকে এখন নিউ স্টেজে যেতে হবে। নিজেদের মধ্য আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করবো। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এ ব্যাপারে অভিমত চাওয়া হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের বেশ কটি সংবাদ মাধ্যমে জানানো হচ্ছে, চুরির এক বছর পর বাকি অর্থ দ্রত ফেরত পাওয়ার আশাও ক্ষীণ হয়ে এসেছে। ঝিমিয়ে পড়েছে অর্থ উদ্ধারের তৎপরতাও।

এ ঘটনায় সরকার তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েও তা প্রকাশ করেনি। ফলে বিশ্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবচেয়ে বড় সাইবার জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত কারও বিরুদ্ধে এখনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চুরির পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। ২০১৬ সালের ঠিক এইদিন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে (নিউইয়র্ক ফেড) রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরির ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ ১ বছর পেরুলেও তা এখনও পুরো উদ্ধার হয়নি। এক বছরে মাত্র ১ কোটি ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। উদ্ধার হয়নি সাড়ে ৬ কোটি ডলার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ