ঢাকা, সোমবার 13 February 2017, ০১ ফাল্গুন ১৪২৩, ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

৩৫ বছরেও গঙ্গাবাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় স্থাপিত গঙ্গা ব্যারেজ

কৃষি সেচ ব্যবস্থা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য দীর্ঘ ৩৫ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি গঙ্গাবাঁধ প্রকল্প। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা তালবাড়িয়া পদ্মা নদীর উপর প্রস্তাবিত গঙ্গা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প ফাইলটি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে লাল ফিতায় বন্দি হয়ে আছে। ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি সেচ সুবিধা, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন ও কৃষি উৎপাদনে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। জানা যায়, বন্যা ও খরা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ও ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তর ৮ টি জেলার ৬১ লাখ ৪০ হাজার একর কৃষিজমিসহ দেশের সর্ববৃহৎ গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের ৩ লাখ একর জমিতে আধুনিক চাষাবাদ সেচ সুবিধা প্রদান, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, খরা মওসুমে লবণাক্ততা রোধে ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিক রাখতে ১৯৬৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষজ্ঞ দল গঙ্গাবাঁধ নির্মাশের জন্যে পর্যবেক্ষণ শেষে নির্মাণকাল নির্ধারণ করে। এ প্রকল্পের ব্যয় ধার্য করা হয় ৭ হাজার ৩শ’ ২৫ কোটি টাকা। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশের পক্ষে এ বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন অসম্ভব হয়ে পড়ে। কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর রাজশাহী ও পাবনার উপর দিয়ে প্রবাহিত প্রায় ২৯ টিরও বেশি নদী, হাজার হাজার পুকুর, অসংখ্য খাল বিল বাঁওড় খরা মওসুমে পানি শূণ্য হয়ে পড়ে। ১৯৮০ সালের প্রথমদিকে তৎকালীন বিএনপি সরকার গঙ্গাবাঁধ নির্মাণ করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তৎকালীন বিদ্যুৎ পানি সম্পদ ও বন্য নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কাজী আনোয়ার-উল হক ১৯৮০ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানার বাহিরচরে গঙ্গাবাঁধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এখানে গেষ্ট হাউজ ও প্রকল্পের গবেষণা মডেল তৈরি করেন। সময়ের ব্যবধাসে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পদ্মা নদীর ভাঙনে মডেলের কিছু অংশ বিলীন হয়ে গেছে। বাকি যেটুকু রয়েছে তাও গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে।  তথ্যসূত্রে জানা যায়, ১৯৮০ সালের পরিকল্পনা মোতাবেক গঙ্গাবাঁধের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয় ৬ হাজার ৯ম ৯০ ফুট। ভারতের ফারাক্কার বিকল্প বাঁধ বা এন্টি ফারাক্কা হিসাবে পরিচিত গঙ্গা ব্যারেজের গেটের সংখ্যা ছিল ১০০ শতটি । ৬০ ফুট ও ৩৫ ফুট দৈর্ঘ্য প্রস্থ বিশিষ্ট এ সকল গেটে পানির নির্গমণ ক্ষমতা ধরা হয়েছিল  ২৫ লাখ কিউসেক। একই সাথে বিশাল জলধারা সৃষ্টি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা  হয়েছিল। গঙ্গা ব্যারেজের মূল উদ্দেশ্য ছিল পদ্মা নদীর ডান পাশ দিয়ে বয়ে চলা মাথাভাঙ্গা, চন্দনা ও গড়াই নদীকে খাল হিসাবে ব্যবহার করে বিস্তীর্ণ এলাকায় সেচ সুবিধা ও পানির হিস্যা পৌঁছে দেয়া। ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালের মাধ্যমে গড়াই, নবগঙ্গা, কুমার, চিত্রা নদী, আড়িয়াল খাঁ ও কপোতাক্ষ নদের সারা বছর পানি প্রবাহ ঠিক রেখে এসব এলাকায় চাষাবাদ পদ্ধতির উন্নয়নসহ এ অঞ্চলের পানি প্রবাহ ঠিক রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পটি দীর্ঘ ৩৫ বছরেও সম্পন্ন হয়নি।  ফারাক্কার বিরুপ প্রভাব ও বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ও জনপদ রক্ষার জন্য ফারাক্কা বাধের বিকল্প হিসাবে গঙ্গা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা আজ এ অঞ্চলের গণমানুষের দাবীতে পরিণত হয়েছে।  এ গঙ্গাবাঁধ প্রকল্পটি চালু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখ লাখ একর জমি সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। কৃষক ও কৃষি ব্যবস্থা চাঙ্গা হবে। গঙ্গা পানির ফলে এ এলাকার ৪ কোটি মানুষ গঙ্গা নদীর পানির সুফল ভোগ করবে। কুষ্টিয়া জেলার ৮ দশমিক ১৬৪ লাখ একর, বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার ১১ দশমিক ৬৪ একর, বৃহত্তর যশোর জেলার ১৫ দশমিক ১৮১ লাখ, বৃহত্তর খুলনা জেলার ৬ দশমিক ৭৪৮ লাখ একর, বৃহত্তর রাজশাহী জেলার ১২ দশমিক ১৬৩ লাখ একর জমিতে ৩ ফসলী আবাদসহ দেশের শতকরা ৩৭ ভাগ কৃষি শিল্প মৎস্য ব্যবস্থার উন্নয়নে নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে। দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও মরুময়তা থেকে রক্ষার জন্য এবং কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নের গঙ্গাবাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা এতদঅঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবী। তাই দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে গঙ্গাবাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জনসাধারণের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ