ঢাকা, সোমবার 13 February 2017, ০১ ফাল্গুন ১৪২৩, ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে লাইটারেজ জাহাজ শ্রমিকদের কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত

চট্টগ্রাম অফিস : গতকাল রোববার চট্টগ্রামে লাইটারেজ জাহাজ শ্রমিকদের কর্মবিরতির  দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হয়েছে। ধর্মঘটের ফলে কর্ণফুলী নদীর ১৭টি ঘাটে পণ্য ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় নদীপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।
বাংলাদেশ লাইটার জাহাজ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ইছা মিয়া জানিয়েছেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর সরকার, জাহাজ মালিক ও শ্রমিকদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে শ্রমিকদের বেতন ছয় হাজার ৯৫০ থেকে তিন হাজার টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এ সিদ্ধান্ত জুলাই-২০১৬ থেকে কার্যকর করার কথা। এ কারণে জাহাজ মালিকরা নদীপথে লাইটার জাহাজে পণ্য পরিবহনের ভাড়া টনপ্রতি সর্বনিম্ন ৫৭ থেকে সর্বোচ্চ ১৩৩ টাকা বাড়িয়ে দেন। কিন্তু যাদের নাম করে ভাড়া বাড়ানো হয়, সে শ্রমিকদের বর্ধিত বেতন-ভাতা না দেওয়ায় শুক্রবার রাত ১২টা থেকে নৌযান ধর্মঘট শুরু করে লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন। জানা গেছে,চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের আমদানি পণ্য নিয়ে আসা মাদার ভেসেল থেকে নদীপথে পণ্য পরিবহন করে সহস্রওাধিক লাইটার জাহাজ। এসব জাহাজের শ্রমিকদের ধর্মঘটের ফলে পণ্য পরিবহন হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
এদিকে নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট নিরসনে ব্যবস্থা নিতে নৌমন্ত্রীর প্রতি চিটাগাং চেম্বার সভাপতি আহবান জানিয়েছেন।গতকাল রোববার দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি মাহবুবুল আলম নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহারে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি’র প্রতি  এক পত্রের মাধ্যমে আহবান জানিয়েছেন। পত্রে তিনি বলেন- গত ১১ ফেব্রুয়ারী শনিবার সকাল থেকে কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক লাইটারেজ জাহাজ শ্রমিক ইউনিয়নের একাংশ কর্মবিরতি শুরু করে। কর্ণফুলী নদীর ১৬টি ঘাটে ৬০টি লাইটারেজ জাহাজ থেকে ভোগ্যপণ্য, সার ও শিল্পের কাঁচামাল খালাসের কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে চট্টগ্রাম থেকে সারাদেশে এসব পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এ কর্মবিরতি অব্যাহত থাকলে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মাদারভেসেল থেকে পণ্য খালাস মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে। এ প্রসংগে উল্লেখ্য, বর্ধিত মজুরি বাস্তবায়নের দাবিতে লাইটারেজ শ্রমিকরা বিগত কয়েক মাসে বার বার কর্মবিরতি পালন করে। ফলশ্রুতিতে ভোগ্যপণ্য ও কাঁচামাল খালাসের ক্ষেত্রে বিঘœ সৃষ্টি হয় এবং কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস বৃদ্ধি পায়। নৌযান শ্রমিক ও মালিকদের মজুরি সংক্রান্ত দ্বন্দের কারণে পণ্য আটক করে আমদানিকারকদের জিম্মি করার অপচেষ্টা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না বলে মনে করেন চেম্বার সভাপতি।  
তিনি পত্রে উল্লেখ করেন, এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে জাহাজজট, কন্টেইনারজট এবং যানজটের কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিগত কয়েক মাসে বন্দরের কন্টেইনারজট কিছুটা হ্রাস পেলেও নতুন করে শ্রমিক ধর্মঘট সার্বিক পরিস্থিতিকে আবারও বিশৃংখলার দিকে ধাবিত করবে। তাই নৌযান শ্রমিকরা যাতে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারীতে কাজে যোগদান করে তা নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে নৌমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানান মাহবুবুল আলম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ