ঢাকা, সোমবার 27 March 2017, ১৩ চৈত্র ১৪২৩, ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিশ্বব্যাংক নিয়ে আ.লীগ নেতাদের বক্তব্যে উদ্বিগ্ন রিজভী

অনলাইন ডেস্ক: পদ্মাসেতুতে দুর্নীতি চেষ্টা মামলা কানাডার আদালতে খারিজ হয়ে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যে উদ্বেগ জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতারা যে ভাষায় বিশ্বব্যাংককে নিয়ে কথা বলেছেন, তাতে সংস্থাটির সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশে চলমান অনেক প্রকল্পে অর্থায়ন সংকট দেখা দিতে পার।

আজ শুক্রবার সকালে নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, কানাডার আদালতে পদ্মাসেতু দুর্নীতির ষড়যন্ত্র মামলা মিথ্যা প্রমাণ হলেও বিশ্বব্যাংক তার আগের অবস্থানেই অটুট আছে।

রিজভী বলেন, ‘পদ্মাসেতু দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের মামলায় কানাডার আদালতের রায়ের পর আওয়ামী লীগ নেতাদের দাম্ভিকতার কারণে বাংলাদেশে চলমান অনেক উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নে সংকট সৃষ্টি হতে পারে। কারণ বাংলাদেশে এখনও তাদের হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ চলমান। আর বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক সবচেয়ে বড় দাতা সংস্থা ও পার্টনার।’

শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের ১৬টি গাড়িসহ পাসবুক তলবেরও সমালোচনা করেন রিজভী। বলেন, ‘প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ সরকারের নির্দেশেই এনবিআর ও দুদক বাংলাদেশের অফিসে কাজ করা বিশ্বব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখে তাদের দুর্নীতির তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে এনবিআর বিশ্বব্যাংকের ১৬টি গাড়ি তলব করেছে।’

পদ্মাসেতুতে দুর্নীতি হয়নি-কানাডার আদালতে রায়েও সেটি প্রমাণ হয়নি বলেও দাবি করেন রিজভী। বলেন, ‘এতো কিছুর পরও বিশ্ব ব্যাংক তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলা নিয়েও কথা বলেন রিজভী। বলেন, এই মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারবে না এবং সে নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না।

রিজভী বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। সরকারের অশুভ কোন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন আর সম্ভব হবে না।’

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক বক্তব্যে বলেছেন, খালেদা জিয়ার জন্য সংবিধান ও নির্বাচন বসে থাকবে না। এই বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, ‘তাহলে শুধুমাত্র শেখ হাসিনার জন্যই ভোট-নির্বাচন বসে থাকবে ? তার মুখ চেয়েই নির্বাচন হবে কি হবে না, সেটি নির্ধারিত হবে?’

ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে ষড়যন্ত্র ও অশুভ পরিকল্পনার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত আছে বলেও মনে করেন রিজভী। বলেন, ‘সংবিধানের দোহাই দিয়ে একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচন করার যেকোন অপচেষ্টা এদেশের জনগণ সর্বশক্তি দিয়ে রুখে দেবে।’

আওয়ামী লীগ হাট, ঘাট, মাঠ, টার্মিনাল, সাধারণ মানুষের জোত-জমি দখলের মতো ভোট ও নির্বাচনকেও দখল করে নিয়েছে দাবি করে রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য সেই দখলেরই প্রতিধ্বনি।

আওয়ামী লীগ ও ভোট সন্ত্রাস একে অপরের পরিপূরক মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘বারবার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে পার পাওয়া যাবে না। ভোটাধিকার মানুষের সহজাত অধিকার, তা কখনোই দাবিয়ে রাখা যায় না। ভোট সন্ত্রাস বনাম সুষ্ঠু নির্বাচনের দ্বন্দ্বেই মানুষের ভোটাধিকার বিজয়ী হবে, এটাই হচ্ছে ইতিহাসের নিয়ম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ