ঢাকা, রোববার 19 February 2017, ০৭ ফাল্গুন ১৪২৩, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র সাহেবের হাট এখন বড় বাজার

খুলনা অফিস: যশোর জেলার অন্তর্গত খুলনা মহকুমার গোড়াপত্তন ১৭৫৭ সালের পরে হয়। তখন খুলনার ভৈরব নদের তীরে সাহেবের হাট-নামে একটি ছোট হাট ছিল। মহকুমা গঠনের পরে সেই হাটটিতে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ বলেন, রেনি সাহেব নামে একজন খ্রিস্টান এই হাটে জমি দিয়ে হাটটি বসিয়েছিলেন। তাই এটাকে সাহেবের হাট বলা হতো। ১৮৮৪ সালে খুলনা জেলা গঠন হয়। জেলা গঠনের পরই সাহেবের হাটটি বড় হতে থাকে। লোকজনের সমাগমও বেশি হতে থাকে। এরপর কালের বিবর্তনে এ হাটের নাম হয় বড় বাজার। আজো বড় বাজার নামেই পরিচিত।
পাঁচ একরেরও বেশি জমির ওপরে গড়ে ওঠা বড় বাজার দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে পরিচিত। সাবেক খুলনা বিভাগের ১৬ জেলাতো বটেই, এমনকি ঢাকা বিভাগের গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ির মানুষও এক সময় খুলনার বড় বাজারে আসতো বিকিকিনি করার জন্য। পরবর্তীতে খুলনা বিভাগ ভেঙে ছয় জেলা নিয়ে বরিশাল বিভাগ গঠন করা হয়। বর্তমানে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মানুষসহ বরিশাল বিভাগের কয়েকটি জেলার মানুষও এ বড় বাজার থেকে পাইকারী মালামাল নিয়ে যায়।
বাজারে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার দোকান রয়েছে। মাসে কয়েক হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হয়।
এরপরও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বড় বাজারের ভিতরে ২৬ ফুট চওড়া রাস্তা ছিল। কিন্তু এখন আর নেই। মাত্র ৮ থেকে ১০ ফুট রাস্তার ভিতরে যানবাহন প্রবেশ করতে পারে না। সেজন্য মানুষ ধীরে ধীরে বড় বাজার বিমুখ হয়ে পড়েছে। বড় বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, এই বাজারের পুরোনো ঐহিত্য এখন আর নেই। এ বাজার দু’শতাধিক বছর ধরে খুলনাঞ্চলের রাজত্ব করলেও এখন অনেক বাজার-হাট হয়ে যাওয়ায় মানুষের সমাগম অনেক কমে গেছে।
বড় বাজার ঘুরে দেখা যায়, নগরীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ভৈরব নদের পাড় ঘেঁষে ওয়েস্ট মেকড রোড, ভৈরব স্ট্যান্ড রোড, হেলাতলা রোড, কালিবাড়ী রোড, ক্লে রোড, কেডি ঘোষ রোড, স্যার ইকবাল রোডের একাংশ ও স্টেশন রোড নিয়ে বড় বাজারের অবস্থান। প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষের আগমন ঘটে। কয়েক হাজার পাইকারী দোকান, বিভিন্ন মালের আড়ৎ রয়েছে এখানে। কালিবাড়ী থেকে রেল স্টেশন পর্যন্ত বিশাল এলাকা জুড়ে বড় বাজারের অবস্থান। ব্যবসায়ীরা এ বাজারের ঐতিহ্য কমে যাওয়ার বিষয়টি দাবি করলেও এখানে এখনো প্রচুর পরিমাণে বেচাকেনা হয়। ক্রেতারা বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ খুলনার বড় বাজারে এখনো আসেন মালামাল কিনতে।
খুলনা চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি, খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, এক সময় পাইকারী মালামাল কেনার জন্য দূর-দূরান্তের মানুষ বড় বাজারে আসতো। এখনো আসে, তবে আগের মতো জৌলুস আর নেই। বড় বাজারে ২৬ ফুট চওড়া রাস্তা ছিল। সেই রাস্তায় সিটি করপোরেশন দোকান বসিয়ে টোল আদায় করে। ফলে গাড়ি প্রবেশ করতে পারে না। তাছাড়া এখন বাজারের অনেক বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার অনেক উন্নয়ন হয়েছে। জেলায় জেলায় বড় বড় হাট বাজার হয়েছে। সেজন্য আগে যেমন মানুষ পণ্যের প্রয়োজনে খুলনার বড় বাজারে ছুটে আসতো এখন আর তেমন আসে না। তিনি বলেন, এ বাজারে কয়েক হাজার দোকান আছে। প্রতিমাসে কয়েক হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ