ঢাকা, সোমবার 13 February 2017, ০১ ফাল্গুন ১৪২৩, ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সালথায় সাংবাদিকের বয়োবৃদ্ধ পিতাকে কুপিয়ে জখম

ফরিদপুর সংবাদদাতা : ফরিদপুরের আওযামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
গতকাল রোববার ভোরে এ ঘটনা ঘটে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের নিধিপট্টি গ্রামের বাসিন্দা, ফরিদপুর হতে প্রকাশিত দৈনিক বাঙালি খবর পত্রিকার সম্পাদক সেলিম মোল্যার বাড়িতে।
এসময় হামলাকারীদের অস্ত্রাঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে ওই সাংবাদিকের বয়োবৃদ্ধ পিতা মান্নান মোল্যা (৬৮) কে। হামলাকারীদের রোষ থেকে বাদ পরেনি  সাংবাদিকের বৃদ্ধ মা সালেহা বেগম (৬০) ও ছোট ভাই সিরাজ মোল্যার স্ত্রী পান্না (২৮)। তাদেরকেও মারপিট করে আহত করা হয়েছে।
রিপোর্ট লেখার সময় বেলা সাড়ে ১২টায় গুরুতর আহত আব্দুল মান্নানকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে অপারশেন করছিলেন চিকিৎসকেরা। তার মাথায়, হাতে ও পায়ে ৭টির মতো কোপ লেগেছে। তার অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
সাংবাদিক সেলিম মোল্যা অভিযোগ করেন, সালথা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইমারত হোসেন পিকুল, শ্রমিক লীগের সভাপতি সৈয়দ আলী মাতুব্বর, মানি মাতুব্বরসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের দলাদলি ও দুর্নীতি নিয়ে ইতঃপূর্বে একাধিক সংবাদ প্রকাশ করার জের ধরে সালথা থানার ওসির ইন্ধনে এ হামলা করেছে। এতে তার প্রায় ২ কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট হয়েছে। সেলিম অভিযোগ করেন, গত ১৫ দিন যাবত এ হামলার প্রস্তুতি নেয়া হয়। এনিয়ে স্থানীয় পত্রিকায় খবরও প্রকাশিত হয়। পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। সবশেষ শনিবার রাতে সালথা থানার ওসির রুমে বসে পরামর্শ করে এ হামলা করে।
তবে সালথা থানার ওসি ডিএম বেলায়েত হোসেন এ অভিযোগ অস্বীকার করে নয়াদিগন্তকে বলেন, মানি মাতুববরের সাথে পেঁয়াজের ক্ষেতে পানি দেয়া নিয়ে বিবাদ হয় সেলিম মোল্যাদের। এর জের ধরে রোববার সকালে একদল লোক নিধিপট্টি গ্রামে যায়।
এসময় সেলিম মোল্যার ভাই সিরাজ মোল্যাকে স্থানীয় মেম্বর সৈয়দ আলীর ভাইকে কাতরা দিয়ে কোপ দিলে উত্তেজিত জনতা তাদের বাড়িতে হানা দেয়। এসময় তার বৃদ্ধ পিতাকেও কোপায় তারা। সালথা এলাকাটি প্রাগৈতিহাসিক এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানকার লোকেরা কথায় কথায় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গন্ডগোলে লিপ্ত হয়।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইমারত হোসেন পিকুল নয়াদিগন্তকে বলেন, সকাল বেলায় রাশেদ মাতুব্বরের ভাস্তে জিহাদ ও সিরাজের সাথে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি ও গণ্ডগোল হয়। এরপর যারা লোকজনে বেশি তারাই জিতেছে। সালথা এলাকাটি দলপক্ষের দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ রাশেদ মাতুব্বর হিংস্র প্রকৃতির। গণ্ডগোল ফ্যাসাদ বাধিয়ে সালিশ বাণিজ্য করা তার কাজ। তবে তিনি এ ঘটনার সাথে জড়িত নন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ