ঢাকা, সোমবার 6 February 2017, ২৪ মাঘ ১৪২৩, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পাকিস্তানী শিশুকে ফেরৎ দিল ভারত

৫ ফেব্রুয়ারি, বিবিসি : নিজ সন্তান ইফতেখার আহমদকে ভারতে নিয়ে গিয়েছিলেন পিতা, এগার মাস পর পাঁচ বছর বয়সী ওই শিশুকে পাকিস্তানে তার মার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
শনিবার ভারত-পাকিস্তানের ওয়াগা সীমান্ত পথে ইফতেখারকে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেন ভারতীয় কর্মকর্তারা, জানিয়েছে বিবিসি।
গত বছর একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের যোগ দেওয়ার ভান করে ইফতেখারের বাবা গুলজার আহমদ ছেলেকে ভারতে নিয়ে যান। তার মা রোহিনা কায়ানি পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে রয়ে যান।
ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের গান্দেরবাল গ্রামে গুলজারের জন্ম ও বেড়ে ওঠা। ১৯৯০ সালে তিনি পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে চলে যান। ওই সময় ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে কাশ্মিরিদের বিদ্রোহ চরম আকার ধারণ করেছিল।
সামরিক প্রশিক্ষণের উদ্দশ্যেই গুলজার পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে পাড়ি জমিয়েছিলেন বলে অভিযোগ আছে।
২০১৬-র মার্চে গুলজারকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ। তাকে তারা নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়। কিন্তু গোল বাধে তার সঙ্গে থাকা শিশু সন্তান ইফতেখারকে নিয়ে। সে তার বাবাকে ছাড়া থাকতে না চাওয়ায় তাকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পাঁচ দিন ধরে ইফতেখার পুলিশ হেফাজতে থাকার পর তাকে নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিতর্ক দেখা দেয়।
পরে ইফতেখারের বাবাকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। ভারতের একটি আদালত শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফেরত পাঠানোর নিন্দেশ দিলে ভারত ও পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে উদ্যোগী হয় বলে ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গত বছর স্বামী গুলজারের বিরুদ্ধে ছেলেকে ‘অপহরণের’ অভিযোগ করেছিলেন রোহানি। জানিয়েছিলেন, ২০০২ সালে বিয়ের পর এক দশকের মধ্যেও কোনো সন্তান না হওয়ায় ২০১২ সালের জানুয়ারিতে ইফতেখারকে দত্তক নেন তারা।
“২০০৫ এর ভয়াবহ ভূমিকম্পে আমার পরিবারের অনেকেই মারা যান, তাদের মধ্যে আমার ছোট ভাই ইফতেখারও ছিল। যে কারণে পরে ভাইয়ের নামে ছেলের নাম রাখি,” বিবিসি উন্দুকে সেসময় বলেছিলেন রোহানি।
২০১৬ সালে গুলজার খাইবার পাখতুনখাওয়ায় এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানের কথা বলে ইফতেখারকে নিয়ে যান বলে জানান এ নারী। তিনদিন ধরে ফোনে না পেয়ে গুলজারের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে রোহানি বুঝতে পারেন, তার স্বামী তাকে না জানিয়ে ছেলেকে দুবাই হয়ে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নিয়ে গেছে; এরপরই থানায় অভিযোগ করেন তিনি। রোহানির এ অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে গুলজারের পরিবার। তাদের দাবি, গুলজারই ইফতেখারের জন্মদাতা পিতা।
“একজন বাবা কি করে তার সন্তানকে অপহরণ করতে পারে? আমার নাতি তার বাবাকে এতটাই ভালোবাসে যে সে তার বাবাকে ছাড়তেই চায়নি,” গত বছর বাবাকে ছাড়া থানা ছাড়তে ইফতেখারের অস্বীকারের সময় গুলজারের বাবা মো মকবুল এমনটাই বলেছিলেন। ইফতেখার ‘দত্তক নেয়া সন্তান নয়’ বলেও তখন দাবি করেছিল গুলজারের পরিবারের সদস্যরা। গুলজারের ভাই জুবায়ের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছিলেন, ইফতেখার তার ভাইয়ের দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান। ওই স্ত্রী মারা যাওয়ার পর প্রথম স্ত্রীর ঘরে ইফতেখারকে রেখেছিলেন গুলজার। পরে সৎমায়ের কাছ থেকে তাকে ভারতে নিয়ে আসা হয় বলে জানান তিনি। ইফতেখারকে ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বসিত মা রোহিনা এ ঘটনাকে ‘অলৌকিক’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন। শনিবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ছেলেকে ফিরে পাবার সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। ইফতেখারকে ফিরিয়ে আনায় পাকিস্তান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রোহানি। অপরদিকে ইফতেখারকে ফিরিয়ে দেওয়ায় ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়েছে পাকিস্তান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ