ঢাকা, সোমবার 6 February 2017, ২৪ মাঘ ১৪২৩, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

যুক্তরাষ্ট্র কি নিষ্পাপ

৫ ফেব্রুয়ারি, সিএনএন, দ্য হিল:  রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সমর্থনে দেওয়া এক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আমাদের দেশটা কি নিষ্পাপ?’
শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ-এর বিল ও’রেইলিকে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে পুতিন সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাকে শ্রদ্ধা করি। আমি আরও অনেক লোকজনকেই শ্রদ্ধা করি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তাদের সবার সঙ্গে আমি একভাবেই চলি।’
পুতিনের প্রতি নিজের সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি তার দেশের নেতা। আমি যা বলছি, তা হলো - রাশিয়াকে সঙ্গে নিয়ে চলাটাই আমাদের জন্য ভালো। যদি তারা বিশ্বব্যাপী এ সময়ের সবচেয়ে বড় হুমকি আইএস এবং ইসলামী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সহযোগিতা করে, তাহলে এটা অবশ্যই একটি ভালো বিষয়। আমার কি তার সঙ্গে চলা উচিত নয়?’
এর বিপরীতে ও’রেইলি ট্রাম্পের কথা সমর্থন না করে পুতিন সম্পর্কে বলেন, ‘তিনি একজন খুনি হলেও তাকে সমর্থন করবেন? পুতিন একজন খুিন।’ ও’রেইলির বক্তব্যের জবাবে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এখানেও অনেক হত্যাকারী রয়েছে। আমাদেরও অনেক হত্যাকারী রয়েছে। আপনি কি মনে করেন, আমাদের দেশটা নিষ্পাপ?’
উল্লেখ্য, পুতিনের সমর্থনে এবারই প্রথম মুখ খোলেননি ট্রাম্প। নির্বাচনি প্রচারণার সময় ট্রাম্প তার বক্তব্যে ওবামা ও পুতিনের তুলনায় বলেন, ‘রুশ প্রেসিডেন্ট আমাদের প্রেসিডেন্ট থেকে অনেক ভালো।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিজ দেশের ওপর তার (পুতিন) অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।’ ৮২ শতাংশ জনগণের সমর্থন পুতিনের সঙ্গে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এর আগে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরেও পুতিনের প্রতি নিজের শ্রদ্ধার কথা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি আরও বলেছিলেন, এটা তার জন্য খুবই গর্বের বিষয় যে, পুতিন তাকে ‘প্রতিভাবান’ বলে উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য, সাবেক মার্কিন প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের কথা দাবি করছে। তাদের দাবি, ট্রাম্পকে জয়ী করার জন্যই পুতিন মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছেন।
ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করার আশ্বাস : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য রাশিয়া ও অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন। গত শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কোর সঙ্গে ফোনালাপে তিনি এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে রুশ বাহিনী ক্রিমিয়ার স্থানীয় বিদ্রোহী প্রশাসনের সহযোগিতায় ওই ভূখ- দখল করে এটিকে রাশিয়া ফেডারেশনের অংশ বলে ঘোষণা দেয। এর আগে পর্যন্ত ক্রিমিযা ছিল ইউক্রেনের অংশ। এর পর থেকে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া ও ন্যাটো। ইউক্রেনে থেমে থেমে সংঘর্ষের ঘটনাও রয়েছে অব্যাহত।
সম্প্রতি মস্কো সমর্থিত বিদ্রোহী ও ইউক্রেন সরকার আবারও সহিংস সংঘর্ষে জড়িয়েছে। আর এতে অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এমন এক পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা হয় পোরোশেঙ্কোর।
রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন ভাল সম্পর্কে আগ্রহী। তবে পোরোশেঙ্কোকে আশ্বাস দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখার প্রশ্নে হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা ইউক্রেন এবং রাশিয়ার সঙ্গে একযোগে কাজ করব এবং উভয় দেশের সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করব।’
বাড়ছে টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের মূল্য : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টেলিভিশন দেখার অভ্যাসকে ব্যবসায়িক স্বার্থে কাজে লাগাচ্ছে দেশটির দু’টি শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল এমএসএনবিসি এবং ফক্স নিউজ। গত কয়েক সপ্তাহে চ্যানেলগুলো তাদের কয়েকটি অনুষ্ঠানের বিজ্ঞাপনমূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে।
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এমএসএনবিসি-র ‘মর্নিং জো’ অনুষ্ঠানের বিজ্ঞাপনমূল্য দ্বিগুণ করা হয়েছে। ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয়েছে অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক জো স্কারবোরোর। প্রতিদিন সকালেই ট্রাম্প অনুষ্ঠানটি দেখেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়।
ফক্স নিউজ-এর “দ্য ও’রেইলি ফ্যাক্টর” এমনই আরেকটি অনুষ্ঠান, ট্রাম্প যার নিয়মিত দর্শক এবং তিনি অনুষ্ঠানটির কথা বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্যেও উল্লেখ করেছেন। অনুষ্ঠানটির বিজ্ঞাপনমূল্য ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এক মিডিয়া বিশ্লেষক জানিয়েছেন, ‘প্রেসিডেন্টের টেলিভিশন দেখার অভ্যাসের কারণেই বিজ্ঞাপনদাতারা ওইসব অনুষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছেন।’
ওয়াশিংটনের এক বিশিষ্ট মিডিয়া কনসালট্যান্ট জানান, তার গ্রাহকরা চলতি সপ্তাহে কেবল ‘মর্নিং জো’ এবং “দ্য ও’রেইলি ফ্যাক্টর” অনুষ্ঠানেই বিজ্ঞাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এসব গ্রাহকের মধ্যে রয়েছে বৃহৎ ব্যাংক, ফার্মাসিটিউক্যাল কোম্পানি। ওই মিডিয়া কনসালট্যান্ট আরও জানান, ট্রাম্প শুধু তা দেখেনই না, বরং তা নিয়ে টুইটারে মন্তব্যও করেন। তাই বিজ্ঞাপনদাতারা সেদিকে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
এমএসএনবিসির এক সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানাচ্ছে, ‘মর্নিং জো’ অনুষ্ঠানের বিজ্ঞাপনমূল্য আরও বাড়ানো হতে পারে। ওয়াশিংটন ডিসি এবং নিউ ইয়র্কভিত্তিক কৌশলগত বিজ্ঞাপন সেখানে বেশি স্থান পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ