ঢাকা, বুধবার 22 February 2017, ১০ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মহান ২১ এর চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে -মিয়া গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন স্বাধীনতা আন্দোলনের চেতনাকে বিকশিত করেছিল। ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালে আমরা মরণপণ মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের এক রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটেছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য দীর্ঘ দিনেও আমরা স্বাধীনতার সুফল ঘরে তুলতে পারিনি। শাসকগোষ্ঠীর নেতিবাচক রাজনীতি ও ক্ষমতালিপ্সায় ভাষা শহীদদের সম্মান প্রদর্শন করা হয়নি। বাংলা ভাষাকেও সর্বজনীন করা সম্ভব হয়নি। তিনি ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং মহান ২১ এর চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ফেডারেশনের ঢাকা মহানগরী উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা মুহিব্বুল্লাহর সভাপতিত্বে ও সহকারি সেক্রেটারি এইচ এম আতিকুর রহমানের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহা. রেজাউল করিম। বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা মোস্তফা কামাল ও নূরুল আমিন প্রমুখ।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ৫২র ভাষা আন্দোলন ছিল বিশ্ব ইতিহাসের এক যুগান্তকারী অধ্যায়। ভাষার জন্য এমন ত্যাগ ও কোরবানীর নজির বিশ্ব ইতিহাসে আর নেই। সেদিন ভাষার জন্য রাজপথে প্রাণ দিয়েছিলেন সালাম, জব্বার, রফিক, বরকত ও শফিউর সহ আরো অনেকেই। আর সে জন্যই ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু ভাষা আন্দোলনে যারা অগ্রসৈনিকের ভূমিকা পালন করেছিলেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাদেরকে মূল্যায়ন না করে বরং অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। ডাকসুর সাবেক জিএস ও ভাষা সৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযমকে সরকার ভাষা সৈনিক হিসাবে স্বীকৃতি না দিয়ে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যই জেলখানায় বন্দী করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। যারা মানুষের অধিকার সম্পর্কে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন সরকার তাদেরই জুলম-নির্যাতন চালাচ্ছে। কিন্তু মিথ্যাচার চালিয়ে কখনো ইতিহাস বিকৃত করা যাবে না বরং সত্য একদিন প্রতিষ্ঠিত হবেই।
ড. মুহা. রেজাউল করিম বলেন, অন্যায়, অবিচার, অপরাজনীতি ও বৈষম্যের পরিবর্তে ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ছিল স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে মরণপণ মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করলেও চার দশক পরেও স্বাধীনতার সুফল আজও আমাদের কাছে অধরায় রয়ে গেছে। অবৈধ ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে চালানো হচ্ছে বিচার বহির্ভূত হত্যাকা-। বিরোধী দলগুলোর উপর চালানো হচ্ছে গণগ্রেফতার ও নিমর্ম নির্যাতন। স্বাধীনতা ও ভাষা আন্দোলনের দুর্বার চেতনা আজ ফ্যাসিবাদের কালো থাবায় জর্জরিত। তাই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের কোন বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে তিনি ২১ এর চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদ মুক্ত গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বলেন, মাতৃভাষায় হচ্ছে গণমানুষের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। তাই মাতৃভাষার মাধ্যমেই শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষের কাছে ইসলামের সুমহান আদর্শ তুলে ধরতে হবে। মূলত ইসলামী আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই রয়েছে ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি। তিনি ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে শ্রমজীবী মানুষসহ সকল শ্রেণির মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
উত্তরা পূর্ব: শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন উত্তরা পূর্ব থানা আয়োজিত শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান মোঃ মেছবাহ উল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ঢাকা মহানগরী উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা মহিববুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামী উত্তরা পূর্ব থানা আমীর মাহবুবুল আলম মুকুল। উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারী মাহবুবুর রহমান ফেরদাউস, মাহফুজুর রহমান ও আবুল কাশেম প্রমুখ। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ