ঢাকা, বুধবার 22 February 2017, ১০ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কার্গো ভিলেজের নিরাপত্তায় নিয়ে বিদেশীদের সংশয়

স্টাফ রিপোর্টার : বিমানের কার্র্গো ভিলেজের নিরাপত্তা নিয়ে বিদেশীদের সন্দেহ-সংশয় এখনো কাটছে না। বিশেষ করে কার্গো’র প্রধান গন্তব্য যুক্তরাজ্য বিমানের কার্গো ভিলেজের নিরাপত্তা নিয়ে এখনো ইতিবাচক কোন সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি। আগামী মাসের শেষ দিকে যুক্তরাজ্যের উর্ধ্বতন একটি নিরাপত্তা টীম ঢাকায় আসছে। তারা আগের দেয়া শর্তগুলো আরো যাচাই বাছাই করে দেখবে। সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তারা বাংলাদেশের কার্গো ভিলেজের নিরাপত্তার বিষেয় গ্রিন সিগ্যনাল দেবে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ পরিদর্শনে আগামী মাসেই আবারো আসছে ব্রিটিশ প্রতিনিধি দল। আগামী মাসের শেষ নাগাদ প্রতিনিধি দলটি ঢাকায় এসে কার্গো পরিবহন-সংক্রান্ত নিরাপত্তার বিষয়গুলো যাচাই করবে। পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলটি ইতিবাচক মত দিলেই সরাসরি কার্গো পরিবহনের বিষয়টি বিবেচনা করবে যুক্তরাজ্য।

এদিকে সর্বশেষ গত বছরের ১৬ নবেম্বর শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ পরিদর্শন করে ব্রিটিশ প্রতিনিধি দল। সে সময় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেনি দলটি। ফলে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যে সরাসরি বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনে প্রযুক্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেনি দেশটির কর্তৃপক্ষ। এখন আগামী মাসের শেষ নাগাদ কার্গো ভিলেজটি পরিদর্শনে আবারো আসছে ব্রিটিশ প্রতিনিধি দল, যাদের মতের ওপরই নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি।

যদিও এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যানিং) মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, কার্গো ভিলেজের বিভিন্ন বিষয় পরিদর্শনে আগামী মার্চে যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসার কথা জানিয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কার্গো ভিলেজে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন হয়েছে।

 বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ পরিদর্শন শেষে ব্রিটিশ প্রতিনিধি দল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছিল। সে সময় তারা জানিয়েছিলেন, বিশেষ করে কার্গো ভিলেজ থেকে উড়োজাহাজে পণ্য ওঠানোর সময়টি এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। পাশাপাশি কার্গো পরিবহনে দ্রুত প্যালেট সংযোজন করার প্রয়োজনীয়তাও উল্লেখ করেন প্রতিনিধিরা। তবে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রেডলাইনের মাধ্যমে কর্মীদের প্রশিক্ষণের বিষয়টির প্রশংসা করলেও অনেক ক্ষেত্রেই প্রশিক্ষিত কর্মীরা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছেন না বলেও মত দেন তারা।

এদিকে যুক্তরাজ্যে কার্গো পরিবহন বন্ধ থাকায় গত অর্থবছর এ খাত থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের আয় কমে যায়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বার্ষিক প্রতিবেদনমতে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এয়ারলাইনসটি উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ডের মাধ্যমে ৪০ হাজার ৯১১ টন মালপত্র পরিবহন করে। এর মাধ্যমে বিমানের আয় হয়েছে ৩১৫ কোটি টাকা। অথচ এর আগের অর্থবছরে এ খাত থেকে এয়ারলাইনসটির আয় ছিল ৩৯২ কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ জানান, নিষেধাজ্ঞার কারণে কার্গো সার্ভিস থেকে বিমানের আয় কমেছে। তবে সামগ্রিকভাবে বিমান মুনাফা করেছে। কার্গোয় নিষেধাজ্ঞা না থাকলে মুনাফার পরিমাণ আরো বাড়ত। সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের চেষ্টা করছে। বর্তমানে কয়েকটি এয়ারলাইনসের সঙ্গে কোড শেয়ার করে বিকল্পভাবে কার্গো পরিবহন চলছে।

বিমান সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কার্গোসেবার পরিধি বাড়াতে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ ও এমিরেটস এয়ারলাইনসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে বিমান। এজন্য গত বছর ইতিহাদ ও এমিরেটসের সঙ্গে ইন্টারলাইন এগ্রিমেন্ট করে বিমান। এ চুক্তির আওতায় কোড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে ঢাকা থেকে আবুধাবি পর্যন্ত কার্গো পরিবহন করছে বিমান। আর আবুধাবি থেকে সেই কার্গো লন্ডনে পৌঁছে দিচ্ছে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ। এভাবে বিমানের গ্রাহকদের মালপত্র ১৩টি রুট পৌঁছে দিচ্ছে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ। একইভাবে ইউরোপের ১৫টি রুটে এ সেবা দিচ্ছে এমিরেটস এয়ারলাইনস।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ মার্চ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ঢাকা থেকে সরাসরি কার্গো পরিবহন নিষিদ্ধ করে যুক্তরাজ্য। এর আগে ২০১৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়াও বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট নিষিদ্ধ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের প্রস্তাব অনুযায়ী গত বছরের ২১ মার্চ শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণকাজের জন্য দেশটির বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রেডলাইন অ্যাশিউরড সিকিউরিটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করে বেবিচক। চুক্তি অনুযায়ী রেডলাইন বিমানবন্দরটিতে তিন ধরনের কাজ করছে। পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বিমানবন্দরের জনবল পরিচালনা ও তাদের প্রশিক্ষণে কাজ করছে সংস্থাটি। রেডলাইনের সঙ্গে এ চুক্তির মেয়াদ দুই বছর।

গত দুই বছরের দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট পুনরায় চালুর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সরকার। সর্বশেষ গত ২১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাণিজ্যদূত ও দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য রুশনারা আলীর সৌজন্য সাক্ষাতেও বিষয়টি উঠে আসে। সে সময় ঢাকা-লন্ডন কার্গো ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। জবাবে ঢাকা-লন্ডন সরাসরি কার্গো ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান রুশনারা আলী।

এর আগে গত ১৭ নবেম্বর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ফরেন ও কমনওয়েলথ ইন্টেলিজেন্স ডিপার্টমেন্টের মহাপরিচালক জনাথন এলেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেকও ছিলেন ওই প্রতিনিধি দলে। সে সময় যুক্তরাজ্যের ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক আরোপিত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কার্গো পণ্য পরিবহনে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করেন রাশেদ খান মেনন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ