ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 February 2017, ০৪ ফাল্গুন ১৪২৩, ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নির্বাচন কমিশন গঠনে এখনই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

সংসদ রিপোর্টার: নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের জন্য এখন থেকেই উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ই-ভোটিং ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গতকাল বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে টেবিলে উত্থাপিত জাতীয় পার্টির সংরক্ষিত সংসদ সদস্য নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই পরবর্তীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের লক্ষ্যে একটি উপযুক্ত আইন প্রণয়ন করা হোক। সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে এখন থেকেই সেই উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বর্তমানে বিরাজমান সব বিধি-বিধানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে জনমানুষের ভোটাধিকার অধিকতর সুনিশ্চিত করার স্বার্থে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ই- ভোটিং’ এর প্রবর্তন করার পরিকল্পনাও বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে।

নির্বাচন কমিশন গঠন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেন। সংবিধানের আলোকে রাষ্ট্রপতি যেমন উপযুক্ত বিবেচনা করেন, সেই প্রক্রিয়ায় তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সম্পন্ন করেন। মরহুম রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান সাংবিধানিক পদের অধিকারীদের সমন্বয়ে গঠিত সার্চ কমিটির মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনার নিয়োগ প্রথা চালু করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারও রাষ্ট্রপতি বাছাই কমিটির মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে তার নিজ প্রজ্ঞায়, স্বীয় বিবেচনায় ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করেছেন। রাষ্ট্রপতি সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সুগভীর প্রজ্ঞা ও সুবিবেচনার প্রতি আমাদের পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে।

সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ (বুধবার) কিছুক্ষণ আগে শপথগ্রহণ করেছেন। তাদের সবাইকে আমি অভিনন্দন জানাই। পুনর্গঠিত নির্বাচন কমিশন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নির্বাচন কমিশনার হিসেবে একজন নারীকে নিয়োগ দেয়ায় আমরা আনন্দিত ও গর্বিত।

গতকাল বিকেলে দশম জাতীয় সংসদের ১৪তম অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ পাকিস্তানের জুনায়েদ আহমেদ রচিত গ্রন্থ ‘ক্রিয়েশন অব বাংলাদেশ: মিথস এক্সপোডেড’-এর প্রতিবাদ জানান।

ওই বইতে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী দ্বারা এদেশের গণহত্যাকে মুক্তিবাহিনীর হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে। বইটির নিন্দা জানিয়ে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ঘোষণার দাবি করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালন করার উদ্যোগ নিতে হবে। দিনটিকে যাতে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করা হয় সেজন্য সংসদে প্রস্তাব আনতে হবে।

আন্তর্জাতিকভাবে যাতে এই দিবসটি পালিত হয় সেজন্য আমরা বিভিন্ন দেশের কাছে গণহত্যা সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করব। ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস, এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

সরকারের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে বইটি প্রসঙ্গে প্রতিবাদ জানানো হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ২৫শে মার্চকে গণহত্যা দিবস পালনের প্রস্তাব দেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান যে গণহত্যা চালিয়েছে তাদেরকে বার বার বলা হয়েছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য। তারা ক্ষমা তো চায়ইনি উল্টো তাদের পাপের বোঝা মুক্তিবাহিনীর উপর চাপিয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ২৫শে মার্চ ১৯৭১ সালে যে গণহত্যা চালিয়েছিল তারা কাউকে বাদ দেয়নি। আমাদেরকে উদ্যোগ নিতে হবে। ২৫শে মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে আমাদের গ্রহণ করতে হবে। এজন্য সংসদে যথাযথ প্রস্তাবনা আনতে পারি এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাবো যাতে করে ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

এ বিষয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ঘোষণার যে প্রস্তাব দিয়েছেন। একই প্রস্তাব একজন সংসদ সদস্যও দিয়েছেন। আগামী অগ্নিঝরা মার্চের যে কোনো দিনে সংসদে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ