ঢাকা, বৃহস্পতিবার 23 February 2017, ১১ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শাখা খাল খনন ও দখলমুক্ত করলে ঘটতে পারে কৃষি বিপ্লব

কুষ্টিয়া জিকে সেচ প্রকল্পের প্রধান পাম্প

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা: একসময়ে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প গঙ্গা সেচ প্রকল্পের অধীনে কয়েক লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেয়া হতো। সেচের মাধ্যমে কুষ্টিয়াসহ ৫টি জেলার চাষিরা বিভিন্ন ধরনের ফসলের আবাদ করতো। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতার কারণে জিকের অধীনে বিভিন্ন ছোট বড় ক্যানেল খনন কাজ না করায়  ভরাট হয়ে গেছে ক্যানেলগুলো। পানি চলাচল না করায় অবৈধ দখলদারদের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ক্যানেলগুলো। ফলে পানির অভাবে ধমকে গেছে চাষিদের মাঠের বোরা চাষসহ লক্ষাধিক এক ফসলের আবাদ।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, ১৯৬৯ সালে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, মাগুড়া ও যশোর জেলার ১ লাখ ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেয়ার জন্য সরকার ১৯৫৪ সালে পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতুর ১ কিলোমিটার ভাটিতে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা জিকে সেচ প্রকল্পের কাজ শুরু করে। ১ হাজার ৬শ’ ৬৫ কিলোমিটার সেচ খাল দিয়ে বছরে দু’বার সেচ সুবিধা দিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার কৃষককে সেচ সুবিধা দেয়া হতো। সেসময় জিকের ক্যানেলে প্রায় সময়ই পানি থাকতো। মানুষ গোসল করা থেকে শুরু করে সকল কাজে ব্যবহার করতো। কিন্তু পানি আগ্রাসনের কারণে একদিকে ভারতের ফারাক্কা পানি চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়া ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণে জিকের খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। ঠিকমতো পানি না থাকায় জিকের খালগুলো হারিয়েছে তার যৌবন। দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প গঙ্গা সেচ প্রকল্প হুমকীর সম্মুখীন হয়েছে। সেচ প্রকল্পের অধীনে ১ লাখ ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দিতে পারছে না। প্রকল্পের ১৯৩ কিলোমিটার প্রধান সেচ খাল ও ১ হাজার ৪শ’ ৬২ কিলোমিটার শাখা খাল পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। পানির অভাবে ধমকে গেছে চাষিদের মাঠের আউস চাষসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ।  গত বোরো মওসুমে কুষ্টিয়া অঞ্চলের মাত্র ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেয়ার পরিকল্পনা করলেও নানান কারণে তা ব্যাহত হয়। ফলে জিকে সেচ প্রকল্পের অধীনে ৪ লাখ ৮৮ হাজার একর জমি অনাবাদী থেকে যায়। ফলে কুষ্টিয়াসহ ৫ জেলার লাখ লাখ কৃষকের জীবন জীবিকাসহ ৫ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে। জেলার ত্রিমোহনী, বারখানাসহ বিভিন্ন শাখা খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় ও অবৈধ দখলদারারা সেখানে অবৈবধভাবে মার্কেট করায় অনিশ্চয়তার মুখে জিকে সেচ প্রকল্পের কার্যক্রম। তবে এলাকার লোকজন নিজেদের সম্পত্তি অযোক্তিক দাবি করে অনেকেই খাল ভরাট করে বাড়িঘর মার্কেট তৈরি করেছে। এতে পানি সরবরাহের পথ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে ফেললেও জিকে কর্তৃপক্ষ রয়েছে নীরব।  অবৈধ দখলদারদের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ফসলের আবাদ। অনাবাদী থাকছে হাজার হাজার হেক্টর জমি।
খালগুলো আর আগের অবস্থায় নেই। ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষি আবাদসহ পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
ক্যানেল ভরাট হয়ে যাওয়ায় গোসল করতে পারছে না মানুষ। পানিশূন্য হয়ে পড়ায় বিভিন্ন সমস্যায় পড়েছে কুষ্টিয়ার জিকে খাল সংলগ্ন মানুষ। তাই পানির জন্য খাল খননের দাবি কুষ্টিয়াবাসীর।
জিকের প্রধান খালসহ শাখাখালগুলো খনন না করায় সঠিকভাবে পানি পাচ্ছে না জিকের অধীনে আবাদযোগ্য চাষিরা। ফলে অনাবাদী থাকছে হাজার হাজার একর জমি। কুষ্টিয়াসহ ৫ জেলার লাখ লাখ কৃষকের জীবন জীবিকাসহ ৫ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে। জিকে কর্তৃপক্ষ প্রধান খালসহ শাখাখালগুলো খনন ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে কৃষকদের পানির নিশ্চয়তাদান করবেন এটাই প্রত্যাশ্যা কুষ্টিয়াবাসীর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ