ঢাকা, বুধবার 22 February 2017, ১০ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শাসকগোষ্ঠীর অহমিকা ও অপরাজনীতির কারণে ভাষা শহীদদের যথার্থভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি -ড. রেজাউল করিম

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহা. রেজাউল করিম বলেছেন, ’৫২-র ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার জন্য ছিল না, বরং এই আন্দোলন স্বাধিকার চেতনার জোড়ালো ভিত্তি দিয়েছিল। ফলে আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলাম। কিন্তু অতীব পরিতাপের বিষয় যে, দীর্ঘকালের পরিক্রমায় আজও আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, বাক-স্বাধীনতার অধিকার ফিরে পাইনি। শাসকগোষ্ঠীর অহমিকা ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক অপরাজনীতির কারণে ভাষা শহীদদের যথার্থভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। তিনি ভাষা শহীদদের পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং মহান ২১ এর চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদী শক্তির মোকাবিলায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিশে শূরা সদস্য ড. আহসান হাবীরের পরিচালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন রমনা থানা সেক্রেটারি আতাউর রহমান সরকার, জামায়াত নেতা রুহুল আমীন ও আখতার হোসাইন প্রমুখ।
ড. করিম বলেন, ১৯৪৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল। তমদ্দুন মজলিস এ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। অধ্যাপক গোলাম আযম ছিলেন এ আন্দোলনের অগ্রসৈনিক। তিনি ভাষার দাবিতে মানপত্রও পাঠ করেছিলেন। তিনি ডাকসুর নির্বাচিত জিএস থাকলেও রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণে ডাকসুর নামফলক থেকে তার নাম মুছে ফেলা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের নিমর্ম ও অমানবিক নির্যাতনে কারারুদ্ধ অবস্থায় এই ভাষাসৈনিক মৃত্যুবরণ করেন। সরকার প্রতিহিংসাবশতই ভাষা আন্দোলনের কৃতিত্ব থেকে অধ্যাপক গোলাম আযমকে বঞ্চিত করার ঘৃণ্য চক্রান্তে লিপ্ত। কিন্তু ভাষা আন্দোলনকে নিয়ে আওয়ামী লীগ ও একশ্রেণীর বুদ্ধিজীবীর নিকৃষ্ট মিথ্যাচার দেশপ্রেমী জনতা কখনোই মেনে নেবে না বরং ইতিহাসই প্রকৃত ভাষা সৈনিকদের মর্যাদা নিশ্চত করবে।
তিনি বলেন, অন্যায়, অবিচার, অপরাজনীতি ও বৈষম্যের পরিবর্তে ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ছিল স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে মরণপণ মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করলেও চার দশক পরেও স্বাধীনতার সুফল আজও আমাদের কাছে অধরায় রয়ে গেছে। অবৈধ ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে চালানো হচ্ছে বিচার বহির্ভূত হত্যাকা-। বিরোধী দলগুলোর উপর চালানো হচ্ছে গণগ্রেফতার ও নিমর্ম নির্যাতন। স্বাধীনতা ও ভাষা আন্দোলনের দূর্বার চেতনা আজ ফ্যাসিবাদের কালো থাবায় জর্জরিত। তাই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই স্বৈরাচারি ও ফ্যাসীবাদী সরকারের পতনের কোন বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে তিনি ২১ এর চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ফ্যাসীবাদ মুক্ত গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
ভাষানটেক থানা : জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান বলেছেন, বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিউরদের আত্মোৎস্বর্গের কথা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। কিন্তু অনেক ত্যাগের বিনিময়ে বাংলা রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা পেলেও রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রেই বাংলা ভাষা এখনও উপেক্ষিত। তাই মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তিনি ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং তাদের রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন।
গতকাল রাজধানীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের ভাষানটেক থানা আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। থানা আমীর আলাউদ্দীন মোল্লার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন থানা সেক্রেটারি শাহ আলম, জামায়াত নেতা আলী হায়দার ও আহাদ জেহাদি প্রমুখ।
মাহফুজুর রহমান বলেন, মূলত ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ইসলামপন্থীরাই। তমুদ্দন মজলিশের নেতৃত্বেই ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়। অধ্যাপক গোলাম আযম ভাষা আন্দোলনের একজন বীর সেনানী ছিলেন। কিন্তু নেতিবাচক রাজনীতির কারণেই তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি বরং প্রতিহিংসা বশত তার উপর জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। কিন্তু ষড়যন্ত্র ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস থেকে অধ্যাপক গোলাম আযমের নাম মুছে ফেলা যাবে না। তিনি ২১-এর চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সকলকে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
দারুসসালাম থানা : জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের দারুসসালাম থানার উদ্যোগে নগরীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন থানা আমীর মুস্তাফিজুর রহমান। থানা সেক্রেটারি আবু রাইয়ানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা আবু হাসনাইন, আবু নাহিয়ান, আবু সা’দ ও ডা. রেজা প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণে এবং ভাষা শহীদদের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত পরিচালানা করা হয়।
শাহ আলী থানা : শাহ আলী থানার উদ্যোগে কাকলী মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন থানা আমীর আবুল হাসান। উপস্থিত ছিলেন থানা সেক্রেটারি নাকিব ফেরদাউস সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। পরে ভাষা শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
কাফরুল থানা : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কাফরুল থানার উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন থানা আমির অধ্যাপক আনোয়ারুল করিম। উপস্থিত র্ছিলেন থানা সেক্রেটারি আব্দুল মতিন খান, থানা মজলিসে শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য তারেক রাজা তুহিনসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড সভাপতি ও সেক্রেটারিবৃন্দ।
বিমানবন্দর থানা : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে বিমানবন্দর থানার উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। থানা আমীর এডভোকেট ইব্রাহিম খলিলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উত্তরা জোনের সহকারি পরিচালক এইচ এম আতিকুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়াও কাওলায় ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্প, কিডস গার্ডেন একাডেমীতে রেলী, ক্বিরাত, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুস্ককার বিতরণ করা হয়।
উত্তরা পূর্ব : ভাষা দিবস উপলক্ষে উত্তরা পূর্ব থানার উদ্যোগে সকাল ৭টায় বন্ধন, স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, সকাল ৯টায় ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ও মেডিকেল ক্যাম্পিং, সকাল ১০টায় ৪নং ওয়ার্ডে, সকাল ১১টায় ৬নং ওয়ার্ডে ও দুপুর ১২ টায় ৮নং ওয়ার্ডে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে সহকারি জোন পরিচালক মাওলানা মুহবল্লাহ ও থানা আমীর মাওলানা মাহ্বুব আলমসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উত্তরা পশ্চিম : ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, বই বিতরণ, দোয়া মাহফিল, কবিতা আবৃতি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। কর্মসূচিতে উত্তরা জোন পরিচালক ইবনে কারীম আহমদ মিঠু ও থানা আমীর এডভোকেট বেলায়েত হোসেন সুজাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তুরাগ থানা : তুরাগ থানার উদ্যোগে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, ফ্রি চিকিৎসা সরঞ্জাম বিতরণ, পাঠ্য বই বিতরণ ও দোয়া এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। থানার বিভিন্ন ওয়ার্ডে এসব কর্মসূচি যুগপৎভাবে পালন করা হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জোন পরিচালক ইবনে কারীম আহমদ মিঠু ও থানা আমীর মেজবাহ উদ্দীন নাঈম সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
উত্তরখান থানা : উত্তরখান থানার সকল ওয়ার্ডে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জোন পরিচালক ইবনে কারীম আহমদ মিঠু। উপস্থিত ছিলেন থানা আমীর অধ্যাপক কামাল উদ্দীনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও থানার উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, ক্বিরাত, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
দক্ষিণখান থানা : দক্ষিণখান থানার উদ্যোগে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, বই বিতরণ, দোয়া মাহফিল, কবিতা আবৃতি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জোনের সহকারী পরিচালক এইচ এম আতিকুর রহমান ও থানা আমীর এডভোকেট মনিরুল হকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
পল্লবী থানা : পল্লবী থানার উদ্যোগে নগরীতে স্থানীয় মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। থানা সেক্রেটারি এস কে বিপ্লবের পরিচালনায় আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন থানা আমীর আশরাফুল আলম। উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা এম আব্দুল্লাহ, রাইসুল ইসলাম ও এস আহমদ প্রমুখ।
আদাবর থানা : আদাবর থানার উদ্যোগে ভাষা দিবসের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন ডা. এস রহমান। উপস্থিত ছিলেন থানা নায়েবে আমীর আবু সাকীব, জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ ইউসুফ ঈমাম, মোজাম্মেল হোসেন সেলিম ও হাসান আব্দুল্লাহ সাকিব প্রমুখ।
রামপুরা : রামপুরা থানার উদ্যোগে ভাষা দিবসের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন থানা আমীর। পরে তিনি মোনাজাত পরিচালনা করেন। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা এস ইসলাম, আব্দুল মালেক, এ এস ফরহাদ, আরিফুল ইসলাম ও এইচ ইসলাম প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ