ঢাকা, শনিবার 18 February 2017, ০৬ ফাল্গুন ১৪২৩, ২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গরু ও সোনা ছেড়ে বাংলাদেশে ‘তক্ষক’ পাচারে মেতেছে ভারতীয় চোরাকারবারীরা

রাজ্যশ্রী বক্সী, কলকাতা: ‘তক্ষক’-গিরগিটি প্রজাতীর এই সুপ্রাচীন প্রাণী পশ্চিমবঙ্গ থেকে লাখ লাখ টাকায় পাচার হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও চিনে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তগুলোতে গরু পাচারের ওপর কড়াকড়ি বহুগুণে বেড়েছে। স্বভাবতই পাচারকারীদের এ ঘটনায় মাথায় হাত। তারা এখন বেছে নিয়েছে আয়ের ভিন্ন উপায়। গরু কিংবা সোনা পাচারের চেয়েও তক্ষক পাচারে অনেক বেশি মুনাফা।

গোয়েন্দা পুলিশের তরফ থেকে জানা গেছে, এক একটি ‘স্পটেড’ তক্ষকের মূল্য বর্তমান বাজার দরে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪-৫ লাখ টাকা। তাই দু’দেশের পাচারকারীরা এখন ‘পাখির চোখ’ করেছে এই প্রাণীটিকে।

গোয়েন্দা সূত্র থেকে জানা যায়, আন্তর্জাতিক চোরাবাজারে তক্ষকের চামড়া এবং জীবন্ত তক্ষকের ভালো চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ হয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে চলে যাচ্ছে এই প্রাণী।

কেন তক্ষকের এত দাম জানতে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন দামী গয়না তৈরি করতে এই প্রাণীর চামড়া কাজে লাগে। এছাড়াও তক্ষকের চামড়া থেকে মারণ রোগের ওষুধও তৈরি হয়। তবে একেমাত্র স্পটেড তক্ষক, যার গায়ে ও মাথায় ছোপ ছোপ বিভিন্ন রঙের দাগ রয়েছে সেগুলোর দামই সব চাইতে বেশি। সাধারণত পাহার, জঙ্গল ছাড়াও চুনসুরকির দালান বাড়িতেও তক্ষক দেখা যায়। পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগণাসহ উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সেও তক্ষকের দেখা মেলে। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাচারকারীরা ৫-১০ হাজার টাকায় তক্ষক কিনে নেয়। তারপর সীমান্তের গ্রামগুলোতে এনে এগুলোকে মজুদ করা হয়। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে এই কাজের জন্য প্রচুর দালালও অল্প সময়ের মধ্যে গজিয়ে উঠেছে। যারা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে তক্ষক সংগ্রহ করে থাকে। বাংলাদেশ থেকে ক্রেতারা আসে তক্ষক দেখতে। তখনই ধার্য হয় চূড়ান্ত দাম। 

সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগণা জেলার স্বরূপনগর থানা এলাকা থেকে ভারতীয় ও বাংলাদেশী মিলিয়ে ৫ জন পাচারকারী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছ এলাকার পুলিশ। এদের কাছ থেকে ৪টি স্পটেড তক্ষক উদ্ধার করা হয়।

পুলিশি জেরায় পাচারকারীদের থেকে জানা গেছে, যে ধরনের তক্ষক তারা পাচার করতে যাচ্ছিল যার বাজারমূল্য বর্তমান বাজার দরে ৪-৫ লাখ টাকার ভেতরে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা এবং নোট বাতিলের জন্য গরু ও সোনা পাচারে বহুদিন ধরেই ভাটা চলছে। পাচারকারীদের মতে, গরু পাচার করতে গেলে বহু জায়গায় কমিশন দিতে হয়। তক্ষকের ক্ষেত্রে সেটা অনেক সময়ই চোখের আড়ালে পাচার করে দেয়া যায়।

এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে পাচারকারীরা সস্তা দরে তক্ষক কিনতে পারে বলেই খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তক্ষক পাচারের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ। তিনি আরও জানান এখনও অবধি গ্রেফতার হওয়া পাচারকারীদের বেশিরভাগই প্যান্টের পকেটে লুকিয়ে তক্ষক পাচার করার চেষ্টায় ছিল।

সুতরাং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চোরাকারবারীর বিরুদ্ধে নজরদারী যতই বাড়ুক পাচারকারীদের রমরমা যে বেঁধে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে সেটা একেবারেই স্পষ্ট। গরু, সোনা, তক্ষক- যাই হোক না কেন নতুন নতুন জিনিস পাচারের উদ্দেশে ক্রমশ বেড়েই চলেছে এই অনৈতিক পেশা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ