ঢাকা, সোমবার 13 February 2017, ০১ ফাল্গুন ১৪২৩, ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রায়পুর সরকারি কলেজে শিক্ষক সংকট ॥ পাঠদান ব্যাহত

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা : উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিট রায়পুর সরকারি কলেজ। ষাটের দশকে চারজন শিক্ষক ও একশত বিশজন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান শুরু। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দুই সহস্রাধিক।
তবে শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষকের সংখ্যা একবারেই কম। সমাজ সেবক তৎকালীন জমিদার মিয়া বংশের মৌ. আলী আহম্মদ চৌধুরী লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার কেরোয়া গ্রামে (রায়পুর-পানপাড়া সড়কের পাশে) সাড়ে ১৪ একর সম্পত্তিতে এলাকার কয়েকজন শিক্ষানুরাগী নিয়ে ১৯৭০ সালে কলেজটি একাদশ শ্রেণি ও ১৯৮০ সালে স্নাতক (পাস) শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম শুরু করে। পরে ১৯৮৭ সালের ২৮ মার্চ প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণ করা হয়।
জানা জায়, অধ্যক্ষসহ এ কলেজে ১৭ জন শিক্ষক পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৮ জন। সংকট রয়েছে ৯ জন। এমন পরিস্তিতিতে পাঠদান অনিয়মিত হয়ে শিক্ষা কার্যক্রম হুমকির মধ্যে রয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।  বর্তমানে বাংলা বিভাগে একজন প্রভাষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক একজন, ইসলামের ইতিহাস বিভাগে একজন, ব্যবস্থাপনা বিভাগে দুইজন, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে একজন করে নেই। অর্থনীতি, পদার্থবিজ্ঞান ও কৃষিশিক্ষা বিভাগে প্রভাষক পদ শূন্য রয়েছে।
শিক্ষক সংকটের এ পরিস্থিতিতে নিয়মিত  শ্রেণি কার্যক্রম চলছে না। পাঠদান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা নিদিষ্ট সিলেবাস শেষ করতে পারেনা। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। জেনারেল বিষয়ের পাশাপাশি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচএসসি ও স্নাতক (পাস) পর্যায়ে পড়াশুনা করতে পার্শবর্তী উপজেলা চাঁদপুরের হাইমচর, ফরিদগঞ্জের গৃদকালিন্দিয়া, রামগঞ্জ থেকে শিক্ষার্থীরা রায়পুর সরকারি কলেজে এসে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করছে। কিন্তু শিক্ষক সংকট দূর করতে  না পারলে শিক্ষার্থীরা এ কলেজ থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ হারাবে।
বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, একাদশ, এইচএসসি ও স্নাতক (পাস) পর্যায়ের শিক্ষক না থাকায় অতিথি শিক্ষক সহ অন্য বিভাগের শিক্ষকরা আমাদের ক্লাশ করান। কলেজ খোলা থাকলে ও শিক্ষকের অভাবে পাঠদান হয় না।  বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র হৃদয় চন্দ্র দাশ ও ব্যবসা শিক্ষা শাখার ছাত্র রাকিব হোসেন বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত ক্লাস করা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষক না থাকায় আমাদের পড়ালেখা ঠিক মত হচ্ছে না।
অভিভাবকরা জানান, কলেজ শিক্ষক সংখ্যা কম। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই। বেশিরভাগ শিক্ষক প্রাইভেট পড়াতে ব্যস্ত থাকে, এভাবে উপজেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিট চলতে পারে না। তারা এখন সন্তানদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকন্ঠায় রয়েছেন। খুব শিগগিরই শিক্ষ সংকট দূর করে ক্লাস কার্যক্রম নিয়মিত করার আহ্বান তাদের।
রায়পুর সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান প্রভাষক মামুন খান ও যুক্তিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ হানিফ মিয়া বলেন, কলেজের দীর্ঘদিনের এ অবস্থার কারণে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রভাষক মো: মনিরুল ইসলাম বলেন গত ছয় মাস ধরে প্রায় চার হাজার বই সংরক্ষণ করে গ্রন্থাগারিক চালু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আসবাবপত্র সরবরাহ ও পুরোনোগুলো মেরামত করার জন্য সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানে পত্রিকা ও ম্যাগাজিন, রোবার স্কাউট ও শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠ চক্রের উদ্যেগ নেয়া হয়েছে। 
রায়পুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: আব্দুল কাদের শিক্ষক সংকটের বিষয়টি  নিশ্চিত করে বলেন, ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারিতে যোগদান করি। ১৭ জনের মধ্যে শূন্য পদে ৯ জন শিক্ষকের জন্য মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয় ও ডিজির কাছে পাঁচবার সহ গত ২৬ শে জানুয়ারী শেষ শূন্য পদের তালিকাসহ লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ