ঢাকা, সোমবার 20 February 2017, ০৮ ফাল্গুন ১৪২৩, ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাঘায় আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা গাছে গাছে মুকুলের বিপুল সমারোহ

আশরাফুল আলম, বাঘা (রাজশাহী) : রাজশাহীর বাঘায় গাছে গাছে আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। এ বছর গাছগুলোতে মুকুলের বিপুল সমারোহ দেখে আমের ভাল ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অভিজ্ঞদের মতে, কালের আবর্তে বদলে গেছে আমের অফ ইয়ার বা অন ইয়ার। প্রতি বছর আম উৎপাদন ভালোই হচ্ছে। এবার অন ইয়ার। ফলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষীরা। আধুনিক পদ্ধতিতে নিয়মিত আম বাগান পরিচর্যার কারণে আগের ধারাবাহিকতার বিচ্যুতি ঘটেছে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের। ফলে গত কয়েক বছর থেকে এ অঞ্চলে আমের ফলন হচ্ছে আগের তুলনায় বেশী। আমোদপুর গ্রামের আমবাগান মালিক ওহিদুর রহমান বলেন, মুকুল আসার পর থেকেই বাগানে  গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন তারা। রোগবালাইয়ের আক্রমন থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী পরিচর্যার প্রাথমিক পর্বে প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছেন তারা । তার প্রায় প্রতিটি গাছেই মুকুল আসতে শুরু করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন এবার আমের ফলন ভালো হবে। উপজেলার বিভিন্ন আমবাগান গুলো ঘুরে দেখা গেছে, আম গাছ গুলোতে মুকুল আসতে শুরু করেছে।  শীত কমে আশায় বিপুল পরিমান মুকুল বের হচ্ছে আমগাছে। আম চাষীরা আশা করছেন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আর কদিন পর মুকুলে ছেয়ে যাবে আম বাগান। ম-ম গন্ধে মেতে উঠবে সমগ্র উপজেলা। মাস খানের মধ্যে বিভিন্ন বাগানের গাছে ঝুলবে থোকায় থোকায় আম। সে আশায় বুক বেধেছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। বসে নেয় ঝুড়ি তৈরীর শ্রমিকরা। আমের মৌসুমজুড়ে কাজ করার প্রস্তুতিতে সবাই ব্যস্ত উপকরণ সংগ্রহে। এবার বাশেঁর দাম বেশ চড়া। তাছাড়া প্লাশটিকের ঝুড়ি (ক্যারেট) ব্যবহারে কমেছে বাঁশের ঝুড়ির ব্যবহার। বাঁশ শিল্পের কারিগররা এখন হতেই অনেকটা হতাশ। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এখন উপজলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতেও চাষ হয়ে থাকে নানা জাতের আম। লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছরই আম চাষের জমি বাড়ছে। ফলে আম বাগানের সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে। বাঘা উপজেলায় বর্তমানে ৪০৬০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। আম গাছের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ। ২০০৩ সালের পর থেকে  আম বাগান বাড়তে শূরু করে। নতুন জাতের আমবাগান প্রায় বনেদি জাতের। সূত্রে প্রকাশ পৃথিবীতে ৫০০ জাতের আম থাকলেও এ অঞ্চলে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জাতের আমের চাষ হয়ে থাকে। আর সারা দেশে প্রায় ২৫০ জাতের আমচাষ হয়। এর মধ্যে  উল্লেখ্য যোগ্য ফজলি, গোপাল ভোগ, মহন ভোগ, ল্যাংড়া, খিরশাপাত, হিমসাগর, কিষাণ ভোগ, মল্লিকা, লক্ষনা, দুধসর, দুধ কলম, বিন্দাবনী, রানীপছন্দ, ফনিয়া, আড়াজম, আশ্বিনা, মিশ্রীদানা, বাতাশা, চাপড়া, সেই সাথে নানা প্রকার গুটির আম।  উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম বলেন, হিসাব মোতাবেক এ বছর আমের জন্য অন ইয়ার। আশা করা হচ্ছে বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে গত বছরের চেয়ে এবার আমের ফলন ভাল হবে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। চৈত্র-বৈশাখের খরতাপ আর ঝড় হাওয়ার গ্রতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করে দিবে আমের উৎপাদন। প্রকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ