ঢাকা, শুক্রবার 17 February 2017, ০৫ ফাল্গুন ১৪২৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আশুলিয়ায় কেয়ারটেকার হত্যা ও দুজনকে কুপিয়ে জখম করার মূল হোতা চিহ্নিত সন্ত্রাসী রাসেল গ্রেফতার

সাভার সংবাদদাতা : আশুলিয়ার নরসিংহপুর বাংলাবাজার এলাকার মাহবুবুর রহমান মহির বাড়িতে বুধবার গভীর রাতে কেয়ারটেকার বাবলুকে হত্যা ও মহির স্ত্রী আসমা ও তার মেয়ে ৯ম শ্রেণির ছাত্রী মেহেরুন নেসাকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এ ঘটনায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী রাসেলকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রাসেলের পিতা মতিউর রহমান ও মা মিনুকে বুধবার সকালে আটক করেছিলো পুলিশ। পরে তাদের দেয়া তথ্যমতে রাসেলকে আটক করা হয়। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আশুলিয়ার ডেন্ডাবর পল্লীবিদ্যুৎ এলাকা থেকে মোবাইল ট্রাকিং ও পিতা-মাতার দেয়া তথ্যমতে রাসেলকে আটক করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শী সালমা জানান, গভীর রাতে সে এবং বাড়ির মালিক মহির স্ত্রী আসমা (৩৪) তার মেয়ে মেহেরুননেসা (১৪) ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। বাড়ির কেয়ারটেকার বাবলু (৩০) পাশের রুমে ঘুমিয়ে ছিল। রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টায় একদল সন্ত্রাসী বাড়ির দেয়াল টপকিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। এসময় তাদের অবস্থানরত ঘরটির কেচিগেটে তালাবদ্ধ ছিল। সন্ত্রাসীরা গেটের উপরে বারান্দার টিন এর স্ক্রু খুলে টিন সড়িয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। শব্দ শুনে মহির স্ত্রী আসমা দরজা খুলে টর্চ লাইট দিয়ে তল্লাশি করেন। একপর্যায়ে গেটের উপরে বারন্দার টিন খোলা দেখে তার সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়। একপর্যায়ে বারান্দার এককোনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রাসেলকে। এসময় আসমা চিৎকার করে লোকদের ডাকলে দ্রুত রাসেল আসমাকে ঝাপটে ধরে তার গলায় হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরি চালায়। এ সময় তার আর্তচিৎকারে তার মেয়ে গুমাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী মেহেরুননেসা ঘুম থেকে উঠে তার মাকে রক্ষায় এগিয়ে যায়। এসময় সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে আহত করে এবং প্রাণ ভিক্ষার জন্যে বার বার নিবেদন করে। তাদের আর্তচিৎকার শুনে পাশের কক্ষে থাকা কেয়ারটেকার বাবলু বেরিয়ে আসলে তার পেটে সন্ত্রাসীর ছুরিকাঘাত করে। এতে বাবলুর ভুঁড়ি বের হয়ে যায় এবং সে গেটের সামনে লুটিয়ে পরে। পরে সন্ত্রাসীরা গেটের তালা খুলে বের হয়ে দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়। এসময় আহত আসমা ওই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের একজন এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির সাথে জড়িত রাসেল (২৬) কে চিনতে পেরেছে বলে জানায়। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় আহত ৩ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবলুকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আসমা ও তার মেয়ে মেহেরুন চিকিৎসাধীন রয়েছে। নিহত বাবলু টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি সেলেঙ্গা এলাকার সোহরাব হোসেনের ছেলে। সে আহত আসমার আপন ফুফাতো ভাই এবং বাড়ির কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্বরত ছিল। বাড়ির মালিক মহি একজন ব্যবসায়ী। তিনি কয়েক মাস পূর্বে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ রয়েছেন। তার একমাত্র ছেলে মাইলস্টোন কলেজে হোস্টেলে থেকে লেখা পড়া করে।
এলাকাবাসী জানায়, ঘাতক রাসেল প্রায় ২০ বছর যাবৎ পিতা মতিউর রহমহন মতি ও মা মিনুর সাথে নরসিংহপুর বাংলাবাজার এলাকার মহির বাড়িতে থেকেই বড় হয়েছে। বছর দুয়েক আগে ওই বাড়ি থেকে গিয়ে পার্শ্ববর্তী বাবুলের বাড়িতে ভাড়া থাকতো। রাসেলের বাবা মতি বাংলাবাজার হা-মীম পোশাক কারখানার গেটে চায়ের দোকান ও পিঠা বানিয়ে বিক্রি করতো। ছেলের বেপরোয়া আচরণ ও নেশাগ্রস্ত হওয়াসহ চুরি, ছিনতাই এবং বহু বিবাহের অভিযোগে বাসা থেকে ৩ মাস আগে বের করে দেয়। ঘাতক রাসেলের পিতা মানিকগঞ্জ জেলার জিয়ানপুর এলাকার বাসিন্দা।
এবিষয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহসিনুল কাদির চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও বাবলু হত্যার মূল হোতা রাসেলকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি এ সম্পর্কে বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ৩টায় মহির বাড়ির কেয়ারটেকার বাবলুকে হত্যা এবং মহির স্ত্রী ও মেয়েকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় রাসেলের পিতা-মাতাকে সকালে ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী একটি ভাড়াটিয়া বাড়ির থেকে আটক করে পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্যমতে ও মোবাইল ট্রাকিং করে পুলিশের ৫টি টিমের নেতৃত্বে¡ অভিযান পরিচালিত হয়। পরে বুধবার সন্ধ্যায় ডেন্ডাবর পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ঘোরাফেরা করার মুহূর্তে চিহ্নিত খুনি ওই ঘাতককে আটক করে পুলিশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ