ঢাকা, মঙ্গলবার 7 February 2017, ২৫ মাঘ ১৪২৩, ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অনেকেই পুঁজি হারিয়ে ব্যবসা ছাড়ার কথা ভাবছে

খুলনা অফিস : খুলনার ফুলতলার পোল্ট্রি খামারীদের দুর্দিন বেড়েই চলেছে। একের পর এক খামারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অনেকেই এ ব্যবসা ছেড়ে দেয়ার চিন্তা করছে। আবার একাধিক খামারী পুঁজি হারিয়ে ঋণের দায়ে খামার পরিচালনা থেকে ছিটকে পড়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, এক সময় পোল্ট্রির ব্যবসা ও খামারীদের সুদিন ছিলো। কিন্তু এখন তাদের দুর্দিন চললেও সরকারি কর্তৃপক্ষ বা বাচ্চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের এদিকে কোন নজর নেই। উপজেলা পশুসম্পদ দপ্তর থেকে পোল্ট্রি খামারীরা তেমন কোন সাহায্য সহানুভূতি পায় না বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তোলা খামারীদের এখন মাথায় হাত। বাচ্চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছামত বাচ্চার দাম বাড়িয়ে তাদের নিয়োগকৃত ডিলারের মাধ্যমে বাচ্চা সরবরাহ করে থাকে।
একইসাথে ডিলাররা পোল্ট্রি খাবার ও ওষুধ সরবরাহ করে থাকে। খামারীদের আর্থিক ক্ষতি বা লোকসান হলে দেখার কেউ নেই। বর্তমানে বিভিন্ন ব্রয়লার বাচ্চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরবরাহকৃত প্রতিটি বাচ্চার মূল্য ৭৩-৭৫ টাকা। প্রতিটি বাচ্চা এক মাস পালন করতে তার খরচ হয় ১৩০-১৩২ টাকা। এর সাথে অন্যান্য খরচ যেমন অষুধ, বিদ্যুৎ, লিটারসহ সর্বমোট ব্যয় হয়ে থাকে ২২৭ টাকা। এক মাস পরে ব্রয়লার মুরগী দুই কেজি ওজন হলে বর্তমান বাজার মুল্যে ১১৫ টাকা করে ২৩০ টাকা বিক্রয় হয়। অন্যান্য কোন সমস্যা না হলে তার সামান্য লাভ থাকে কিন্তু সমস্যাহীনভাবে মুরগী পালন করার উদাহরণ মেলাভার।
একাধিক পোল্ট্রি খামারীদের সাথে আলাপ করে দেখা গেছে, প্রায় প্রত্যেকেরই আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। অনেকে পুঁজি হারিয়ে ঋণের দায়ে এ ব্যবসা ছেড়েই দিয়েছে। পোল্ট্রি খামারীদের দাবি এক দিন বয়সের বাচ্চার মূল্য কমানো ও পোল্ট্রি ফিড (খাবার) এর মূল্য কমালে তারা কিছুটা লাভবান হবে। নতুবা এ ব্যবসা বাদ দিয়ে অন্যত্র ঝুঁকে পড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন অনেকেই। বর্তমানে ফুলতলায় প্রায় দেড় হাজার মুরগীর খামার রয়েছে কিন্তু এ অবস্থা চলতে থাকলে দিন দিন খামারীর সংখ্যা হ্রাস পাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ