ঢাকা, শুক্রবার 17 February 2017, ০৫ ফাল্গুন ১৪২৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভাষা আন্দোলনে সংবাদপত্রের ভূমিকা

জিবলু রহমান : ১৯৪৮-১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন চলাকালীন প্রকাশিত দৈনিক আজাদ, পাকিস্তান অবজারভার, দৈনিক ইনসাফ প্রভৃতি সংবাদপত্রগুলো খবর, প্রতিবেদন, সংবাদ-নিবন্ধ, উপ-সম্পাদকীয় এবং কবিতা, গান, কার্টুন ইত্যাদি প্রকাশের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলন তথা এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের স্বপক্ষে লড়াই করতে থাকে। এ সংবাদপত্রগুলো ভাষা আন্দোলনে কতোটা প্রভাব বিস্তার করেছিল- সম্ভবত তার প্রকৃত প্রমাণ পাওয়া যাবে ২১ ফেব্রুয়ারির ঘটনা সংবলিত ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত তমদ্দুন মজলিসের মুখপত্র সাপ্তাহিক সৈনিক-এর শহীদ সংখ্যার প্রচার মাত্রা দেখে। 

সাপ্তাহিক সৈনিক-এর এই সংখ্যার জনপ্রিয়তা এতোই ছিল যে, মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে হাজার হাজার কপি পত্রিকা বিক্রি হয়ে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ একইদিনে তিনটি সংস্করণ বের করতে বাধ্য হন। বিভিন্ন্ সংবাদপত্র ভাষা আন্দোলনে শুধু জনমতই সংগঠিত করেনি, তারাও ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রভাষা কর্ম পরিষদ সদস্য ছিলেন জিন্দেগী, ইনসান, ও ইনসাফ পত্রিকার সম্পাদকবৃন্দ। দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল মনসুর আহমদ তার আত্মকথা নামক গ্রন্থে ভাষা আন্দোলনে তার অংশগ্রহণ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ‘.....ভাষা আন্দোলনে আমি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করিয়াছি। বস্তুত কলিকাতা হইতেই ইত্তেহাদের লেখায় ও সংবাদের সরবরাহের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের সমর্থন শুরু করিয়াছিলাম।’

দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন ও সিলেট থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক নওবেলাল সম্পাদক মাহমুদ আলী ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশের গুলী বর্ষণের প্রতিবাদে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হতে পদত্যাগ করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। বাংলা ভাষা আন্দোলন ও জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলো দৈনিক পত্রিকার পাশাপাশি অব্যাহতভাবে চলেছিল। ভাষা আন্দোলনের সংবাদপত্রগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে কিঞ্চিত আলোচনা সহজে অনুধাবন করার জন্য খণ্ড খণ্ড করে বর্তমান উপস্থাপনায় তুলে ধরলাম।

পাকিস্তান অবজারভার : ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের চরম পর্যায়ে অবজারভার পত্রিকার পেশাদার সম্পাদক আব্দুস সালাম ভয়াবহ সরকারি নির্যাতন ভোগ করেন এবং তাঁকে কারাগারে আটক করা হয়। 

দৈনিক ইত্তেহাদ : ভাষা আন্দোলনের সূচনালগ্নে ১৯৪৭ সালের ২২ জুন কলকাতার দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকার রবিবাসরীয় বিভাগে ‘বাংলা ভাষা বিষয়ক প্রস্তাব’ এই শিরোনামে লেখক-সাংবাদিক আব্দুল হকের একটি প্রবন্ধের প্রথম অংশ ছাপা প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় অংশটি ছাপা হয় ২৯ জুন। প্রবন্ধটিতে বাংলার ভাষাগত স্বাতন্ত্র্য সম্পর্কে বলা হয়ে, ‘.....আমরা কেন আমাদের দেশে ইংরেজী উর্দু-হিন্দু বলতে বাধ্য থাকব? আমাদের দেশে যারা বাস করে সেই সব ইংরেজ বা উর্দু-হিন্দু ভাষীরা কেন বাংলা শিখতে বাধ্য হবে না? আমার মত এই যে, এদেশে যেসব ভারতীয় অথবা অবাঙালি বাস করবে, তাদের বাংলা শিখতে হবে, যদি তারা এদেশে বাস করতে চায় এবং আমাদের সঙ্গে চলতে চায়। বাংলা শেখা তাদেরই গরজ। তাদের জন্য ইংরেজী-উর্দু-হিন্দি শেখা আমাদের গরজ নয়, বরং আমাদের পক্ষে ঘোর অমার্যাদাকর।’

 দৈনিক ইত্তেহাদ এই ধরনের আরো বহু রচনায় উদ্যোগী ছিল। আব্দুল হক নিজে দৈনিক আজাদ পত্রিকার সাব এডিটর হওয়া সত্ত্বেও প্রবন্ধটি ওই দৈনিককে না দিয়ে দৈনিক ইত্তেহাদে প্রকাশ করেছিলেন। আব্দুল হকের বক্তব্য অনুযায়ী দৈনিক ইত্তেহাদের সাহিত্য সম্পাদক আহসান হাবীব ওই প্রবন্ধ প্রকাশে সহায়তা করেছিলেন। এ সময়ের আরো দুটি উল্লেখযোগ্য রচনা ছিল ২০ জুলাই প্রকাশিত মাহবুব জামাল জাহেদীর ‘রাষ্ট্রভাষা বিষয়ক প্রস্তাব’ এবং আব্দুল হকের ‘উর্দু রাষ্ট্রভাষা হলে’। ২৭ জুলাই ইত্তেহাদ পত্রিকায় আব্দুল হকের ‘উর্দু রাষ্ট্রভাষা হলে’ শীর্ষক প্রবন্ধে বলা হয়েছিল, ‘.... কোনো কোনো লোকের ইচ্ছা উর্দু রাষ্ট্র ভাষা হোক। পশ্চিম পাকিস্তানের অধিবাসী বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সম্বন্ধে সামান্যই জানেন, অতএব তাঁরা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার কথা বলতে পারেন। কিন্তু বাংলার লোক যে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার কথা বলবেন এটা আশ্চর্যজনক। এটা অসুস্থ মনোবৃত্তির পরিচায়ক এবং এরূপ মনোবৃত্তিকে সূচনায় নির্মূল করা কর্তব্য। স্বাধীনতার মর্ম যাঁরা জানেন না, পাকিস্তানের ভাষাগুলী সম্বন্ধে যাঁরা অজ্ঞ, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি যাঁদের কিছুমাত্র দরদ নেই এবং ভাষা বিশেষকে রাষ্ট্রভাষারূপে গ্রহণ করলে তার সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ফলাফল কি হতে পরে সে সম্বন্ধে যাঁরা অজ্ঞ, একমাত্র তাঁরাই বাংলাভাষী হয়েও অন্য ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার কথা বলতে পারেন।’ 

বস্তুত পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মুসলিম লিগ সরকার উর্দু ভাষাকে সুকৌশলে চাপিয়ে দেয়ার বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিষয় তালিকা থেকে বাংলা ভাষাকে বাদ দেয়া হয়। এজন রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ফজলুর রহমানের সঙ্গে এ সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনা পরিশেষে তুমুল বিতর্কে পরিণত হয়। অবশ্য ফজলুর রহমান বলেন যে, উপরোক্ত কয়েক ক্ষেত্রে বাংলা ভাষাকে বাদ দেওয়ার ব্যাপারটি একেবারেই ইচ্ছাকৃত নয়। নিতান্তই ভুল বশতই এটা ঘটেছে। এই প্রসঙ্গে দৈনিক ইত্তেহাদ ‘ভুলের পুনরাবৃত্তি’ নামে সম্পাদকীয় লিখেছিল, ‘...মিঃ ফজলুর রহমান হয়তো এগুলীকে ভুল বলিয়া চালাইবার প্রয়াস পাইবেন। কিন্তু সবকয়টি ক্ষেত্রেই বাংলা ভাষাকে ভুলে বাদ দেয়া হইয়াছে, এ কথা কে বিশ্বাস করিবে? বিচক্ষণ রাষ্ট্রনায়ক ও কর্মকর্তাদের পক্ষে এতবার একই ভুল করা কি করিয়াই বা সম্ভব। নিতান্ত ভুলও বারে বারে পুনরাবৃত্তি করিলে যে তাহাই শুদ্ধ হইয়া যায় সে খবর কি ফজলুর রহমান সাহেবের জানা নাই? পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের মাতৃভাষা ও পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষার অস্তিত্বের কথা যারা এইভাবে বারে বারে ভুলিয়া যাইতে পারেন, তাঁদের পক্ষে পূর্ব পাকিস্তানকে একদিন ভুলিয়া যাওয়া বিচিত্র নয়।’ 

দৈনিক ইত্তেহাদের সম্পাদকীয় নীতি ও গোড়া থেকেই ছিল বাংলা ভাষার পক্ষে অত্যন্ত সোচ্চার। ইত্তেহাদের এই গুরুত্বের কথা স্বীকার করে আব্দুল হক যথার্থই স্বীকার করেছেন, ‘.....উল্লিখিত সময়ে ইত্তেহাদ, সাপ্তাহিক বেগম এবং অন্যান্য পত্রিকায় একমাত্র উর্দুর বিরুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা ছিল ইত্তেহাদ-এর যা এখনো গবেষণাসাপেক্ষ।’

সাপ্তাহিক ইত্তেফাক : ১৯৫২ সালে পূর্ব বাংলার বেশ ক’টি সাপ্তাহিক পত্রিকা ভাষা আন্দোলনের সমর্থনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছিল। এর মধ্যে প্রথমেই তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার সম্পাদিত ‘সাপ্তাহিক ইত্তেফাক’ এর কথা উল্লেখ করতে হয়। এর পৃষ্ঠপোষক ছিলেন আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। মুদ্রাকর ও প্রকাশক ছিলেন ঢাকার কারকুনবাড়ি লেনের ইয়ার মোহাম্মদ খান। সাপ্তাহিক ইত্তেফাক ছাপা হতো ৯ হাটখোলা রোডের প্যারামাউন্ট প্রেস থেকে। সাপ্তাহিক ইত্তেফাক আওয়ামী লীগ ও ভাষা আন্দোলনের খবরাখবর অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করে। ইত্তেফাক প্রথম পৃষ্ঠায় ১৯৫২ সালের ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারির ঘটনাবলীর সংবাদ শিরোনা ছিল , ‘দেশের কাছে লাল ফেব্রুয়ারিরর শহীদদের ডাক আসিয়াছে।’ ‘বাংলা ভাষা সংগ্রামকে সফল করিয়া রক্তের প্রতিশোধ নাও।’ ‘নুরুল আমিন ও প্রতিশ্রুতির পিচ্ছিল পথে পা বাড়াইয়াছে। জনগণ হইতে বিচ্ছিন্ন সরকার আজ মিলিটারির জোরো বাঁচিয়া আছে।’

১৯৫২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশ্য গণআদালতে প্রাদেশিক সরকারের বিচার দাবি করে সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ‘......মুসলিম লীগ সরকার তার অতীতের সব কুকীর্তিকে ম্লান করিয়াছে, .....আহত ছাত্র ও শিশুর ক্রন্দনে ঢাকার আকাশ বাতাস মুখরিত। ছেলেহারা মায়ের বুকফাটা আর্তনাদে জনতাকে আকুল করিয়াছে। আজ পাকভূমির পাক রাজধানী এক মহাশ্মশানে পরিণত....তাই সরকারের এই বর্বরতার ক্রমবর্ধমান ব্যাপকতায় সর্বত্রই আজ বিক্ষোভ ও প্রতিরোধ জাগিয়া উঠিয়াছে....কেন তারা নিরীহ ছাত্র ও পথচারীদের ওপর বেপরোয়া গুলী চালাইয়া কতগুলো মূল্যবান জীবন নাশ করিল .... তাই দেশের অযুত কণ্ঠের সঙ্গে কণ্ঠ মিলাইয়া আমাদের ঘোষণা শুধু ছাত্র-জনতার ঘাতক সরকারি কর্মচারীদের নয়, এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের হোতা সরকারের বিচার চাই প্রকাশ্য গণআদালতে।’

সাপ্তাহিক ইত্তেফাক শুধু ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির ঘটনাবলীই নয়, পরেও ভাষা আন্দোলনের পক্ষে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। ১৭ মার্চ সাপ্তাহিক ইত্তেফাকে শহীদ দিবস পালিত হওয়ার বিস্তারিত ঘটনাবলী প্রকাশিত হয়। একটি শিরোনাম ছিল একরম, ‘লীগ শাহীর ফরমান ভেস্তে দিয়ে সর্বত্র শহীদ দিবস পালিত। জালেম সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের বলিষ্ঠ আওয়াজ। ছাত্র যুবক ও জনসাধারণের ঐক্যবদ্ধ দৃঢ় পদক্ষেপ।’ 

১৯৫৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর থেকে সাপ্তাহিক ইত্তেফাক রূপান্তরিত হয় দৈনিক ইত্তেফাক-এ। 

সাপ্তাহিক সৈনিক : তমদ্দুন মজলিসের পত্রিকা সাপ্তাহিক সৈনিক শুরু থেকে বাংলা ভাষা প্রশ্নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে। বয়সের দিক থেকে সাপ্তাহিক সৈনিক নওবেলাল থেকে এগারো মাস ছোট। বয়সে ছোট হলেও এ পত্রিকাটি দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে ভাষা আন্দোলনকে সমর্থন করার কারণে। সৈনিক প্রথম প্রকাশিত হয় ১৪ নভেম্বর, ১৯৪৮ (২৮ কার্তিক, ১৩৫৫)। প্রথমে এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী পরে আব্দুল গফুর। প্রকাশিত হত ১৯, আজিমপুর রোড, ঢাকা থেকে। ১ম সংখ্যার সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ‘.....অনেক বাধা-বিঘœ পার হইয়া সৈনিক আজ লড়াই-এর ময়দানে আসিয়া হাজির হইল। পুরোনো দুনিয়ার ইমারত হইতে ইট খসিয়া পড়িতেছে। যে নীতিবোধ ও ধ্যানধারণার উপর এতো দিনকার জগৎ প্রতিষ্ঠিত ছিল তাহাতেও আজ ফাটল ধরিয়াছে ......মানুষে মানুষে, জাতিতে জাতিতে হানাহানি থামানো দূরের কথা, আজ তাহা হাজার গুণে বাড়িয়া গিয়াছে.....দুসরা মহাসমরের পর দুনিয়া জোড়া মানুষের মনে নূতন করিয়া যে অশান্তির ঝড় উঠিয়াছে পাক জনগণও তাহা হইতে বাদ যায় নাই। বরং পাকিস্তানে এই হতাশা আর বিশৃঙ্খলা যেন সকল সীমা-সরহদ্দ ছাড়াইয়া যাইতে বসিয়াছে। সাধারণ মানুষের সামনে পাকিস্তান সম্বন্ধে একদিন এক রঙিন স্বপ্ন তুলিয়া ধরা হইয়াছিল-কিন্তু কোনো মজবুত আদর্শের বুনিয়াদ তাদের মধ্যে খাড়া করা হয় নাই....ক্ষমতা হাতে পাইয়া নেতারা নিজ নিজ স্বার্থ আদায় করিতে উঠিয়া পড়িয়া লাগিয়াছেন আর দরিদ্র জনসাধারণ-ছাত্র, শিক্ষক, কিষাণ, শ্রমিক, যাদের ঐতিহাসিক কোরবানীর ফলে পাকিস্তান হাসিল হইয়াছে নিজেদের ভবিষ্যৎ ভাবিয়া আজ তারা শংকিত ও সন্তস্ত্র.....তাদের ভাত-কাপড়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের দাবী এতটুকু মিটে নাই। নিজেদের দাবী-দাওয়া এ আশা আকাংখার জন্য লড়িবার মনোবৃত্তিও আজ তাদের উবিয়া যাইতেছে। যাকে সামনে রাখিয়া তারা লড়িবে....তেমন কোনো মজবুত আদর্শ তাদের না থাকায় তাদের নৈরাশ্য আজ চরমে পৌঁছিয়াছে এবং তারি ছিদ্রপথে পাকিস্তানের দুশমনেরা আমাদের মাঝে ঢুকিয়া পড়িতেছে.....আমরা কায়েদে আজমের বিপ্লবী আদর্শের উত্তরাধিকার বহন করিতেছি। এদেশের পুঁজিপতি ও জমিদারদিগকে কায়েদে আজম কী বলিয়াছিলেন, বড়ো বড়ো শিল্প জাতীয়করণ সম্বন্ধে তাঁর কী ধারা ছিল, সর্বোপরি কোন ন্যায়-নীতির উপর পাকিস্তানের বুনিয়াদ তিনি খাড়া করিতে চাহিয়াছিলেন-সৈনিক তাহা ভুলিতে পারে না...।’

১৯৪৮ সাল থেকেই এই পত্রিকার সংবাদ প্রতিবেদন, সম্পাদকীয়, উপ-সম্পাদকীয়, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, কার্টুন প্রভৃতি শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করে। তমদ্দুন মজলিসের মুখপত্র সাপ্তাহিক সৈনিক বাংলা ভাষা বিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য ও খাজা নাজিম উদ্দিনের বক্তৃতার তীব্র সমালোচনা করে বলেছিলেন, ‘উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্টভাষা করিবার চক্রান্তকে রুখিয়া দাঁড়াইতে হইবেঃ নাজিম উদ্দিনের বক্তৃতায় প্রদেশব্যাপী বিক্ষোভ।’

 নাজিম উদ্দিনের বিবৃতির প্রতিবাদ করে এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবী জানিয়ে পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিসের ঢাকা কেন্দ্রের আহ্বায়ক মিঃ মাহফুজুল হক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তমদ্দুন মজলিসের সম্পাদক মিঃ শাহাবুদ্দীন খালেক সংবাদপত্রে যে বিবৃতি দেন তাও ওই সংখ্যা সৈনিকে প্রকাশিত হয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশের গুলীবর্ষণে এবং কয়েকজন শহীদ হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার পর ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয় সপ্তাহিক সৈনিক-এর শহীদ সংখ্যা। লাল কালিতে ও লাল র্ডার দিয়ে প্রকাশিত এই সংখ্যায় খবরের উল্লেখযোগ্য শিরোনামগুলো ছিল, ‘শহীদ ছাত্রদের তাজা রক্তে রাজধানী ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত। মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেলে ছাত্র সমাবেশে নির্বিচারে পুলিশের গুলীবর্ষণ। বৃহস্পতিবারেই ৭ জন নিহত, ৩ শতাধিক আহত, ৬২ জন গ্রেফতার, শুক্রবারেও ব- সংখ্যক লোক হতাহত, রক্তের বিনিময়ে রাষ্ট্রভাষা করার শপথ বিঘোষিত।’

 সাপ্তাহিক সৈনিকের শহীদ সংখ্যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ফলে সংখ্যাটি প্রথম পর্যায়, দ্বিতীয় পর্যায়, তৃতীয় পর্যায় হিসাবে তিনবার মুদ্রিত হয় এবং প্রতি পর্যায়েই সংযোজিত হয় নতুন নতুন খবর ও প্রতিবেদন। সৈনিকের বিপুল কাটতি ও জনপ্রিয়তা সম্পর্কে শহীদ সংখ্যার তৃতীয় পর্যায়ে বলা হয়েছিল, ‘....২৩ ফেব্রুয়ারি সকালে সৈনিকের হাজার হাজার কপি নিঃশেষ হইয়া যায়। জনতার উপর্যুপরি অনুরোধে আমরা দুপুরে বিশেষ সংখ্যার ২য় পর্যায়ে প্রকাশ করি। কিন্তু তাহা নিঃশেষ হইয়া যায়। জনতা এবং হকাররা আবারো অফিসে হামলা করিতে শুরু করায় আমরা একইদিনে আবার তৃতীয় পর্যায় বাহির করিতে বাধ্য হইলাম।’

মাসিক অগত্যা : চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে সীমান্ত, ‘কৃষ্টি’, ‘সংকেত’ ইত্যাদি প্রকাশ হলেও ‘কৃষ্টি’ ও ‘সংকেত’ এক-দুই সংখ্যার বেশী প্রকাশিত হয়নি। আর সীমান্ত মাসিক হলেও অনিয়মিতভাবে বের হচ্ছিল এবং তাও চট্টগ্রাম থেকে। অতএব ঢাকার প্রগতিপন্থী লেখক-সাহিত্যিকদের ভাব ও বক্তব্য প্রকাশের মাধ্যম তখনও সৃষ্টি হয়নি। মোহাম্মদী, মাজেনও, দিলরুবা প্রভৃতিতে প্রগতিবাদীদের স্থান ছিল না। এমতাবস্থায তরুণ প্রাণের অকৃত্রিম হৃদয়াকুতি এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনের একটি উপযুক্ত পত্রের প্রকাশনার তাগিদ থেকেই আষাঢ় ১৩৫৬, জুন ১৯৪৯ সনে ১০৭ ইসলামপুর, ঢাকা থেকে ‘অগত্যা’ প্রকাশিত হলো-যার কর্ণধার প্রতিভাদীপ্ত একদল সমবয়সী তরুণ, পরবর্তীকালে এদের অধিকাংশই বাংলাদেশের ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন। অগত্যার প্রকাশক ও মুদ্রাকর হিসেবে নাম ছাপা হতো আবু সাঈদ নাসির-এর। সাধারণ উপদেষ্টা ফতেহ লোহানী। সম্পাদক সমবায়তে ছিলেন খোন্দকার আব্দুল হামিদ (বিশ্বপরিক্রমা), তসিকুল আলম খাঁ (সংস্কৃতি সংবাদ), সাবের রেজা করীম (প্রচার), সৌষ্ঠব রচনা ও আঙ্গিক পরিকল্পনায় কামরুল হাসান এবং সিন্দবাদ; সঙ্গীতে আব্দুল আহাদ; স্টুডিওর সংবাদে কাজী আলাউদ্দিন, এবং সম্পাদক ফজলে লোহানী।

‘অগত্যা’র প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যায় আত্মপরিচিতি দেয়া হয় বিচিত্র মাসিকপত্র বলে। বর্ষ আরম্ভ হয় আষাঢ় ১৩৫৬ থেকে। প্রতি বাংলা মাসের প্রথম এবং খ্রীস্টিয় মাসের তৃতীয় সপ্তাহে প্রকাশিত হয় বলে ঘোষণায় বলা হয়। মূল্য প্রতিসংখ্যা আট আনা। বলা হতোঃ ‘অগত্যা’র প্রচার সুরুচিসম্পন্ন পাঠক এবং সুসংস্কৃত ছাত্র সমাজ-এ’। আরও বলা হয় ঃ ‘অগত্যা একমাত্র প্রগতিশীল সাহিত্য পত্রিকা। জীবন, সাহিত্য, চলতি ঘটনা, বিশ্ব পরিস্থিতি, সিনেমা, বেতার, দর্শন, বিজ্ঞান, কারুকলা, সমালোচনা এবং আমাদের কৃষ্টি ও অগ্রগতির একমাত্র পরিচাযক। মননশীল রুচিসম্পন্ন সাহিত্য রচনাই অগত্যার উদ্দেশ্য। রাজনীতির সঙ্গে অগত্যার কোন সম্পর্ক নেই। কোন দল বা গোষ্ঠীর প্রচারপত্র অগত্যা নয়। অগত্যা আপনার আমার সকলের মূখপাত্র। পৃষ্ঠা সংখ্যা চৌষট্টি। প্রতিপৃষ্ঠার মূল্য আধ পয়সা। চৌষট্টি পৃষ্ঠা অন্তত চৌষট্টিবার পড়তে ইচ্ছে করবে আপনার। অগত্যা ঢাকা থেকে প্রকাশিত। দ্বিবর্ণে ও প্রয়োজনবোধে মুদ্রিত হবে।’

‘অগত্যা’ ছাপা হতো পুরনো ঢাকার রমাকান্ত নন্দী লেনের পাইওনিয়ার প্রেস থেকে। নিয়মিত লেখক অগত্যার সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন তারা হচ্ছেন সাংস্কৃতিক তারকা ফলেহ লোহানী, সাংবাদিক-কলামিস্ট খন্দকার আব্দুল হামিদ, তসিকুল আলম খাঁ, সাবের রেজা করীম, শিল্পী কামরুল হাসান, সঙ্গীতজ্ঞ আব্দুল আহাদ, কাজী আলাউদ্দিন, আবু সাঈদ নাসির, সাংবাদিক মাহবুব জামাল জাহেদী, ডক্টর মুস্তফা নূরউল ইসলাম, কবি আতাউর রহমান, নাট্যকার আনিস চৌধুরী প্রমুখ। অনিয়মিত কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে হাসান হাফিজুর রহমান, শামসুর রাহমান, তাসিকুল আলম খান, সাইয়িদ আতীকুল্লাহ এবং সৈয়দ শামসুল হকের নাম উল্লেখযোগ্য। ‘অগত্যার আড্ডা’য় একত্রিত হয়েছিলেন তাঁরা এবং এই পত্রিকাকে ঘিরেই এঁদের উচ্ছ্বাস-আনন্দ, চিন্তা-ভাবনা এবং কর্মকাণ্ড আবর্তিত পঞ্চাশ দশকের সূচনালগ্নে। বলা বা-ল্য, তা ব্যাপকভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করতে পেরেছিল সমাজে ও সাহিত্যাঙ্গনে।

অগত্যার যে বৈশিষ্ট্য লক্ষ্যনীয় তাহলোঃ কায়েদে আজম বা মহাকবি ইকবালের কোন স্তুুতি না করে রবীন্দ্রনাথের উক্তি পুরোভাগে উদ্ধৃত করে এবং ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য-চিন্তা বিষয়ক প্রবন্ধ (পৃথিবীর কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) ছেপে যাত্রা শুরু করেছিল। সোভিয়েত সাহিত্যিক আনন্ত শেকভ সম্পর্কে আলোচনা ও মার্কসীয় মতাদর্শ বিশ্বাসী সাহিত্যিক খাজা আহমদ আব্বাস এর রচনার অনুবাদ এতে গুরুত্বের সঙ্গে ছাপা হয়। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ইলিয়া ইলেমবুর্গ, এ্যালান মরে, আসাতোল ফ্রাঁন্স, বালজাক, বার্নাড শ, হেমিংওয়ে, এ গ্রিনিন, গোর্কি প্রমুখ বিদেশী প্রগতিপন্থী লেখকের সাহিত্যের অনুবাদ অগত্যায় বিশেষ মর্যাদায় ছাপা হয়। এদেশের পত্র-পত্রিকায় এই শ্রেণীর সাহিত্যের প্রকাশ অনেকটা নতুন ছিল। এদিকে থেকে প্রসঙ্গত মন্তব্য করা সঙ্গত যে, বিদেশী সেরা সাহিত্যের বিশেষজ্ঞ প্রগতিবাদী চিন্তাধারার সঙ্গে বাঙালী পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে সাহিত্যিক পরিমণ্ডলে অগত্যা নতুন মাত্রা সংযোজন করেছিল।

১৯৪৮ সালের প্রথম ভাষা আন্দোলনের সময় থেকে ১৯৫২ সালের দ্বিতীয় দফা সর্বাত্মক বাংলা ভাষা আন্দোলন পর্যন্ত সময়কাল বিদ্রুপাত্মক এবং তীব্র সমালোচনামূলক ভাষায় যেভাবে মাসিক ‘অগত্যা’ অবাঙালি ও উর্দু আধিপত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে, তা এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত তথা সামগ্রিকভাবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সপক্ষে সেই দুঃসময়ে মাসিক ‘অগত্যা’ ছিল বলিষ্ঠ ও সোচ্চার কণ্ঠস্বর। নিদারুণ আর্থিক সঙ্কটে ১৯৫২ সালের মার্চ মাস থেকে অগত্যার প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭২ সালে ফেব্রুয়ারি মাসের গোড়ার দিকে পেশায় বোয়িং পাইলট এই ক্যাপ্টেন নাসির আলী একটা বিমান পরীক্ষামূলকভাবে চালাবার সময় দুর্ঘটনায় নিহত হন। অন্যদিকে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী টিভি ব্যক্তিত্ব এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ‘যদি কিছু মনে না করেন’ টিভি অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ফজলে লোহানী মন্টু আকস্মিকভাবে হৃদরোগের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।

‘অগত্যা’র নাম-তাতেই বোঝা যায়, এই পত্রিকা প্রকাশকালে কতোটা ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছিল। এটা সম্ভব হয়েছিল তখনকার মেধাবী, প্রগতিশীল উচ্চাভিলাষী তরুণেরা এর প্রাণকেন্দ্র ছিলেন বলে। রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক আইডেনটিটির ক্ষেত্রে তাঁদের অবস্থান ছিল মুসলিম লীগের, পাকিস্তানপন্থী ও প্রতিক্রিয়াশীলদের এবং প্রতারক ইসলামী ধারার বিপক্ষে। সোজা কথায় স্টাবলিশমেন্টের বিরোধিতা করা ছিল তাঁদের উৎসাহী কার্যাবলীর মূল প্রেরণা। স্টাবলিস্টমেন্টের ভ-ামি, প্রতারণা এবং অপকীর্তির মুখোশ উম্মোচন করতে গিয়ে তাঁরা যে পদ্ধতি, পন্থা ও ভাষাকে আশ্রয় করেছিলেন, তাতে ছিল তীক্ষ্ম হূল, শ্লীলতাবর্জিত, ব্যাঙ্গ-কৌতুক ও হাস্যরস। এসব বৈশিষ্ট্রের কারণেই ‘অগত্যা’ ব্যাপকভাবে পঠিত, ব-ল পরিচিত হতে পেরেছিল। সঙ্গে সঙ্গে কুখ্যাতিও অর্জন করেছিল ‘ভদ্রলোকের পত্রিকা’ নয় বলে। বলা হতো ভদ্রলোকের অপাঠ্য, অশ্লীল, কিন্তু বিষয়বস্তুর কারণেই তা প্রতিষ্ঠিত, অপ্রতিষ্ঠিত খ্যাত-অখ্যাত, সরকারি, সরকার-বিরোধী সকল প্রবীণ-তরুণদের পাঠ্য হয়েছিল। এর সমালোচনার বিষয় ছিল মুসলিম লীগ সরকারের রজানৈতিক সংস্কৃতিক অর্থনৈতিক প্রশাসনিক অপপ্রয়াস; আর প্রতিষ্ঠিত, প্রবীন কবি সাহিত্যক। ফলে অশ্লীল বলে পড়ব না-এমন ভাব দেখিয়ে পাশ কাটিয়ে যাওয়া চলতো না। যেমন এককালে চলতো না কল্লোল (১৯২৩), অগ্রগতি (১৯৩৫), অচলপত্র না পড়ে অবজ্ঞা করা। অবশ্য একথা বলতে হবে যে, জনপ্রিয় হবার ও পরিচিতি অর্জনের কৌশল ও মেধা আর সাহস উদ্যোক্তাদের দলপতি ফজলে লোহানীর বেশ ভালই ছিল।

অন্যান্য পত্রিকা : অন্যান্য পত্রিকার মধ্যে বাংলা ভাষা আন্দোলনের সমর্থনে যাদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল সেগুলো হচ্ছে, ঢাকা থেকে খন্দকার আব্দুল কাদেরের সম্পাদনায় ‘নতুন দিন’, ফেনী থেকে খাজা আহমদের সম্পাদনায় সাপ্তাহিক ‘সংগ্রাম’ এবং চট্টগ্রাম থেকে প্রগতিশীল গোষ্ঠীর ‘সীমান্ত’। ধর্মের ‘জিকির’ তুলে এবং পাকিস্তানের অখণ্ডতার বজায় রাখার বাহানা করে যেসব মাসিক পত্রিকা বাংলা ভাষা আন্দোলনের তীব্র বিরোধীতা করেছিল, তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মওলানা আকরম খাঁ সম্পাদিত মাসিক মোহাম্মদী। এরপরই সরকারি মালিকানার মাসিক ‘মাহে নও’। এর সম্পাদক ছিলেন কমরেড মুজাফফর আহমদ এর জামাতা কবি আব্দুল কাদের। এছাড়া মাসিক ‘দিলরুবা’ ও মাসিক ‘নওবাহার’-এর ভূমিকা ছিল দারুণ প্রতিক্রিয়াশীল। ‘নওবাহার’ পত্রিকার সম্পাদিকা ছিলেন কবি গোলাম মোস্তফার সহধর্মিনী মাহফুজা খাতুন এবং মাসিক পত্রিকা ছিল উর্দু ভাষার সমর্থক।

 সংবাদপত্রগুলো এ সময় ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মুসলিম লীগের রাজনৈতিক ভিত্তি শিথিল করে দেয়। অর্থ্যাৎ তাদের জনবিচ্ছিন্নতার প্রক্রিয়ার সূচনা ঘটায় এবং তাতে যে গতিবেগ সঞ্চার করে, যার প্রমাণ পাওয়া যায় পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে। এমনকি ১৯৫৪ সালের নির্বাচনেও তার প্রত্যক্ষ ফল দেখা যায়।

jiblu78.rahman@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ