ঢাকা, বুধবার 8 February 2017, ২৬ মাঘ ১৪২৩, ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

১৬ বছরে ১ হাজার ৪৪৫ এনজিও নিবন্ধিত ॥ ৯০টি বাতিল

সংসদ রিপোর্টার : গত ২০০১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ১৬ বছরে মোট ১ হাজার ৪৪৫টি এনজিও নিবন্ধন লাভ করেছে বলে জানিয়েছেন সংসদ কাজে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে ৯০টি এনজিও‘র নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মতিনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
নিজাম হাজারীর এক প্রশ্নের জবাবে মতিয়া চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২০১৯ সালের মাধ্যে সারাদেশের ২ লক্ষ ৮০ হাজার গৃহহীন মানুষকে পুনর্বাসন করা হবে।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। এই ঘোষণা বাস্তবায়নের জন্য সারা দেশের ২ লক্ষ ৮০ হাজার গৃহহীন মানুষকে পুনর্বাসন করা হবে এবং আগামী ২০১৯ সালের মাধ্যে তা বাস্তবায়িত হবে।’ ইতোমধ্যে পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে চলতি ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে আশ্রায়ণ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে ১৫ হাজার গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘আগামী ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ৫০ হাজার গৃহহীন পরিবারকে নিজ জমিতে ঘর করে দেয়া হবে এবং ২০ হাজার পরিবারকে ব্যারাকে পুনর্বাসন করা হবে। পরবর্তী ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ১ লক্ষ ১০ হাজার গৃহহীন পরিবারকে নিজ জমিতে ঘর করে দেয়া হবে এবং ২০ হাজার ভূমিহীন পরিবারকে আশ্রায়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যারাকে পুনর্বাসন করা হবে।’
আশ্রায়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯৯৭ সাল থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত ৩টি ফেইজে ১ লক্ষ ৪০ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক পরিবারের বসবাসের জন্য নির্মিত ব্যারাকে ২টি করে কক্ষ ও জমিসহ প্রাপ্যতা সাপেক্ষে চাষযোগ্য জমি প্রদান করা হচ্ছে।’
বর্তমান চলমান আশ্রায়ণ-২ প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত ৪০ হাজার ভূমিহীন, গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এ মেয়াদে ৫০ হাজার পরিবার পুনর্বাসন করার লক্ষ্য রয়েছে।’
মতিয়া চৌধুরী  বলেন, ‘বর্তমানে যার সামান্য জমি আছে কিন্তু ঘর করার সামর্থ্য নেই সেসব পরিবারকেও তাদের নিজ জমিতে ১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হবে। এই কর্মসূচির আওতায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার পরিবারকে নিজ জমিতে ঘর তৈরি করে দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল এবং অসহায় মানুষদের জন্য আশ্রায়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকার ৫ ইউনিটের পাকা ব্যারাক ও দেশের অন্যান্য এলাকায় ৫ ইউনিটের সেমি পাকা ব্যারাক নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়াও নদী ভাঙ্গন প্রবণ এলাকায় সহজে স্থানান্তরযোগ্য সিআই সিট ব্যারাক নির্মাণ করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্পে পুনর্বাসিতদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য ১৪ দিনের চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে এবং প্রশিক্ষণ শেষে পরিবার প্রতি ২০ হাজার টাকা করে ঋণ দেয়া হয়। বর্তমানে এই ঋণের পরিমান বৃদ্ধি করে পরিবার প্রতি ৩০ হাজার টাকা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। পুনর্বাসিত পরিবারের জন্য ২ মাস ব্যাপী ভিজিএফ সুবিধা প্রদান করা হয়।’
তিন কোটি মানুষের কর্মসংস্থান : একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের আওতায় দেশের ইউনিয়নে মোট ৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এ কে এম শাহজাহান কামালের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় দেশের সকল জেলার সকল উপজেলার সকল ইউনিয়নে মোট ৬০ লক্ষ পরিবার তথা ৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান এবং দারিদ্র বিমোচনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’
২০০৯ সালে প্রকল্পের শুরুতে প্রাথমকিকভাবে প্রতিটি উপজেলার ৪টি করে মোট ১ হাজার ৯২৮টি ইউনিয়নে কার্যক্রম শুরু করা হয় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘পরবর্তীতে ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৪ হাজার ৪০৩টি ইউনিয়নের ৪০ হাজার ৫২৭টি ওয়ার্ডে ১টি করে গ্রাম নিয়ে ৪০ হাজার ২১৩টি সমিতির মাধ্যমে ২২ লক্ষ পরিবার তথা ১ কোটি ২০ লক্ষ দরিদ্র মানুষকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি গ্রামে ৬০টি দরিদ্র পরিবার নিয়ে একটি গ্রামে সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে। যার মধ্যে ৪০ জনই নারী। দরিদ্র মানুষ মাসে ২০০টাকা সঞ্চয় করলে সরকার তাকে ২০০ টাকা বোনাস দিচ্ছে। এছাড়া গ্রাম সংগঠনকে বছরে অতিরিক্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঘুর্ণায়মান তহবিল প্রদান করা হয়। এভাবে সরকার ২ বছরে একটি গ্রাম সংগঠনে মোট ৯ লক্ষ টাকার স্থায়ী তহবিল গড়ে তোলা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ