ঢাকা, বুধবার 22 February 2017, ১০ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ফিলিস্তিনীদের বাড়ি গুঁড়িয়ে ইসরাইলের রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা

২১ ফেব্রুয়ারি, আলজাজিরা: অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমের জাবাল আল-মুকাবের এলাকার কয়েকশ’ ফিলিস্তিনী শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ আগেই ঘোষণা দিয়েছে, তারা ‘আমেরিকান রোড’ নামক রাস্তা নির্মাণের জন্য ফিলিস্তিনীদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেবে।
বিশাল হাইওয়ে রাস্তার একাংশ আল-তৌক। ৭০ মিটার চওড়া ও ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তা পূর্ব ও পশ্চিম জেরুজালেমকে যুক্ত করেছে।
ইসরাইল কর্তৃপক্ষ জাবাল আল-মুকাবের থেকে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনীকে উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছে। উচ্ছেদের মুখোমুখি সালা এলাকার অধিবাসী মোহাম্মদ আল-সাওয়াহরা বলেন, ‘আমরা এক ভয়ের মাঝেই দিন-যাপন করছি। যেন আমরা দুই ভিন্ন জগতে বাস করছি। ফিলিস্তিনীদের বসতি যেন তৃতীয় বিশ্ব, আর জাবাল আল-মুকাবেরের ইসরাইলী বসতি যেন প্রথম বিশ্ব।’
ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ একমাস আগে আল-সাওয়াহরাকে তার বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়ার কথা জানিয়েছিল।
জাবাল আল-মুকাবের প্রতিরক্ষা কমিটির আইনজীবী রায়েদ বশির জানিয়েছেন, ওই রাস্তা নির্মাণের জন্য ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ প্রায় ৫৭টি ফিলিস্তিনী বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছে। এসব বাড়িতে প্রায় ৫০০ ফিলিস্তিনী বসবাস করেন।
তিনি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেন, ‘৩২ মিটার চওড়া রাস্তার সঙ্গে আরও ৩২ মিটার চওড়া রেলের রাস্তার কথা শুনে আমরা পুরোপুরি হতবাক হয়েছি। ওই রাস্তার ধারের সব বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।’
ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীর ও জেরুজালেমে ইসরাইলী বসতি স্থাপন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান তার পূর্বসূরী বারাক ওবামার তুলনায় অনেকটাই সহনশীল। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফিলিস্তিনী বাড়িঘর গুঁড়িয়ে নিজেদের বসতি স্থাপনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক নিন্দা ও চাপকেও উপেক্ষা করছে ইসরাইল। ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার পর গত একমাসে বেশ কয়েকটি বসতিতে কয়েক দফা নতুন করে ঘরবাড়ি নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ইসরাইলী সরকার। রাস্তা নির্মাণের বিষয়েও শুরু হয়েছে তৎপরতা।
উল্লেখ্য, ১৯৯০ এর দশকের শুরু থেকে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে বেশ কয়েক দফায় শান্তি আলোচনা হয়েছে। ফিলিস্তিনীরা চায় পশ্চিম তীরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে এবং পূর্ব জেরুসালেমকে এর রাজধানী বানাতে। ১৯৬৭ সালের আরব যুদ্ধের পর থেকে ইসরাইল পূর্ব জেরুসালেম দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুসালেমকে নিজেদের অবিভাজ্য রাজধানী বলে দাবি করে থাকে ইসরাইল।
অবশ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পূর্ব জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেমে শতাধিক বসতি স্থাপন করেছে ইসরাইল। পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুসালেমে স্থাপিত প্রায় ১৪০টি বসতিতে ৬ লাখেরও বেশি ইসরাইলী বসবাস করে। আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এ বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলে বিবেচনা করা হলেও ইসরাইল তা মানতে চায় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ