ঢাকা, সোমবার 6 February 2017, ২৪ মাঘ ১৪২৩, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে লুটেরা আ’লীগ সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে 

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রতিবাদে গতকাল রোববার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য পেশ করেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, মামলাই এখন তাদের একমাত্র ভরসা। এর মাধ্যমেই তারা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে চায়। একইসাথে নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে লুটেরা আ’লীগ। তিনি বলেন, এখন ধর্ম নিয়েও আলোচনা করা যাবে না। মোহাম্মদপুর থেকে ধর্মের আলোচনাকালে কিছু মহিলাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাহলে কি ধর্ম নিয়ে একসাথে আলোচনা করাও নিষিদ্ধ? এসব কিসের আলামত? গতকাল রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলায়’ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক মির্জা আব্বাসের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, আব্দুস সালাম আজাদ, কাজী আবুল বাশার, মুন্সী বজলুল বাসিত আঞ্জু, শফিউল বারী বাবু, সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, রফিকুল ইসলাম মঞ্জু, রাজীব আহসান প্রমুখ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, একটি কথা জোর দিয়ে বলছি- আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। এই জন্য তারা রাজনীতিকে রাজনীতি দিয়ে মোকাবিলা করতে পারে না। মামলা দিয়ে মোকাবিলা করতে হয়। ফখরুল বলেন, আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই- মামলা দিয়ে, হত্যা, গুম করে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষকে দমিয়ে রাখা যাবে না। এ সময় মামলা দিয়ে নয়, পারলে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে আওয়ামী লীগের প্রতি আহ্বান জানান ফখরুল।

তিনি বলেন, প্রতিদিন সংবাদপত্র খুললেই দেখবেন, আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব। এ ওকে গুলী করছে, মারছে। কী নিয়ে দ্বন্দ্ব। বকড়া (ভাগবাটোয়ারা) নিয়ে দ্বন্দ্ব। অর্থাৎ সমাজকে তারা এমন একটি জায়গায় নিয়ে গেছে যেখানে কোনো কিছুর জবাবদিহিতা নেই।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজ কারো কোনো সত্য কথা বলবার অধিকার নেই। সংবাদকর্মীরা সব সত্য কথা লিখতে পারেন না। কারণ, সত্য কথা লিখতে গেলে বা ছবি তুলতে গেলে সরকারি দলের লোকেরা তাদেরকে গুলী করে মারে।

শাহজাদপুরে সাংবাদিক শিমুল হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পত্রিকায় ছবি বেরিয়েছে শাহজাদপুরের আওয়ামী লীগের নেতা যিনি জোর করে মেয়র হয়েছিলেন, তার গুলীতে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার, অর্থনীতিকে ফিরিয়ে আনা, আমাদের বাঁচার জন্য সংগ্রামে শরিক হতে আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাড়ি থেকে জামায়াতে ইসলামীর ২৮ জন নারী কর্মীকে গ্রেফতারের বিষয়ে ফখরুল বলেন, আজকে এক জায়গায় বসে ধর্মের আলাপ করবেন, কথা বলবেন, শুনবেন তার উপায় নেই। কয়েকদিন আগে ২৮ জন মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে । তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা নাকি তাবলিগের নামে নাশকতার কাজ করছিলেন। এ রকম অস্থিতিশীল পরিবেশের মধ্যে আছি, যেখানে স্বাভাবিক মৃত্যু ও মা, বোনদের ইজ্জতের গ্যারান্টি নেই।

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২৯টি মামলা, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা। আমাদের সবার বিরুদ্ধে মামলা। এ সময় ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, আজকে জীবনের শেষ সময়ে এসে অসুস্থ খালেদা জিয়াকে আদালতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। নামায পড়ার সুযোগটুকু পর্যন্ত দেয়া হয় না। তাকে কিছু খাওয়ার সুযোগ দেয়া হয় না। তিনি বলেন, যেদিন তার হাজিরা থাকে সেদিন মনে হয় যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করে। সরকারের ভয়টা কিসের? ভয় হলো জনগণের। কারণ নেত্রীর সঙ্গে যে কোটি জনগণ আছে তারা যদি জেগে ওঠে তাহলে তাদের তকতে তাউস এক মুহূর্তের জন্যও টিকবে না।

এক-এগারোর সরকারের সময় থেকে তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, একটি মহল থেকে এক-এগারোর আগে থেকে তার (তারেক রহমান) বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো শুরু হয়। তিনি আজ আমাদের থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে। অথচ তাকে আরও কিভাবে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখা যায় এজন্য একের পর এক মামলা দেয়া হচ্ছে। এসব মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হচ্ছে। কিন্তু কোনো চেষ্টা সফল হবে না। কারণ তিনি বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের আদর্শ ধারণ করেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, শুধু কেন্দ্রীয় নেতা নয়, তৃণমূলের প্রত্যেকটি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। পুলিশের ভয়ে তারা শহরে আশ্রয় নিয়ে হকারি করছে, কেউ রিকশা চালাচ্ছে, কেউ আবার গার্ডের চাকরি করছে। এরা সব আমাদের দলের লোক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ