ঢাকা, বুধবার 22 February 2017, ১০ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আমাদের ভাষা

আবুল মনসুর আহমদ : [দুই]
রাজধানীর পরিবর্তন : তারপর ধরুন রাজধানী পরিবর্তনের কথা। অবিভক্ত বাংলার সাহিত্যকেন্দ্র ছিল যেমন কলিকাতা, পূর্ব-পাকিস্তানের সাহিত্য-কেন্দ্র হইবে তেমনি ঢাকা। অবিভক্ত বাংলার সাহিত্যকে গণ-সাহিত্য করিবার প্রয়োজনের তাগিদে যে কারণে কলিকাতার কথ্য ভাষাকে সাহিত্যের ভাষার সম্মান দিতে হইয়াছিল, ঠিক সেই প্রয়োজনের তাগিদে আমাদের রাজধানী ঢাকার কথ্য ভাষাকেও আমাদের সাহিত্যের ভাষার মর্যাদা দিতে হইবে। সাহিত্যে ব্যবহারোপযোগী কোন নিজস্ব ভাষা ঢাকার নাই। তাতে ভয় পাইবার কিছু নাই। গোড়াতে কলিকাতারও ছিল না। জনগণের ভাষায় সাহিত্য সৃষ্টির তাগিদে কলিকাতার পার্শ্ববর্তী পশ্চিম-বাংলার জিলাসমূহের তথ্য ভাষায় সাহিত্য সৃষ্টির তাগিদে কলিকাতার পার্শ্ববর্তী পশ্চিম-বাংলার জিলাসমূহের কথ্য ভাষার মিশ্রণে ও সমন্বয়ে যেমন একটি ‘কোলকেতেয়ে’ কথ্য ভাষা গড়িয়া উঠিয়াছিল এবং সেই কলিকাতার কথ্য ভাষা পশ্চিম-বাংলার তথা গোটা বাংলার সাহিত্যের ভাষা হইয়া উঠিয়াছিল, পূর্ব-বাংলার সাহিত্যিকদের সমবেত চেষ্টায় তেমনি পূর্ব-বাংলার বিভিন্ন জিলার ভাষার সংমিশ্রণ ও সমন্বয়ে একটি ‘ঢাকাইয়া’ কথ্য বাংলা গড়িয়া উঠিবে এবং সেই ভাষাই পূর্ব-পাকিস্তানের সাহিত্যের ভাষা হইবে। পশ্চিম-বাংলার বিভিন্ন জিলার আঞ্চলিক ডায়লেক্টের মধ্যে বিপুল পার্থক্য থাকায় শান্তিপুরী ডায়লেক্ট যেমন তাদের ভাষিক একতার নিউক্লিয়াস হইয়াছিল, আমাদের বিক্রমপুরী ডায়লেক্টও তেমনি ঢাকাইয়া বাংলার নিউক্লিয়াস হইতে পারিবে।
আমাদের দুইটি কাজ : আজ স্বাধীন করিতে হইবে দুইটি কাজ। প্রথম পূর্ব-বাংলার প্রাচীন সভ্য মানুষের নয়া রাষ্ট্র ও নয়া জাতি গঠনে সাহায্য করার জন্য তাদের নয়া যিন্দিগির ও নয়া কালচারের ধারক ও বাহক নয়া সাহিত্য সৃষ্টি করিতে হইবে। দ্বিতীয়ত: সেই সাহিত্যের মিডিয়াম রূপে পূর্ব-পাকিস্তানের সমস্ত অঞ্চলের বোধগম্য ও ব্যবহারোপযোগী একটি ঢাকাইয়া কথ্য বাংলা গড়িয়া তুলিতে হইবে। এ উভয় কাজ চলিবে স্বভাবতই এক সাথে।
এ কাজটি খুবই সোজা, আবার খুবই কঠিন। সোজা এই জন্য যে, এ কাজের নযির আছে। পশ্চিম-বাংলার সাহিত্যকরা যেমন পশ্চিম-বাংলার মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সাধারণ কথ্য ভাষাকেই সাহিত্যের ভাষা করিয়াছেন, আমরাও যদি তেমনি পূর্ব-পাকিস্তানী মধ্যবিত্তের সাধারণ কথ্য ভাষাকেই আমাদের সাহিত্যের ভাষা করিতে পারি, তবেই আমাদের কাজ সারা হইল। মধ্যবিত্তেরব ভাষা মানে শিক্ষিত সমাজের সফিসটিকেটেড উচ্চারণ-ভঙ্গি। কথ্য ভাষাকে দেশের সর্বত্র জনগণের বোধগম্য করার জন্যই এটা দরকার।
পক্ষান্তরে এই কাজটিই কঠিন এই জন্য যে, সাহিত্যিকরাও সাধারণ মানুষের মতোই অভ্যাসের দাস। এঁরাও অনূকরণে গৌরব বোধ করেন। এরাও হীনমন্যতার ব্যারামে ভুগিতেছেন। কথাটা একটু খোলাখুলিই বলা যাক। বাংলাদেশ অখ- থাকিতে কলিকাতা রাজধানী থাকাকালে আমরা কথায় ও লেখায় পশ্চিম-বাংলার ভালমন্দ সবই অনুকরণ করিতাম। এটা ছিল স্বাভাবিক। এই কারণে ততদিন আমরা ‘খাইছি’র বদলে ‘খেয়েছি’ ‘খাইতেছি’র বদলে ‘খাচ্ছি’ ‘করি নাই’র বদলে ‘করি নি’ লিখতাম এবং বলিবার চেষ্টা করিতাম। তার উপর ক্রিয়াপদ ছাড়াও বিশেষ্যের বেলাতে তা করিতে গিয়া ‘ইচ্ছা’র বদলে ‘ইচ্ছে’ ‘হিসাবে’র বদলে ‘হিসেব’, ‘নিকাশে’র স্থলে ‘নিকেশ’ ‘মিঠা’ও জায়গায় ‘মিঠে’, ‘তুলা’র জায়গায় ‘তুলো’, ‘সুতা’র জায়গায় ‘সুতো’ লিখিতাম ও বলিবার চেষ্টা করিতাম।
এটা তখন দোষের ছিল না। কিন্তু এখন দোসের। লজ্জা ও পরিতাপের বিষয় এই যে, আজো আমরা তাই করি। আমরা ভুলিয়া যাই যে, যে-স্বাভাবিকতা সাহিত্যের প্রাণ, আমাদের এই বিবেক-বুদ্ধিহীন অন্ধ অনুকরণ-প্রিয়তা সেই স্বাভাবিকতাকেই বিদ্রুপ করিয়া থাকে। রাষ্ট্রীয় কারণে আমাদের তখনকার ভাষা ছিল কলিকাতার বাংলা। সেই কারণেই এখানকার ভাষা আমাদের ঢাকাইয়া বাংলা।
ঢাকাইয়া বাংলা : পশ্চিম ও পূর্ব-বাংলার কথ্য ভাষার পার্থক্যের অনেকখানিই ক্রিয়াপদে সীমাবদ্ধ। তবে ক্রিয়াপদ ছাড়াও অনেক বিশেষ্য প্রভৃতি পদেও আঞ্চলিক পার্থক্য আছে। আবার মুসলমানী শব্দ ছঅড়াও নিছক দেশী শব্দেও বেশ কিছু পার্থক্য বিদ্যমান। উচ্চারণেই সে পার্থক্য বেশি প্রকট। ‘তুলো’ ‘ইচ্ছে’ প্রভৃতি শব্দের কথা আগেই কহিয়াছি। এগুলি একান্তই উচ্চারণ-বিকৃতি এবং স্থানিক। এগুলির অনুকরণ শুধু অনাবশ্যক নয়, অবৈজ্ঞানিকও। পশ্চিম-বাংলার যেÑসব ভাই হিজরত করিয়া পূর্ব-পাকিস্তানে আসিয়াছেন, তাঁরা এক পুরুষ বা আরও কিছুকাল এই বিকৃত উচ্চারণ করিয়া যাইবেন। কিন্তু তাই বলিয়া আমরা বাংগালরাও তাদের অনুকরণ করিয়া শব্দ বিকৃত করিব, এর কোন মানে নাই। সুতরাং আমাদের সাহিত্যকে স্বাভাবিক ও আমাদের জনগণের সাহিত্য করিতে হইলে জনগণের স্বাভাবিক ভাষায় লিখিতে হইবে। স্বাভাবিক ভাষা কি, কিভাবে তা গঠিত হইবে, কি তার রূপ হইবে, এসব কথার নির্ভুল বিচার করিতে গেলে আমাদের এই কয়টা কথা মনে রাখিতে হইবে:
১. ভাষা ও সাহিত্যের উপর প্রভাব কলিকাতার বদলে এখন ঢাকা হইতে হইবে।
২. পদ্মার পশ্চিম পারের আমাদের যে-সব জিলা এতদিন রাষ্ট্রীয় কারণে নিজেদেরে ‘বাংগাল’ হইতে স্বতন্ত্র ভাবিত, ‘অধিকতর ভদ্র’ পশ্চিম-বাংলার অন্তর্ভুক্ত মনে করিয়া গৌরব বোধ করিত এবং প্রেরণার জন্য স্বভাবতই কলিকাতার দিকে চাহিয়া থাকিত, তারা এখন ঢাকার দিকে নযর দিতে শুরু করিয়াছে স্বাভাবিক কারণেই।
৩. প্রায় চল্লিশ লাখের মতো পশ্চিম-বাংগালী মুসলমান পূর্ব-পাকিস্তানের স্থায়ী বাশেন্দা হইয়াছেন। সমাজ সাহিত্য ও রাষ্ট্রীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এঁদের অনেকেই প্রভাব-প্রতিপত্তির স্থান দখল করিয়া আছেন। পূর্ব-পাকিস্তানের কথ্য ভাষায়, সুতরাং সাহিত্যে, এঁদের প্রভাবের ছাপ থাকিবেই।
৪. কথ্য ভাষার দিক হইতে পূর্ব-পাকিস্তানের বিভিন্ন জিলার আঞ্চলিক বাংলা মধ্যে যে প্রকট পার্থক্য দেখা যায়, তার বেশির ভাগই উচ্চারণে সীমাবদ্ধ।
৫. প্রায় দশ লাখের মত উর্দুÑভাষী অবাংগালী পূর্ব-পাকিস্তানের স্থায়ী বাশেন্দা বনিয়া গিয়াছেন। তাঁদেরও প্রভাব আমাদের কথ্য ভাষায় পড়িবে।
৬. রাজধানী ঢাকায় বাটোয়ারার আগের মুদ্দতে কলিকাতার ঠাকুর পরিবারের মতো বাংলা-ভাষী কোন প্রভাবশালী উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণী ছিল না।
৭. ঢাকা শহরে বাটোয়ারার প্রাক্কালের যুগের বাংলা-সাহিত্যে পূর্ব-বাংলাবাসী প্রভাবশালী কোন সাহিত্যিক গোষ্ঠী ছিল না।  সুতরাং পূর্ব-পাকিস্তানের সাহিত্যের বাহন যেমন হইবে স্বাভাবিক কথ্য ভাষা তেমনি সেটা হইবে উপরোক্ত সমস্ত পরিস্থিতি-পরিবেশের সৃষ্ট ও হরেক ভাষার সংমিশ্রণের ফল এক নয়া ভাষা। সে ভাষার সৃষ্টিকার্য ইতিমধ্যেই শুরু হইয়াছে। দুর্ভাগ্যবশত শুধু আমাদের সাহিত্যিকদের নযরেই সে বিপুল নির্মাণ-কার্য আজো ধরা পড়ে নাই।
ফর্মেটিভ স্তর : অথচ সাহিত্যিকদেরই কাজ এই সৃষ্টি-কার্যে এই গ্রোথে সকল শক্তি ও মনীষা দিয়া সাহায্য করা। আমাদের পাড়াগাঁয়ে প্রচলিত হাজার-হাজার শব্দ অবহেলিত এবং অজ্ঞাত অবস্থায় পড়িয়া আছে। এই সব শব্দ আমাদের সাহিত্যের সম্পদ হইতে পারে। এই সমস্ত শব্দের সংযোগে আমাদের ভাষা হইবে সম্পদশালী। তার গতি হইবে অঞ্চল ও বেগবান। তার প্রাণ-শক্তি হইবে প্রচুর। জীবন্ত ভাষার গ্রোথ ও প্রেসারের শেষ নাই। শুনা যায়, গত পঞ্চাশ বছরে ইংরেজি ভাষায় প্রায় পঁচিশ হাজার নতুন শব্দ প্রবেশ করিয়াছে। ইংরেজ লেখক ও সাহিত্রিকরা দুই বাহু মেলাইয়া ঐসব শব্দ নিজস্ব ভাষায় গ্রহণ করিয়াছেন। ইংরাজি ভাষার এই ইলাস্টিসিটি এই প্রসারণ ক্ষমতা আছে বলিয়াই ইংরাজের রাষ্ট্রীয় সাম্রাজ্যের অবসান হওয়ার পরেও দুনিয়ায় ইংরেজি ভাষার সা¤্রাজ্য একটুকুও সংকীর্ণ হয় নাই।
আমাদের নয়া ভাষা গঠনে অমনি উদার বাস্তববাদী হইতে হইবে আমাদের। আমি আগেই বলিয়াছি আমাদের রাজধানী তথা অন্যান্য শহরের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বাংগালী ভদ্রলোকের কথ্য ভাষাই হইবে আমাদের সাহিত্যের ভাষা। তাঁর তাঁদের অফিসে-আদালতে, ক্লাবে-বৈঠকখানায় স্কুল-কলেজে যে ভাষায় কথা কন, যে-সব শব্দ ও ক্রিয়াপদ যে স্বর-ভঙ্গিতে যে বাক-প্রণালীতে ব্যবহার করেন সেইটাই হইবে আমাদের সাহিত্যের ভাষা। এ ভাষা এখনও ফর্মেটিভ স্তরে। একটা মডেল বাক্য নেওয়া যাক।
কেতাবী বাংলা- তুলার বাজার এমন মহার্ঘ আর দেখি নাই। তুলার অভাবে সূতার কলগুলী বন্ধ গিয়াছে। সুতরাং অভাবে পাল বোনা হইতেছে না। পালের অভাবে নৌকার ক্ষেপ দেওয়া যাইতেছে না। ফলে হাঁড়ি-পাতিল বেচা-কিনা বন্ধ। কুমারদের তাতে বড়ই অসুবিধা হইয়াছে। দুই মুঠা ভাতের জন্য তারা পৈত্রিক জীবিকা হইতে বাহির হইয়া আসিয়াছে। তবে ভিক্ষা করিয়া খাইবার ইচ্ছা তাদের নাই। স্ত্রী-পুত্রকে খাওয়াইয়া-পরাইয়া বাঁচাইয়া রাখিবার জন্য তারা লাকড়ির ব্যবসা ধরিয়াছে। কাঠ কুড়াইবার উদ্দেশ্যে তারা কুড়াল-হাতে নদী পার হইয়া সুন্দরবনে যায় খুব সকাল বেলা। সারাদিন পরে বিকাল-সন্ধ্যায় কাঠ লইয়া ঘরে ফিরিয়া আসে।
পশ্চিম বাংলার বাংলা- তুলোর বাজার এমন মাগগি আর দেখি নি। তুলোর অভাবে সূতোর কলগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সূতোর অভাবে পাল বোনা হচ্ছে না। পাল ছাড়া নৌকার ক্ষেপ দেয়া যাচ্ছে না। ফলে হাঁড়ি-পাতিল বেচা-কেনা বন্ধ। কুমোরদের তাতে বড্ড অসুবিধে হয়েছে। দুমুঠো ভাতের আশায় তারা পৈত্রিক ব্যবসা থেকে বেরিয়ে এসেছে। তবে ভিক্ষে করে খাবার ইচ্ছে তাদের নেই। মাগ-ছেলেকে খাইয়ে-পরিয়ে বাঁচিয়ে রাখবার জন্যে তারা লাকড়ির ব্যবসা ধরেছে। কাঠ কুড়োবার উদ্দেশ্যে তারা কুড়োল হাতে নদী পেরিয়ে সুন্দরবনে যায় খুব সকালে। সারাদিন পরে বিকেল-সন্ধ্যেয় কাঠ নিয়ে ঘুরে ফিরে আসে।
পূর্ব বাংলার বাংলা - তুলার বাজার এমন মংগা আর দেখি নাই। তুলার অভাবে সূতার কলগুলি বন্ধ হৈয়া গেছে। সূতার অভাবে পাল বোনা হৈতেছে না। পাল ছাড়া নৌকার ক্ষেপ দেওয়া যা’তেছে না। ফলে হাড়ি-পালি বেচা-কিনা বন্ধ। কুমারদের তাতে খুবই অসুবিধা হৈছে। দুই মুঠা ভাতের আশায় তারা খান্দানী পেশা থনে বার হৈয়া আসছে। তবে ভিক্ষা কৈরা খাবার ইচ্ছা তাদের নাই। জরু-কবিলারে খাওয়া’য়া- পরা’য়া বাঁচা’য়া রাখবার লাগি তারা লাকুড়ির ব্যবসা ধরছে। কাঠ কুড়াবার মতলবে তারা নদী পার হৈয়া সুন্দরবনে যায় খুব সকালে। সারাদিন পরে বিকাল-সন্ধ্যায় কাঠ লৈয়া ঘরে ফি’রা আসে। 
ক্রিয়াপদে আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব : এই মডেল বাক্যটিতে আপনারা লক্ষ্য করিবেন ‘তুলা’ ‘সূতা’ ‘নৌকা’ ‘মুঠা’ ‘দেওয়া’ ‘অসুবিধা’ ‘কুড়াইবার’ ‘বিকাল’ ‘সন্ধ্যা’ ‘ইচ্ছা’ ‘কুড়াল’ ‘গুলি’ ‘নাই’ ইত্যাদি শব্দগুলির ব্যাপারে কেতাবী বাংলা ও পূর্ব-বাংলার বাংলার মধ্যে হুবহু মিল আছে। পশ্চিম-বাংলা এখানে অনর্থক শব্দগুলিকে বিকৃত করিয়াছে। সুতরাং এই শব্দগুলির বেলায় এবং অনুরূপ আরও অনেক শব্দের বেলায় পূর্ব-বাংলায় প্রচলিত ভাষা অধিকতর ‘সাধু’ সভ্য ও সাহিত্যে গ্রহণযোগ্য। এ-সব শব্দের ব্যবহারে পশ্চিম-বাংলার অনুকরণ করা অর্থহীন নকল-নবিসি মাত্র।
কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে ক্রিয়াপদ নিয়া। ‘ছাইড়া’ ও ‘ছেড়ে’, ‘হৈয়া’, ও ‘হয়ে’, ‘খাইছি’ ও ‘খেয়েছি’ ও ‘খাইতেছি’ ‘খাচ্ছি’ ইত্যাদি ক্রিয়াপদ ও অনুরূপ হাজারো ক্রিয়াপদের কোনটা লেখায় ইস্তেমাল করিব, সেটা টিক করা বাস্তবিকই কঠিন কাজ। কারণ শুধু ‘হৈয়া’ ‘কৈরা’ই পূর্ব-পাকিস্তানের শব্দ, ‘হয়ে’ ‘করে’ পূর্ব-পাকিস্তানের শব্দ নয়, এ কথা কওয়া চলে না। পদ্মার পশ্চিম পারের, বিশেষত খুলনা যশোর ও কুষ্টিয়ার, লোকেরা ঐÑসব ক্রিয়াপদ ব্যবহার করিয়া থাকেন। পূর্ব-পাকিস্তানের কথ্য ভাষায় এঁদের প্রভাব ও প্রাক-পাকিস্তানী বাংলা সাহিত্যের ঐতিহ্য এই দুই-এর সমন্বয় আমাদের মধ্যবিত্ত শিক্ষিত সমাজের কথ্য ভাষায় যে শক্ত মোচড় দিতেছে এবং  আরও দিবে, তাতে সন্দেহ নাই। তাতে আমাদের কথ্য ভাষা, সুতরাং সাহিত্যের ভাষা, যে একটা খিচুড়ি হইবে, তাতেও সন্দেহ নাই। আপত্তি থাকিবার কারণও নাই। শুধু সেটা জগা-খিচুড়ি না হইলেই হইল।  [চলবে]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ