ঢাকা, সোমবার 13 February 2017, ০১ ফাল্গুন ১৪২৩, ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইসলামী বীমা প্রবিধান প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা

ডা. মিজানুর রহমান : সুচনা : সুস্থ, সুন্দর, সুখী ও শান্তিও জীবন কেনা কামনা করে? মানব সৃষ্টির পর থেকেই এ ধরনের কামনা বাসনা বিরাজমান। দুনিয়ার তাবুত মানুষের ন্যূনতম মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অনাদিকাল হতে চলমান প্রক্রিয়া। তবে নিখিল বিশ্বে মানচিত্রের, পরিবেশের বৈচিত্র্য আর কালের বিবর্তনে পাল্টে যাচ্ছে মানবাধিকারের ধরণ-ধারণ।
বিশ্বায়নের যুগে আধুনিক সভ্যতা বলতে যে সভ্যতাকে বুঝানো হয় সেটি অর্জন করতে মনুষ্য জাতীর ৭-৮ কোটি বছর সময় লেগেছে। এ সময়ের ব্যবধানে অবনীর প্রায় দু-লাখ এর বেশি ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রান্তে জন্ম গ্রহণ কওে স্রষ্টার নীতি নৈতিকতায় গড়া আলোকিত মানুষ হিসাবে যুগেযুগে পথ ভোলা সাধারণ মানব জাতিকে আলোর পথ দেখিয়ে ইহজনমে অমরত্ব জীবন লাভ করার সৌভাগ্য অর্জন করেন। যার ইতিহাস ঐতিহ্যের রেনেসাঁর তথ্যপূর্ণ আল-কুরআনে বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে।
তাদের একমাত্র কাজই ছিলো স্রষ্টার ইচ্ছা পুরণ করা তথা স্রষ্টার স্বপ্ন হলো মানুষ তার বিধান সমূহ পরিপূর্ণ ভাবে প্রতিপালন ও অনুশীলনের মাধ্যমে স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জন করা। এতে করে তারা দুনিয়ার কল্যাণ লাভ করবে ও আখিরাতে মুক্ত পাবে।
এক্ষেত্রে তাদের মিশ্রণ ছিলো স্রষ্টা কর্তৃক জ্ঞানার্জন, অনুশীলন, জীবাকার জন্য কায়িক পরিশ্রম করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ অর্জন, পারিবারিক, সামাজিক সহ একটি উন্নত সভ্য ও শান্তির কল্যাণ  রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। পরিশেষে ইসলাম নামক পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার হিসাবে রূপকার হিসাবে একজন সফল অগ্রনায়ক বিশ্বনেতা হযরত মুহাম্মদ (সা) এর জন্ম হয় মক্কায়। তিনি ৪০ বছর বয়সে স্রষ্টার ঐশীবাণী প্রাপ্ত হয়ে সুদীর্ঘ ২৩ বছর সংগ্রাম করে মানব জাতীর জন্য একটি বিরাট নিয়ামত মহাগ্রন্থ আল-কুরআন উপহার দেন।
এই মহাগ্রন্থ আল-কুরআন বিশ্লেষণ করে যা পাওয়া যায় তা হলো পরকালের কল্যাণকর অনন্তজীবন আবিষ্কারের ক্ষেত্রস্থল হলো দুনিয়া। এখানে দৈনন্দিন জীবনাচরণ যেভাবে পরিচালিত হবে আখিরাতে সে ধরনের ফলাফলের ভিত্তিতে জান্নাত-জাহান্নাম নির্ধারিত হবে। দুনিয়ার সময়টা আখিরাতের তুলনায় যৎসামান্য কাজেই অনন্ত জীবনের সুখ লাভের সহজ উপায় আল-কুরআনে বিশদভাবে প্রকাশিত ও বর্ণিত হয়েছে।
উল্লেখ্য ১৮ হাজার প্রজাতি শুধুমাত্র মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছ্। এরা কখনো সীমা লংঘন করেনা। অথচ মানুষ সৃষ্টির সেরা হয়েও সীমা লংঘন করার নজীর রয়েছে। প্রচলিত প্রথা রীতিনীতির মূলোৎপাটন করে একমাত্র আল্লাহ প্রদত্ত বিধি-বিধান প্রতিষ্ঠা ও কার্যকর করার জন্যই নবী ও রাসূল গনের আগমন ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় মানব জাতির  একটি অংশ তাদের ব্যক্তি জীবনের সর্বক্ষেত্রে শরীয়াতের বিধা-বিধান মেনে চলে এবং সকল প্রকার মতাদর্শের উপর ইসলামি হুকুমত প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করে মারে ও মরে।
ইসলামের আলোকে জীবন-জীবিকায় সফলতা ও বিফলতা : “তোমরা কল্যাণ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে অপরকে সহযোগিতা করবে এবং পাপ ও সীমা লংঘনের কাজে সহযোগিতা করবেনা। সুরা মায়িদা -২
রাসূলের যুগে নবী মোহাম্মাদ (সা) সামাজিক কুসংস্কার তথা সূদ, ঘুষ, জেনা,ব্যাভিচার, জুয়া, লটারী, মিথ্যাচার, প্রতারণা, ক্ষমতার লিপ্সা, স্বৈরাচারি আচরণ ইত্যাদি অপনীতির বিরুদ্ধে জীবনবাজি রেখে লক্ষ লক্ষ সাহাবী নিয়ে সংগ্রাম করেছেন। অবশেষে বিজয় লাভ করেন ইসলাম সারা বিশ্বে আলোর জ্যোতি ছড়িয়ে বিশ্ব হান্ডের মানচিত্র একে একে দখল করতে থাকে। সে আলোর মর্যাদা টেকসই করার জন্য সাহাবিদের নানা ভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
ব্যক্তি সমাজ রাষ্ট্রে যাতে দুর্ভিক্ষ না আসে সে জন্য দারিদ্র্যতাকে কুফরের সাথে তুলনা করা হয়েছে। দারিদ্র্যতাকে জয় করে সুখি সমৃদ্ধশালী অর্থনৈতিক ভিত মজবুতকরণে বার বার নানাভঙ্গিতে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। যেমন রাসূল (সা) বলেন, নিচের হাতের চেয়ে উপরের হাত মর্যাদাবান। একথায় বোঝা যায় যে আমাদের অর্থনৈতিক সফলতা ছাড়া ইসলামের মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ তাআলা আল-কুরআনে যতবার সালাতের কথা উল্লেখ করেছেন সাথে সাথে জাকাতের কথাও উল্লেখ করেছেন। তোমরা সালাত প্রতিষ্ঠা কর এবং যাকাত দাও।
রাসূল (সা) বলেছেন, তোমাদের উত্তরাধিকারিদের নিঃস্ব পরমুখাপেক্ষী ও অপর লোকদের উপর নির্ভর করে রেখে যাওয়া অপেক্ষা তাদের স্বচ্ছল ধনী ও সম্পদশালী রেখে যাওয়া তোমাদের জন্য অনেক ভালো। - বুখারী শরীফ।
“জনপদ সমূহের অধিবাসিদের নিকট থেকে স্বীয় রাসূল (সা) কে যা প্রত্যাবর্তন করেছেন, বস্তুত আল্লাহ ও রাসূল (সা) এর জন্য এবং আত্মীয়-স্বজন, পিতৃহীন দারিদ্র্য ও পথিকদের জন্য দান জাতের সম্পদ পর্যায়ক্রমে তোমাদের ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়। -সূরা হাসর -৭।
“রাসূল (সা) বলেছেন, তোমাদের কাজ কর্ম আমাকে চিন্তান্বিত করে রেখেছে যে, আমার পরে তোমাদের উত্তরসূরিরা কিভাবে জীবন-যাপন করবে, অর্থাৎ আমি কোন উত্তরাধিকার  সম্পত্তি রেখে যাচ্ছিনা। আর তোমরা দুনিয়ার উপর আখিরাতকে প্রাধান্য দিচ্ছো।
স্বামী-স্ত্রী সন্তান-সন্ততিদের নিরাপদ ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ তৈরি করার বিষয়টি ইসলাম বিভিন্নভাবে উৎসাহিত ও অনুপ্রেরনা করেছে। এক্ষেত্রে ব্যক্তি পরিবার ও সমাজের অনিশ্চিত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা বিষয়টি টেকসই করার জন্য ইসলামি বীমা ব্যবস্থা মূলত একটি আর্থসামাজিক কৌশল মাত্র।
“রাসূল (সা) বলেছেন, বিবাহের পূর্বে আর্থিক সংগতি না হলে রোজা রাখ। এক্ষেত্রে দৈনন্দিন জীবনে আর্থিক সামর্থের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
মহান আল্লাহ বলেন, “হে ইমানদারগণ! তোমরা জেনে রাখ, মদ, জুয়া, মুর্তি পুজার দেবী, ভাগ্য জানার জন্য ব্যবহৃত শলাকা সমূহ শয়তানি কাজের অপবিত্রতা মাত্র অতএব তোমরা এর প্রত্যেকটি কাজই সম্পূর্ণরূপে পরিহার কর। তাহলেই আশা করা যায় যে, তোমরা সফলকাম হবে।” সূরা মায়িদা-৯০।
“সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাজ কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ কর” আল ইমরান- ১৫৯।
“আল্লাহ তাআলার ইবাদত যেমন ফরজ, ইসলামে জীবিকা উপার্জন করাও তেমন ফরজ করা হয়েছে, এ প্রসঙ্গে কুরআন মাজিদে বলা হয়েছে- যখন সালাত আদায় শেষ হবে তখন তোমারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে, আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করবে এবং আল্লাহর বেশি বেশি যিকির করবে; এতে তোমরা সফল হবে- আল-কুরআন, ৬২:১০।
“আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমরা উত্তম ও পবিত্র বস্তু আহার করো, যা আমি তোমাদের জীবিকারূপে দিয়েছি এবং কৃতজ্ঞতা আদায় কর আল্লাহর, যদি তোমরা একন্তই তাঁর ইবাদত কর। আল-কুরআন -০২:১৭২ ।
“আল্লাহর রাসূল (সা) বলেছেন, হারাম সম্পদের তৈরি গোশত ও রক্ত জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং হারাম সম্পদের তৈরি প্রতি টুকরো গোশত ও প্রতি ফোটা রক্তের জন্য জাহান্নামই যথোপযুক্ত আবাস। তিনি আর বলেন, পবিত্রতম উপার্জন হল মানুষের নিজের হাতের পরিশ্রম। মূলত আল-কুরআন এর মৌলিক বিষয় হলো- মুসলিমদের আধ্যাত্মিক ও বস্তুগত সমৃদ্ধি ও কল্যাণের জন্য মানব উন্নয়ন ও মানব সম্পদ গঠন।
মূলত দৈনন্দিন জীবনাচরণের উপরই নির্ভর করে পরকালের জান্নাত-জাহান্নাম। যেহেতু সকল মানুষকেই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর না দেয়া পর্যন্ত এক পা নড়তে দেয়া হবে না, সেই পাঁচটি প্রশ্নের মধ্যেও অর্থনৈতিক বিষয়ে দুটি প্রশ্ন বিদ্যমান। যেমন: সামগ্রিক জীবন, যৌবনকাল, আয়, ব্যয় ও অর্জিত জ্ঞানের ব্যবহার কিভাবে সম্পাদিত হয়েছে। এক্ষেত্রে হালাল উপায়ে উপার্জিত একটি অংশ বীমা এর মাধ্যমে সঞ্চয় করে ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে তা ব্যবহার করা যেতে পারে। জীবনকে সুন্দরভাবে সাজাতে হলে অর্থের প্রয়োজন আর অর্থ আসে পরিশ্্রমে। সে পরিশ্রমের বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্থ সঞ্চয় করা হলে মৃত্যু, বৃদ্ধ, অসুখ, দুর্ঘটনা ইত্যাদি ঝুঁকি ও আপদকালীন দুর্যোগে অসাধারণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
ভারসাম্যপূর্ণ জীবন-জীবিকায় ইসলামী বীমার গুরুত্ব : মূলত: আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল (সা) প্রদর্শিত জীবন বিধানের বিকাশই হলো ইসলামি রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য, এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃংখলা রক্ষা করা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করা, বহিঃআগ্রাসন প্রতিরোধ করা ও ইনসাফ পূর্ণ কল্যাণ রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা ও সংরক্ষণ করা।
রাসূল (সা) ইসলামি সমাজ ব্যবস্থার ঊষালগ্নে “আকেলার” বিধান বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এই আকেলাই বিবর্তনের মাধ্যমে বীমা ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে।
ইসলাম মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, মানবিক মুল্যবোধ, পরস্পরের প্রতি দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসা, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ, লজ্জাহীনভাবে কায়িক পরিশ্রম করে রোজগার করতে পৃথিবীর মানুষকে উৎসাহিত করা হয়েছে বার বার নানা ভাবে। এক্ষেত্রে বৈধ ও অবৈধ, আদেশ ও নিষেধ এর বিষয়টি প্রাধান্য দিতে হবে।
বিশ্ব নবী (সা) মাত্র ২৩ বছরে একটি অসভ্য জাতিকে সভ্য ও মডেল জাতিতে রুপান্তরিত করেছিলেন। সুশাসন, জাতিয় ঐক্য, ন্যয় বিচার, জবাবদিহিতা, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক কল্যাণ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধতা ইত্যাদি বিষয়ে অসাধারণ সফলতা অর্জন করে বিশ্ব নন্দিত হয়েছিলেন।
আজকের যুগে মানুষ জীবন মানের উপাত্ত বৃদ্ধির জন্য নানা রকম কৌশল উদ্ভাবন ও গবেষণা চালাচ্ছে। অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র ও রাসায়নিক এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রীর ব্যবহার, ক্ষমতার দাপটের প্রতিযোগিতায় মানুষ এক মহাক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। অপরদিকে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতি সংঘ ও  ওআইসি নাম মাত্র ম্যারাথন শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবতীর্ণ হয়।
এর পাশাপাশি মহাদেশগুলোতে আলাদা আলাদা ভাবে রাষ্ট্রগুলো নিজস্ব স্বকীয়তায় ব্যবসা, বাণিজ্য, শিল্প, প্রযুক্তি, প্রকৌশলী ব্যবহার করে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতা অর্জনে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এতে করে বিত্তশালিরা আরো বিত্তবান হচ্ছে, নিম্নবিত্তরা সম্পদহীন হয়ে পড়ছে এবং হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে,  এদের সংখ্যা শতকরা ৯৪%। এই বিশাল জনগোষ্ঠিকে জীবন ধারনের তাগিদেই এখন থেকে সচেতন মনোভাব সৃষ্টি করে তার থেকে যৎকিঞ্চিত অর্থ জমা রাখার অভ্যাস করতে হবে। তাহলে দুর্দিনে এ অর্থ মহিরূপে আবির্ভাব হয়ে সাহায্য করবে।
মুসলমানরা ভিখারীর জাতিতে পরিণত হতে পারেনা। পরনির্ভরশীলতা ও পরমুখাপেক্ষীতা ইসলাম সমর্থন করেনা। মুসলমানরা অর্ধপৃথিবী সাড়ে ন’শ বছর শাসন করে তা দেখিয়ে দিয়েছে। বিশ্ব নবী (সা) ভালোভাবেই বুঝেছিলেন অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় ইমান বিনষ্ট হয়। কাজেই তিনি অর্থনৈতিক ইনসাফ ও বৈষম্যহীন ভারসাম্যপূর্ণ সামাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য জাকাতের ব্যবস্থা কঠোর ভাবে বাস্তবায়ন করেন। ফলে ভিক্ষা গ্রহণের মানুষ খুঁজে পাওয়া ছিল দুস্কর।
তিনি আরো বুঝতে পেরেছিলেন যে, মানুষ মহান আল্লাহর সর্বোৎকৃষ্ট সৃষ্টি। এই মানুষকে কেন্দ্র করেই সৃষ্টি জগতের সকল আয়োজন। এই মানুষই মহাপ্রলয়ের নিরাপত্তার প্রতীক।
আমাদের মনে রাখতে হবে যে, শুধু বৈষয়িক উন্নতি সাধনকেই ইসলাম মুখ্য বিষয় হিসাবে পরিগনিত করেনা। পাশাপাশি আখিরাতের মুক্তির জন্য বিশেষ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গুণাাবলি অর্জনে সচেষ্ট থাকার বিষয়েও যথেষ্ঠ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এরমধ্যে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ব্যক্তিগত গুণাবলি, তন্মধ্যে সময়ানুবর্তিতা, একাগ্রতা, মানব কল্যাণ সাধন উল্লেখযোগ্য।
এক্ষেত্রে তামান্না বা আশা আকাঙ্খার মাত্রার ক্ষেত্রে তাকওয়া বা খোদাভীতির বিষয়টি জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সীমালংঘন করে আশা পূরণের অনুমতি ইসলাম অনুমোদন করেনা। সীমার মধ্যেই অসীমতা অর্জনে ইসলাম উৎসাহিত করে। সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেই কামিলই ইনসানিয়াত অর্জন করে আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্য অর্জনে প্রচেষ্টা চালাতে উৎসাহিত করে।
অধুনা বিশ্বায়নের প্রচেষ্টা ধারনার বিকাশ সাধনে যে সব পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে আপাত দৃষ্টিতে তা যত ভালো মনে হচ্ছে এটি নিতান্তই ক্ষণস্থায়ী ও নশ্বর। মানবিক গুণাবলিহীন মানবীয় উন্নয়ন মূলত বস্তুগত উন্নয়ন। যেখানে উন্নয়নই মুখ্য বিষয় বলে চিহ্নিত করা হয়। এধরনের বৈষয়িক উন্নয়নের মধ্যে ইসলাম সীমাবদ্ধ নয়। বরং বৈষয়িক উন্নয়নের পাশা পাশি মানবিক মূল্যবোধ, সহানুভূতি, পরস্পর সহযোগিতা ও ভালোবাসা অর্জনের প্রতিও সমভাবে গুরুত্ব দিয়েছে।
মূলত: ভারসাম্যহীন উন্নয়ন একটি জাতিকে তিন ভাগে ভাগ করে (এক) শাসক, (দুই) শোষক, (তিন) শাষিত।
ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় বীমার গুরুত্ব : পৃথিবী সকলের জন্য যেভাবে সমভাবে আলো, বাতাস, পানি, রাত, দিন, এর সুবিধা বিতরন করে ঠিক তেমনি ভাবে মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে ইনসাফ পূর্ণ এবং ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় ইসলাম সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
আল্লাহ তাআলা মানুষের সৃষ্টিকর্তা। তার নিকট সকল মানুষ সমান। ন্যায়ভিত্তিক সমতা, সহযোগিত ও সহমর্মিতার ভিত্তিতে বিশ্বভ্রাতৃত্বের অনুপম নিদর্শন হলো ইসলামি বীমা। এতে ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক সম্পদ বন্টনের নিশ্চয়তা বিধান করে। ইসলামে শেয়ার হোল্ডিং বা চুক্তি ভিত্তিক পদ্ধতি স্বীকৃত। পাশা পাশি আল-গারার অর্থাৎ অন্তহীন সন্দেহজনক ও ফটকাবাজির লেনদেন নিষিদ্ধ।
সামাজে কেউ বিপন্ন হয়ে গেলে এবং প্রয়োজন পুরনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে পুনঃবন্টন প্রক্রিয়া সমাজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিৎ। ইসলামিক বীমা ব্যবস্থার সাধারণ অনুদান তহবিল সৃষ্টি করেন সম্পদের পুনঃবন্টন করা হয়।
অর্থনৈতিক (অন্নের) সুযোগ, সামাজিক সুবিধা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, জননিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, জনমতামত ইত্যাদি বিষয়ের ইসলাম আপোষহীন। খাদ্য সঞ্চয়, নিরাপত্তা, বাসস্থান, পরিশ্রম, দলবদ্ধতা, দায়িত্বশীলতা, আনুগত্য, নিয়ম-শৃঙ্খলা, বুদ্ধিমত্তা, বিবেকবোধ ইত্যাদি নানা বিষয়ের জ্ঞান অর্জন করা যায় মৌচাক থেকে।
ইসলামি বীমার সুচনা ও ক্রমবিকাশ : সাধারণ বীমা ব্যবস্থার সুচনা ঘটে সর্বপ্রথম ইতালির সওদাগরের মাধ্যমে। ঐতিহাসিকদের মতে, উন্দুলুসে মুসলমান শাষন আমলে মুসলিম সওদাগরদের সর্বপ্রথম পারস্পারিক সহযোগিতা মূলক ব্যবস্থার সুচনা করেন। একবার এই সওদাগরদের একটি বাহিনী দীর্ঘ দিনের পথ উটের বহর যোগে পাড়ি দিয়ে মালামাল ক্রয় করে ভিন দেশ থেকে নিজ দেশে  আমদানি করতে গিয়ে পথের মাঝামাঝিতে মরুভূমিতে রাত হয়ে যায়। তাবু গেড়ে সকলেই ঘুমিয়ে পড়ে। হঠাৎ সে কালো মেঘ দেখা দেয়, তেড়ে আসে সাইমুম, মুহূর্তেই লন্ডভন্ড হয়ে যায় তাদের বহর, বেশ কিছু উট ও মানুষের প্রাণ হানী ঘটে। যারা বেঁচে ছিলেন তারা কোন রকমে দেশে ফিরে আসেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়ায় শোকের মাতমে এলাকা ভারী হয়ে যায়। শিশু ও মহিলারা পিতা, স্বামী ও ভাই হারিয়ে নিঃস্ব ও সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় গত্রের বুদ্ধিজীবী সওদাগরের প্রধানগণ অনেক গবেষণা করে সমাজের ব্যবসায়ীদের সমন্বিত উদ্যোগে একটি “দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল” গঠন করেন। সে তহবিলে সকলেই কিস্তিতে প্রিমিয়াম জমা দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে সে  জমাকৃত অর্থ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের উট কিনে দেয়া হয় কিন্তু তারা প্রিমিয়াম জমা অব্যাহত রাখেন। দীর্ঘ দিনে আর কোন দূর্যোগ না আসায় তহবিলটি সমৃদ্ধ হতে থাকে। এর পর হঠাৎ আবার এরকম প্রাকৃতিক দূর্যোগে জান ও মালের ক্ষতি সাধন হলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ঐ তহবিল থেকে উটসহ পণ্য সামগ্রী ক্রয়ের অর্থ যোগান দেয়া হয়, যাতে করে ঐ পরিবারের সদস্যরা চলমান ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে। এভাবেই জন্ম নেয় বীমা কার্যক্রম।
যীশু খৃষ্টের ৫ শত বছর পুর্বের বীমা চালু হয়। ১৬ শ শতাব্দীতে ব্যবসায়ী সফরে বীমা চালূ হয়েছে। ১৭০৫ সালে পৃথিবীতে সর্বপ্রথম বীমা কার্যকরণ চালু করেন মি. হার্ডলে লন্ডনে। যিনি প্রথমে বই ব্যবসায়ী ছিলেন। ১৮৩২ খ্রিঃ দি ইস্টার্ন ফেডারেল ইউনিয়ন ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিঃ চালু হয়। ১৮৪৭ খ্রিঃ পাদ্রী মাদ্রাজ লাহোরে বীমা চালূ হয়। এটি চালু করে নিন্দুস্থান ও অপারেটিভ সংস্থা। ১৯৩৫ খ্রিঃ পাকিস্তানে আল্লামা ইকবাল মুসলীম ইন্ডিয়া ইন্সুরেন্স কোম্পানী চালু হয়। ১৯৪২ খ্রিঃ মোহাম্মাদ আলী হাবিব ইন্সুরেন্স কোম্পানী চালু করেন।
১৯৬৯ খ্রিঃ অনুষ্ঠিত প্যান-মালয়েশিয়ায় ইসলামি সম্মেলনে প্রথম ইসলামি বীমা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। জনগনের আগ্রহ ও চেতনায় অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে ১৯৭২ সালে জাতীয় ফতোয়া কমিটির প্রচলিত বীমা কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অত:পর বিষয়টি নিয়ে গবেষণার পর ১৯৭৯ সালে ঈদে মিলাদুন নবী উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে উপস্থিত জনতার প্রশ্নের জবাবে কুয়ালালামপুরের সাবেক এক মুফতি বিষয়টি পুনরায় গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেন। উক্ত সমাবেশে তিনি প্রচলিত বীমা কার্যক্রমকে শরীয়া বিরোধি বলে ঘোষণা করে।
তুর্কির ওসমানির শাসন আমলে একটি সমাজ কল্যাণ মুলক প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যের পরিধি ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ায় ১৯৭৯ সালে সুদানের খার্তুমের ইসলামি শরীয়া ভিত্তিক বীমা কোম্পানী চালু হয়। একই বছর সৌদি আরবে “ইসলামি আরব কোম্পানী” নামক একটি বীমা কোম্পানী চালু হয়। ১৯৮১ সালে জেনেভায় প্রতিষ্ঠিত হয় “দারুলমাল আল-ইসলামি” নামে আর একটি বীমা কোম্পানী। ১৯৮৩ সালে তৃতীয় বীমা কোম্পানী প্রতিষ্ঠিত হয় লুক্সেমবার্গে। একই বছর বাহামাতে প্রতিষ্ঠিত হয় “ইসলামি তাকাফুল ওবি তাকাফুল কোম্পানী”। বাহরাইনে প্রতিষ্ঠিত হয় “শরীকত আত-তাকাফুল আল-ইসলামিয়া”। ১৯৮৪ সালে মালয়েশিয়াতে প্রতিষ্ঠা লাভ করে “শরীকত তাকাফুল মালয়েশিয়া সিন্ডিরান বারহেড”। ১৯৯৮ খ্রিঃ ১১ আগষ্ট হোমল্যান্ড লাইফ ইন্সুরেন্স এর একটি প্রকল্প চালু করা হয়।
তাকাফুল ও বীমা সংক্রান্ত তথ্য : ভারতীয় আইন বিশেষজ্ঞ ড.মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ইসলামি আইনের আলোকে বীমার একটি সতর্ক এবং বস্তুনিষ্ঠ সমীক্ষা পরিচালনা করেন। তাঁর সমীক্ষার ও গবেষণার ফলাফল তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে থিসিস আকারে উপস্থাপন করেন। থিসিসটি গৃহিত হয় এবং ১৯৬৬ সালে তাকে ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়া হয়। তিনি উপসংহার টানে এই বলে যে পারস্পরিক সহযোগিতা বীমা (Mutual Insurance) ইসলামে অনুমোদন যোগ্য।
পাকিস্তানের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. নেজাতুল্লাহ ছিদ্দিকী ১৯৭০ দশকের শুরুতে কুরআন-সুন্নাহ এবং শরীয়াহর বিস্তৃত লক্ষ্য উদ্দেশ্যের আলোকে ইসলামি বীমার বিষয়টি নিয়ে গবেষনা করেন। তিনি যুক্তি দেখান যে বীমা ও জুয়া একটি অন্যটি থেকে মৌলিক ভাবে ভিন্ন এবং ইসলাম সহজভাবে নির্ভরযোগ্য ঝুঁকি পুরণের ধারনার বিরোধী নয়। তার মতে ইসলামি দৃষ্টিকোন থেকে বর্তমান বিদ্যমান বীমা ব্যবস্থার নির্দিষ্ট কিছু দুর্বলতায় ভুগছে। তবে সেগুলো নীতিমালা এর অনুশীলনের জন্য অপরিহার্য অংশ নয়। তাই ইসলামি শরীয়াহর আলোকে একটি নতুন ধারার বীমা ব্যবস্থা বিকশিত করা যায়। ইসলামি বীমার প্রতিশব্দ “আত্ তাকাফুল” যার অর্থ যৌথ নিশ্চয়তা।
গত তিন দশকে ইসলামি বিশ্বের বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন গ্রুপ এবং ব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছে। মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইকোনমিসোসাইটি ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে একটি সেমিনার আয়োজন করে। ইসলামি ইকোনমিক্স রিসার্চব্যুরো ঢাকা এই বিষয়ে ১৯৮৭ সালে একটি সেমিনার আয়োজন করে ্রবন্ধ উপস্থাপনা করা হয়।
মসলিম আইনবেত্তাগণ সনাতন বীমার কার্যক্রম প্রশ্নে ব্যাপক জ্ঞানগর্ভ গবেষণা ও পুঙ্খানূপুঙ্খ সমীক্ষা পরিচালনা করেন। এসব সমীক্ষার ফলে সাধারণ ভাবে মুসলিম আইনবেত্তাগণের মধ্যে মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, বর্তমান ধারায় প্রচলিত বীমার কার্যক্রম পুঙ্খানূপুঙ্খ নিয়ম ও বিধানের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। তাই মুসলিম বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদগণ যৌথভাবে ব্যাপক ও পুঙ্খানূপুঙ্খ সমিক্ষা চালিয়ে ইসলামি বীধি বিধান কঠোর ভাবে মেনে বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে ইসলামি বীমার নীতিমালা প্রণয়ন করেন।
দৈনিক ইত্তেফাক এর ৮ ই আগস্ট ২০১১ খ্রিঃ প্রকাশিত অর্থনীতির পাতায় “বীমা কোম্পানীর আবেদনের হিড়িক” শিরোনামে শাহীন হোসেন লিখেছেন বীমা কোম্পানীার লাইসেন্স পাওয়ার জন্য এ পর্যন্ত প্রায় ১৪০ টি আবেদন জমা পড়েছে। বিগত ৫ বছরে আরও হয়ত অনেক কোম্পানী আবেদন করেছে। অর্থমন্ত্রি আবুুল মাল আবদুল মুহিত নতুন ব্যাংশ লাইসেন্স ঘোষণা দেওয়ার পর ব্যাংকের পাশাপাশি বীমা আবেদন জমা দেওয়ার হার বেড়ে গেছে। তথ্যমতে জানা যায় সরকারি সাধারণ বীমা এবং জীবন বীমা করপোরেশন সহ বর্তমানে দেশে কর্মরত বীমা কোম্পানীর সংখ্যা ৬৩ টি। এসব কোম্পানী ৪১ টিই সাধারণ বীমা (নন লাইফ) কার্যক্রম পরিচালনা করে। অন্যদিকে সরকারি জীবন বীমা করপোরেশনের এবং মেটলাইফ আমেরিকান লাইফ ইন্সুরেন্স সহ মোট ১৮ টি কোম্পানী জীবন বীমা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১খ্রিঃ পর্যন্ত মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সময় সর্বোচ্চ ৩০ টি বীমা কোম্পানীর অনুমোদন পেয়েছিলো। সেসময় ১১ টি জীবন বীমা এবং ১৯ সাধারন বীমা কোম্পানীকে অনুমোদন দেওয়া হয়। তারও আগে ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট এরশাদের আমলে তিনটি জীবন বীমা এবং ১৬ টি সাধারণ বীমা প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পর ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার অনুমোদন ২ (দুই)টি জীবন বীমা ও ৮ টি সাধারণ বীমা। পরবর্তিতে যে সমস্ত বীমা প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক অনুমতি নিয়ে বীমা কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেসব বীমা প্রতিষ্ঠানকে বীমা কোম্পানীর নীতিমালার আওতায় সংশোধিত আকারে প্রবিধান রচিত করে তা অনুমোদনের প্রয়োজন মনে করেন অভিজ্ঞ মহল।
ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আলোকে জীবন বীমা : ইসলামের আলোকে জীবন বীমা ব্যবস্থা এখন অনেকটা বিতর্কের উর্ধ্বে চলে এসেছে। যদিও এ সম্পর্কে আরও ব্যাপক আলোচনা পর্যালোচনা প্রয়োজন। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা প্রভৃতি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় দেশ সমূহে ইসলামি বীমা কোম্পানী সমূহ বিভিন্ন আদলে মডেল কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করেছে। (চলবে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ