ঢাকা, সোমবার 13 February 2017, ০১ ফাল্গুন ১৪২৩, ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কলারোয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে লাখ লাখ টাকার পণ্য চোরাচালান

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : কলারোয়া সীমান্ত পথে আবারো প্রকাশ্য দিবালোকে রাজপথ দখল করে ব্যাপকভাবে লাখ লাখ টাকার চোরাচালানী পণ্য আনা নেয়া শুরু হয়েছে।
এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, চোরাচালানী পণ্য কখনো মটর সাইকেলে, ইঞ্জিন চালিত ভ্যানে, নসিমনে, মাইক্রো, প্রাইভেটে বা পিকআপে বহন করে দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আবার বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে নানা প্রকার পণ্য ভারতে পাচারের উদ্দেশে সাইকেল, মটর সাইকেল, ইঞ্জিন চালিত ভ্যানযোগে সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
প্রকাশ্য দিবালোকে সীমান্তের কেড়াগাছি থেকে বালিয়াডাঙ্গা বাজার হয়ে ঝাউডাঙ্গা বাজার সড়কে, দক্ষিণ ভাদিয়ালী থেকে বোয়ালিয়া- লাঙ্গলঝাড়া হয়ে কলারোয়াগামী সড়কে; বোয়ালিয়া পাচপোতা হয়ে কলারোয়া সড়কে; দমদম হয়ে কলারোয়া বা ব্রজবাকসা সড়কে এবং সোনাবাড়িয়া হয়ে বাগআঁচড়া সড়কে চোরাচালানী পণ্যবাহী বেপরোয়া গতির মটর সাইকেল, নসিমণ ও ইঞ্জিন চালিত ভ্যানে ভারতীয় পণ্য দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে।
এছাড়া চান্দা ও বড়ালী সীমান্ত পথে পাচার হয়ে আসা পণ্যগুলো একইভাবে বেপরোয়া গতির যানে রামকৃষপুর বা বুঝতলা হয়ে বাগআচঁড়ায় প্রবেশ করে। হিজলদী সুলতানপুর ও চান্দুড়িয়া সীমান্ত পথে পাচার হয়ে আসা পণ্য ন’কাটির বিলের ভিতরের রাস্তায় বাগআঁচড়ায় প্রবেশ করে। আবার এ্কই রুটে এবং একই ঘাট দিয়ে বাংলাদেশ থেকে কিছু পণ্য ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছে। কলারোয়া এবং বাগআঁচড়া ভারতীয় পণ্য ট্রাক বা পিকআপ বোঝাই হয়ে যশোর, নাড়াইল, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করছে। আবার অভ্যান্তরীণ রুটে কলারোয়ার সরসকাটি হয়ে কেশবপুর এবং খোর্দ্দ হয়ে মনিরামপুর দিয়ে খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলায় প্রবেশ করছে। সীমান্তের কেড়াগাছি চারাবাড়ি, কেড়াগাছি রথখোলা, কেড়াগাছি কুটিবাড়ি, কেড়াগাছি গাড়াখালী, দক্ষিণ ভাদিয়ালী, ভাদিয়ালী তেতুলতলা, উত্তর ভাদিয়ালী কামারপাড়া, রাজপুর খা বাগান, চান্দা স্লুইচ গেট, বড়ালী, হিজলদী ভদ্রশাল, হিজলদী শিশুতলা, সুলতানপুর, সুলতানপুর তালসারি, গোয়ালপাড়া, চান্দুড়িয়ায় ঘাট দিয়ে আনা ভারতীয় পণ্য এসব রাস্তায় প্রবেশ করছে। চোরাচালানী পণ্য আনা নেয়ার জন্য কেড়াগাছি থেকে বড়ালী পর্যন্ত সোনাই নদী সীমান্তে এবং গোয়ালপাড়া, চান্দুড়িয়ায় ইছামতি নদী সীমান্তে শতাধিক নৌকা মজুত রাখা হয়েছে। আর কেড়াগাছির দক্ষিণ সীমান্ত এবং হিজলদী থেকে পূর্ব গোয়ালপাড়ার ডাঙ্গা সীমান্তে কাটাতারের বেড়ার গেট ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে খুলে চোরাচালানী পণ্য আনা-নেয়া হয়।
সীমান্তে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, ক্ষেত্র বিশেষে স্থানীয় কতিপয় মেম্বর, চেয়ারম্যান জড়িয়ে থাকায় চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ কার্যত দূরহ হয়ে পড়েছে।এদিকে এই চোরাচালানের সংগে সীমান্ত প্রহরায় নিয়োজিত অসাধু বিজিবি, ছাড়াও অসাধু পুলিশ ঘাট ডাক দিয়ে চোরাচালানে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ