ঢাকা, বুধবার 22 February 2017, ১০ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চৌহালী: কৃষিতে ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণ ॥ ব্যাপক সফলতা

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : সিরাজগঞ্জের যমুনার চরাঞ্চল অধ্যুষিত চৌহালী উপজেলায় কৃষিতে গত এক বছরে বৈপ্লবিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদকে ভুষিত, কৃষির ডিজিটাল ঠিকানা সফটওয়ারের উদ্ভাবক চৌহালী উপজেলা কৃষি অফিসার শাহাদৎ হোসনে সিদ্দিকীর যোগদানের এক বছরের মধ্যে এ উপজেলায় এখন কৃষিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। কৃষকদের মধ্যে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার, সরকারী সকল সুযোগ সুবিধা শতভাগ নিশ্চিত করণ ও  নিয়মিত তদারকির কারনে এখন চৌহালী উপজেলা কৃষিতে মডেল।
জানা যায়, যমূনার বুকে জেগে উঠা বহু চর নিয়ে  চৌহালী উপজেলা গঠিত হয়েছে। এখানে বর্ষা মৌসুমে নৌকা আর শুস্ক মৌসুমে পায়ে হাঁটা রাস্তাই এক মাত্র ভরসা। যমুনার ভাঙনে অধিকাংশ পাকা সড়ক বিলীনের পর যেগুলো রয়েছে সেগুলোও আবার ব্যবহার অনুপযোগী  কৃষিকাজ এ অঞ্চলের মানুষের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলেও স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে এ অঞ্চল কৃষিতে তেমন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। যমুনা বিধ্বস্ত এ উপজেলায় পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় সরকারী-বেসরকারী কর্মকর্তাগণ এখানে বেশী সময় থাকতে চান না। যোগদানের পরই জোর তদবিরের মাধ্যমে দ্রুত চলে যান অন্যত্র। যার দরুন উপজেলার সকল স্থানে সেবাদানের সুযোগ হয় না। অবহেলিত মানুষের উন্নতির সপ্ন অধরাই থেকে যায় দিনের পর দিন, মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর। এমনই একটি পরিস্থিতিতে গত বছর পহেলা ফেব্রুয়ারী উপজেলা কৃষি অফিসার হিসেবে পদোন্নতিযোগে চৌহালীতে আসেন শাহাদৎ হোসাইন সিদ্দিকী। ২৯তম বিসিএস এর মাধ্যমে যোগদানকৃত ঐ কর্মকর্তা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার হিসেবে ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারী মাস পর্যন্ত বেলকুচিতে সাফল্যের সাথে চাকুরী করেছেন। বিলম্বজনিত বন্যা ও বৃষ্টির দরুন পরবর্তী মৌসুমের ফসল চাষেও বিলম্ব হয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার। বন্যার শেষে দিকে ব্যক্তিগত অর্থায়নে প্রায় আড়াই হাজার কৃষকের মাঝে লাউ, সিমসহ বিভিন্ন ধরণের সবজি বীজ বিতরণ করেন।
প্রায় প্রতিটি কৃষকের বাড়ীতে মাটির পাত্রে, ভাঙ্গা চাড়ি, ভাঙ্গা বালতি ইত্যাদিতে লাউ-সিমের বীজ বপন করেন। বৃষ্টির সময় কৃষকগণ পাত্রটি ঘরে উঠিয়ে রাখেন এবং অন্য সময় বাহিরে রাখেন। এ কারণে এবছর চরাঞ্চলের কৃষকরা প্রায় কোটি টাকার শীতকালীন সবজি বিক্রি করেছে। গত বছরে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কৃষকের মাঝে পুনর্বাসন ও প্রনোদনা কর্মসূচীর আওতায় মাসকালাই, সরিষা, গম, চিনাবাদাম, বিটি বেগুন, তিল ও মুগের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তা পুরোনো প্রথা ভেঙ্গে প্রকৃত কৃষকের হাতে বীজ ও সার পৌঁছে দিয়েছেন। পূর্বে যেখানে ২০-২৫ টি প্রদর্শনী স্থাপিত হতো, সেখানে গত বছর প্রায় আড়াইশ প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। এব তা অত্যন্ত সাফল্যের সাথে প্রদর্শনীগুলো স্থাপন করা হয়েছে। যার দরুন উপজেলায় কৃষকের মাঝে উন্নত প্রযুক্তি বাস্তবায়নে ব্যপক সাড়া পড়েছে। নিয়মিত কাজের পাশাপাশি তিনি নিজ উদ্যোগে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। যার মধ্যে আদর্শ, শুকনো ও পলিথিন বীজতলা স্থাপন একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। সাধারণত কৃষকগণ বন্যার পানিতে কাদা করে ধানের চারা করেন। এতে করে মাঠে রোপণ পর্যন্ত চারার বয়স ৮০-৯০ দিন হয়ে যায়। যাতে ফলন বহুলাংশে কমে যায়।
বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় পুরো উপজেলাজুড়ে কৃষক গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। গ্রুপগুলো সঠিকভাবে যাচাইবাছাই করে গঠন করার দরুন কার্যকরভাবে চলছে। এক বছরে পাঁচটি মিশ্র ফল বাগান তৈরি করা হয়েছে। যেখানে মাল্টা, মাত্র সাড়ে তিন বছরে ফলদানে সক্ষম খাটো জাতের নারিকেল গাছ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল যেখানে কোনদিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিচরণ ছিল না সেসব এলাকায় মিটিং করে কৃষকগণকে উৎসাহিত করাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে তার অবদান উল্লেখ করার মতো। এদিকে চৌহালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে নিজের ঝুলিতেও ভরে নিয়েছেন বেশ কয়েকটি পুরস্কার, যেগুলোর মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে জনপ্রশাসন পদক-২০১৬, মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত কর্তৃক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এওয়ার্ড ২০১৬ উল্লেখযোগ্য। যেভাবে পুরো উপজেলায় সকলের মাঝে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে কৃষি উন্নতি আর বেশী দিন দূরে নয়-এ কথা নিশ্চিত বলা যায়। সার্বিক বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ডিজিটাল, উন্নত পদ্ধতি অনুসরণ ও শত ভাগ প্রয়োগ করে চরাঞ্চল অধ্যুষিত চৌহালী উপজেলায় অধিক ফসল উৎপাদন করে দেশসেরা কৃষি সর্মৃদ্ধ উপজেলা গড়তে শত ভাগ চেষ্টা করে যাচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ