ঢাকা, বুধবার 22 February 2017, ১০ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পাইকগাছায় কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নেই

# সিএইচসিপি’রা বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে
খুলনা অফিস: খুলনার পাইকগাছায় কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ না থাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের লোকজন স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে জরাজীর্ণ ভবনে চলছে ক্লিনিকের কার্যক্রম।
আবার নেই বিদ্যুৎ, নেই বাথরুম, নেই সুপিয় পানির কোন ব্যবস্থা। অপরদিকে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় দুশ্চিন্তাই রয়েছেন কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)’রা। বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দোর গোড়ায় পৌঁছিয়ে দেয়ার লক্ষে ১৯৯৬ সালে সারাদেশে সাড়ে ১৩ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয় সরকার। এ লক্ষে জেলার পাইকগাছায় প্রস্তাবিত ৩৯টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ৩৭টি ক্লিনিক চালু এবং কর্মী নিয়োগ হয়।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতি ৬ হাজার জনগোষ্ঠীর জন্য একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হলেও ক্লিনিকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ সরবরাহ না থাকার কারণে সরকারের মহতি এ লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না। আর সে কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জানা গেছে, প্রতি ৩/৪ মাস পর পর প্রতিটি ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহ করা হয়। যে ওষুধ সরবরাহ করা হয় তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। ক্লিনিকে প্রতিদিন ৫০/৬০ জন করে রোগী আসে। এর মধ্যে পেটের পীড়া, চুলকানি ও গ্যাসের রোগীর সংখ্যাই বেশী।
আর সে কারনে মেট্রোনিডাজল, এন্টি হিসটামিন ও গ্যাসের যে ওষুধ সরবরাহ করা হয় তা ১৫ দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এ সময় রোগীরা এসে ওষুধ না পাওয়ার কারণে কোন কোন সময় ঘটে অনাকাঙ্কিত ঘটনা।
গজালিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মশিউর রহমান রাজু জানান, জনসংখ্যার তুলনায় এখানে  ওষুধ আসে খুবই কম।
সমাজ সেবক জি এম ইকরামুল ইসলাম জানান, গজালিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনের অবস্থা খুবই খারাপ। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলে ক্লিনিকের কার্যক্রম।
অল্প বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। মেঝের পলেস্টার ওঠে গেছে, দেওয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। দরজা জানলা ভাঙ্গা। বাথরুম নষ্ট, পানিও জলের কোন ব্যবস্থা নেই। একটি টিউবওয়েল রয়েছে তাও খারাপ।
রহিমা বেগম জানান, মাঝে মাঝে ঠিকমত ওষুধ পাওয়া যায়। তবে চাহিদার তুলনায় কম। গদাইপুর ইউপির মেলেক পুরাইকাটী গ্রামের আনোয়ারা বেগম জানান, হিতামপুরের এই ক্লিনিকে মাসের প্রথম দিকে ওষুধ পাওয়া যায় পরে আর পাওয়া যায় না।
এই ক্লিনিকে স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ দেয়া হয়। এলাকাবাসী প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে উপজেলার ৩৭টি কমিউনিটি ক্লিনিকের অধিকাংশ ভবনের অবস্থা খুবই খারাপ। নষ্ট হয়ে গেছে ছাদ। যা পুনরায় দেয়া প্রয়োজন। দরজা জানলা নেই বললেই চলে, নেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। টিউবওয়েল আছে পানি উঠে না। নষ্ট প্রায়।
অপরদিকে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় দুশ্চিন্তাই রয়েছেন কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)’রা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ