ঢাকা, বুধবার 22 February 2017, ১০ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ছিনতাইয়ের চক্রান্ত চলছে -নূরুল ইসলাম বুলবুল

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল -সংগ্রাম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, দলীয় সংকীর্ণতা এবং হীন চক্রান্তের কালো থাবার শিকার ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস। ৫২’র আন্দোলনে অগ্রভাগে অবতীর্ণ ব্যক্তিগণ আজ উপেক্ষিত। পক্ষান্তরে তৎকালীন আন্দোলনে ভূমিকা না রাখা ব্যক্তিদেরকে আজ সম্মানিত ও পদকে ভূষিত করা হচ্ছে। মাতৃভাষার জন্য যারা আত্মত্যাগ করেছেন এবং লড়াইয়ের ময়দানে সংগ্রামী ভূমিকা রেখেছেন তাদেরকে সকল সংর্কীণতার ঊর্ধ্বে উঠে যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে। তিনি ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শহীদদের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। 

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূিচর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ফরিদ হোসাইন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সবুর ফকির, মহানগরী শূরা সদস্য খন্দকার আবু ফাতেহ ও মহানগরী শূরা সদস্য মাওলানা আমীরুল ইসলাম প্রমুখ। 

নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘ভাষা’র অর্জন ও শহীদদের আত্মত্যাগ আজ বিকৃতির পথে। মায়ের ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা করার দাবিতে নিজ দেশের সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে জীবনদানের ঘটনা পৃথিবীতে বিরল। কিন্তু আফসোস আমরা ফেব্রুয়ারি এলেই শুধু ভাষার জয়গান গাই, অন্যসময় ভাষার উৎকর্ষ সাধনে ভূমিকা রাখতে ভুলে যাই।’

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম এবং তার সংগঠন তমদ্দুন মজলিস। আর এই তমদ্দুন মজলিসের নেতৃত্বে দেশের আপামর তৌহিদী জনতা ইসলামী তাহযিব-তামাদ্দুন রক্ষার অংশ হিসেবে ভাষার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনে সমবেত হয়েছিল। ভাষা আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ছিলেন অধ্যাপক গোলাম আযম। ডাকসুর তৎকালীন জিএস হিসেবে তিনি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে তৎকালীণ সরকারের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেছিলেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, স্বার্থান্বেষী সরকার মহল বিশেষের প্ররোচণায় অধ্যাপক গোলাম আযমের সেই অসামান্য অবদানের মূল্যায়ন করতে চায় না। 

তিনি আরো বলেন, ভাষা আন্দোলনই পরবর্তী স্বাধীনতা আন্দোলনের সূতিকাগার।’ তিনি নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘জনগণ ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য লড়াই করেছে এদেশের সরকারেরই বিরুদ্ধে। ঠিক একইভাবে বর্তমানে জনগণের ন্যয্য দাবি আদায়, বাক স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং একটি নির্দলীয়-নিরপেক্ষ ইসি গঠনের মাধ্যমে অবাধ-স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবি আদায়েও অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি জনগণকে সে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার আহবান জানান। 

ফরিদ হোসাইন বলেন, ‘ভাষা’র ইতিহাসের সাথে ইসলামপন্থীদের ভূমিকা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ভাষার মাধ্যমেই শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ সাধন হয়ে থাকে। 

আব্দুস সবুর ফকির বলেন, বাংলা ভাষা অতি প্রাচীন একটি স্বতন্ত্র ভাষা। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে এই ভাষার সাথে আরবী-ফার্সি সহ অন্যান্য ভাষা মিলে মিশে এ ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে। শাসক গোষ্ঠীর বন্দুকের নলের মুখে জীবন দিয়ে আমরা মাতৃভাষা রক্ষা করেছি। 

আলোচনা সভা শেষে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও দেশের কল্যাণ কামণা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি নূরুল ইসলাম বুলবুল।

হাজারীবাগ থানা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দীন বলেছেন, অনেক ত্যাগ ও কোরবানীর বিনিময়ে বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করলেও আজও রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে বাংলা ভাষার প্রচলন করা সম্ভব হয়নি বরং সকল ক্ষেত্রেই বাংলা ভাষা উপেক্ষিত হচ্ছে। তাই বাংলা ভাষাকে যথাযথ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে ’৫২র ভাষা শহীদদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। তিনি ভাষা শহীদদের বিন¤্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন এবং তাদের রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। 

গতকাল রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর হাজারীবাগ থানা আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। থানা আমীর আবু জারিফের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন হাজারীবাগ থানার সাবেক আমীর শেখ শরীফ উদ্দীন আহমদ সহ স্থানীয় জামায়াত-শিবির নেতৃবৃন্দ। 

সবুজবাগ থানা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সবুজবাগ থানার উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন থানা আমীর আবু নাবিল। উপস্থিত ছিলেন থানা সেক্রেটারি আবু মাহি, থানা কর্মপরিষদ সদস্য ওমর ফারুক মজুমদার, জামায়াত নেতা হাফিজুর রহমান, নাসির উদ্দীন মজুমদার, বি রহমান, গোলাম মোহাম্মদ মুজাহিদ, রাশেদুল ইসলাম রানা ও এম এ জে ফারুক প্রমূখ। 

মুগদা থানা: মুগদা থানার উদ্যোগে নগরীতে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। থানা আমীর রিফাত আহমদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি আবু খুবাইবের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ড. শাহজাহান আলী। উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা বরকত আলী, রওশন আলী, কুতুব উদ্দীন ও রহমতুল্লাহ প্রমূখ।

ধানমন্ডি থানা: ধানমন্ডি থানার উদ্যোগে নগরীতে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন থানা আমীর এ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন তালুকদার। উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা মাওলানা সেলিম উদ্দীন ও মাওলানা আব্দুল গাফ্ফার প্রমূখ। 

কামরাঙ্গীরচর থানা: কামরাঙ্গীরচর থানার উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন থানা আমীর আবু হাবিব। উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা এ আলী ও মাহবুব হাসান প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ