ঢাকা, রোববার 23 September 2018, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ১২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মেহেরপুরে মুকুলে ভরে গেছে আমগাছগুলো

অনলাইন ডেস্ক : জেলার আম বাগানের আমগাছগুলো মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে। মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠেছে আম বাগানগুলো। তাই বাগানগুলোতে মধু সংগ্রহে মৌ মাছিদেরও ছোটাছুটি শুরু হয়েছে।সেই সাথে মেহেরপুর জেলার ১১ হাজার আমচাষীর ব্যস্ততা বেড়েছে। বাগানের মালিকেরা আমগাছে ওষুধ শুরু করে দিয়েছে বিভিন্ন ধরণের যত্ন-আত্মির । 

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ফ্রেব্রুয়ারি মাসেই প্রতিটি গাছেই পুরোপুরিভাবে মুকুল ফুটে যাবে। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এ বছর আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। 

কৃষি বিভাগ আরো জানায়, আমচাষে প্রথমে আসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর কথা। এ দু’জেলায় আম উৎপাদন হয় বেশি। কিন্তু স্বাদেও দিক থেকে মেহেরপুরের আম এক নাম্বার। আম সুস্বাদু হওয়ায় মেহেরপুরের আমের চাহিদা দেশের সব জেলাতেই দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে আমের বাগানও বৃদ্ধি পাচ্ছে। মেহেরপুরের মুজিবনগর বৃটিশ শাসনামলে তৈরী মুজিবনগর আম্রকাননে ১২শ’ আমগাছ আছে। ওই বাগানে ১২শ’ আমগাছ ১২শ’ জাতের।

উল্লেখ্য এখন মেহেরপুর জেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সব জাতের আমেরই চাষ হচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছর কৃষিজমিতে তৈরী করা হচ্ছে আমের বাগান।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ভোমরদহ গ্রামের আমচাষী রায়হানুল হক জানান, শীতের তীব্রতা থাকলেও গেল কয়েক সপ্তাহ থেকে আমগাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার গাছগুলোতে মুকুলের সমারোহ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। 

সদর উপজেলার গোভীপুর গ্রামের আমচাষী মুকুল বিশ্বাস জানান, বাগানের নিয়মিত যতœ নিলে অফ ইয়ার বলে কিছু থাকে না। প্রতি বছরই গাছে আম আসবে।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মালসাদহ গ্রামের আমবাগান ক্রেতা আজমাইন হোসেন জানান- মুকুল আসার আগেই তিনি প্রতিটি আমবাগান এক থেকে তিন বছরের জন্য কিনে নেন। তার ১২টি বাগান কেনা আছে। এবার দু‘একটি বাগান ছাড়া প্রতিটি বাগানেই মুকুল আসতে শুরু করেছে ।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এসএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মূলত তিনটি পর্যায়ে আমের মুকুল আসে। যার প্রথম পর্যায় শুরু হয়েছে। পুরনো জাতের গাছগুলোতে মুকুল ধরেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মাসের শেষের দিক পর্যন্ত সব গাছে মুকুল দেখা যাবে। জেলায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। আমচাষের জেলা রাজশাহী হলেও সুস্বাদু আমের জেলা মেহেরপুর। এখানকার মাটির গুণেই হিমসাগর, লেংড়া, বোম্বাই, তিলি বোম্বাই ইত্যাদি জাতের আম খুবই সুস্বাদু। বিশেষ করে নিয়মিত জাত ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষীরসাপাতি, আশ্বিনা জাতের বাগান বেশি থাকলেও গবেষণাকৃত বারি-৩, বারি-৪ জাতের বাগান তৈরির ক্ষেত্রেও আগ্রহী হয়ে উঠছে অনেকে। সেই সঙ্গে নতুন নতুন বাগানগুলো তৈরী হচ্ছে বনেদি ও হাইব্রিট জাতের। নিয়মিত যত্ন নিলে আমের অফ ইয়ার বলে কিছু থাকে না। প্রতিবছরই বাগানে আম আসবে বলে তিনি জানান। সূত্র: বাসস। 

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ