ঢাকা, রোববার 19 February 2017, ০৭ ফাল্গুন ১৪২৩, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কুমারখালীতে কলার বাম্পার ফলন ন্যায্যমূল্য পেয়ে কৃষকরা খুশি

কুমারখালী (কুষ্টিয়া): উপজেলার হাঁসদিয়া গ্রামের একটি কলার বাগান -সংগ্রাম

মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা: কুমারখালীতে এ বছর কলার বাম্পার ফলন হয়েছে। জমিতে বসেই কলার ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটেছে সোনালী হাসি। ফলনশীল অর্থকারী এই ফসলের সাফল্যে এবং একই ফসলের সাথে একাধিক সাথী ফসল উৎপাদন হওয়ায় কৃষক তামাক, বেগুন, আঁখি ও ভুট্টা চাষের প্রতি আগ্রহ হারিয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে প্রচলিত ফসল চাষে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান না হওয়ায় তারা এই সব ফসলের বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছেন অধিক লাভজনক ফসল কলা চাষ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার কুমারখালী উপজেলার প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের কলার চাষ হয়েছে। বিভিন্ন জাতের কলার মধ্যে রয়েছে জয়েন্টগভর্নর, সাগর ও সর্বি কলা। তবে সিংহভাগ জমিতে চাষ করা হয়েছে সর্বি কলা।  ধান, পাট ও আখসহ প্রচলিত অন্যান্য ফসলের তুলনাই কলাচাষে শ্রম ব্যয় হয় কম, বিক্রি করতেও ঝামেলা নেই বাগান থেকেই বিক্রি হয়।
অন্যদিকে কলার বাজারে সহজে ধস নামে না। চরাঞ্চলের এসব জমিতে অন্যকোন ফসল ভাল না হওয়ায় পুষ্টিকর ফল কলার চাষ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কলাচাষের পাশাপশি এখানকার কৃষকরা সাথী ফসল হিসেবে ওল এবং পটল চাষ করে বাড়তি আয় করছে। একই সময়ে একাধিক ফসল চাষের ফলে কৃষকরা বেশী লাভবান হচ্ছেন । ফলে এখানকার কৃষকরা জমির জন্য ক্ষতিকর তামাক ও ভুট্টা চাষের প্রতি দিন দিন আগ্রহ হারাচ্ছে।
উপজেলার চর আগ্রাকুণ্ডা গ্রামের সফল কলাচাষি ইমরান হোসেন,  তিনি এক যুগেরও বেশী সময় ধরে কলার চাষ করছেন। প্রাথমিক ভাবে প্রধান ফসলের সাথে কিছু সংখ্যক জমিতে সাথী ফসল হিসাবে কলার চাষ শুরু করেন। স্বল্প বিনিয়োগে ও কম পরিশ্রমে কলা চাষে অধিক মুনাফা হওয়ায় তিনি এ ফসলকেই বেছে নিয়েছেন। তার কলা চাষের এ সাফল্য দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরা এখন কলা চাষের দিকে ঝুঁকছেন।
কৃষক আরিফুল ইসলাম বলেন, কলাচাষের জন্য স্বল্পপুঁজি বিনিয়োগ করে অধিক লাভ হয় এবং একবার কলা গাছ লাগালে সেই খরচেই দুই বছর ফল পাওয়া যায়। এক বিঘা জমিতে আড়াইশ থেকে তিন শত কলার গাছ লাগাতে ব্যয় হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। যা থেকে বছর শেষে আয় হবে প্রায় লাখ টাকা। কলার চাষ করলে কলা বিক্রির পাশাপাশি কলা গাছের চারাও বিক্রি করা যায়।
কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, কলা বিক্রি করতে তাদের কোন সমস্যা হয় না। কারণ হিসাবে তিনি জানান, পাইকারী ব্যবসায়ীরা কলার বাগান থেকেই ন্যায্য মূল্যে কলা ক্রয় করে নিয়ে যায়। কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর থেকে তাদেরকে কলা চাষের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে আরো অধিক লাভবান হবেন বলেও তিনি জানান।
 এ ব্যপারে কুমারখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তামাক চাষের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বলেন, তামাক ও ভুট্টা চাষ করলে মাটির গুনাগুন নষ্ট হয়ে যায়।
ঐ জমিতে অন্যকোন ফসল ভাল হয়না। অল্প বিনিয়োগে অধিক মুনাফা অর্জন করায় এখানকার কৃষকরা কলা চাষের প্রতিই বেশী উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ