ঢাকা, বৃহস্পতিবার 23 February 2017, ১১ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রাজবাড়ীহাট আঞ্চলিক খামারে মুরগি পাচার

গোদাগাড়ী (রাজশাহী) সংবাদদাতা: রাজবাড়ীহাট আঞ্চলিক হাঁস-মুরগী খামারে ৩শ’ টি মুরগী চোরা পথে পাচারকালে খামার গেটে আটক করেছে জনতা। গত রবিবার সন্ধ্য ৬ টার সময় রাজশাহীর রাজবাড়ীহাট আঞ্চলিক হাস-মুরগী খামার থেকে প্রায় ৩শ’ ৫০ টি মুরগী জবাই করে বস্তায় ভরে চোরাইভাবে পাচার করার সময় খামার গেটে আটোক করে এলাকার জনতা। ওই সময় বস্তা বহনকারী খামারের কর্মচারিরা মুরগীর বস্তা ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায় বলে এলাকার জনতারা জানাই। পরে পুলিশ ৪৩টি জবাইকৃত মুরগী জব্দ তালিকায় দেখিয়েছে। এলাকার সাধারণ জনগণ অভিযোগ করেন এর আগেও খামারের উপ-পরিচালক ডা. গোলাম কাদির ও পোল্ট্রিজেনেট্রিস্ট হুমায়ুন কবির খামারের  মুরগী ও ডিম রাতের অন্ধকারে চোরাইভাবে বিক্রি করেছে অনেক বার।
খামারের উপ-পরিচালক ডা. গোলাম কাদির ও পোল্ট্রিজেনেট্রিস্ট হুমায়ুন কবিরের নির্দেশে সন্ধ্যার পর খামারের পোল্ট্রি টেকনিশিয়ান আপন, ইয়াসিন, বাবলু, পোল্ট্রি এটেনডেন্ট শুখদেব, নিমাই, বড়বাবু আরেফিন, গোলাম রব্বানীসহ অন্যান্যরা মুরগীর শেড হতে মুরগী জবাই করে বস্তায় ভরে পাচার করছিল। এমন সময় এলাকার সাধারন জনগন বিষযটি জানতে পেরে মুরগী গুলো আটক করে।
মুরগী পাচারের সময় উপ-পরিচালক ডা. গোলাম কাদির, পোল্ট্রিজেনেট্রিস্ট হুমায়ুন কবির ও বড়বাবু গোলাম কিবরিয়া স্যান্ড খামারের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বলে এলাকার প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানান।
মুরগী আটকের পর উত্তেজিত জনতা হুমায়ুন কবিরের উপর চড়াও হলে হুমায়ুন কবির দৌড়ে ঘরের মধ্যে ঢুকে যায়। এদিকে জনতার ক্ষোভ দেখে ডিডি ডা. গোলাম কাদির অফিস থেকে বের হয়নি। তিনি পুলিশকে খবর দিলে প্রেমতলী পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনা স্থলে দ্রুত পৌছায়। পরে গোদাগাড়ী মডেল থানা থেকে পুলিশ খামারে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। অভিযোগ রয়েছে পুলিশ যখন উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করছিল ওই সময় উপ-পরিচালক ডা. গোলাম কাদির ও হুমায়ুন কবির অফিসের মধ্যে অগ্রিম সমবারের তারিখ দিয়ে মুরগী বিক্রীর রশিদ কাটছিল। বিষয়টি জনতা জানতে পারলে আবার উত্তেজিত হয়ে অফিসের দিকে ছুটে থাকে। জনতাকে আসতে দেখে তারা রশিদ কাটা বন্ধ করে দেয়। ঘটনার পরের দিন সোমবার সরকারী নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মুরগী ১৫০ টাকা দরে সাধারণ জন গনের কাছে বিক্রীর নিদিষ্ট দিন ছিল।
প্রত্যাক্ষদর্শীরা আরো জানায়, খামারের শেডের মধ্যে জবাই করা মুরগী বস্তার মধ্যে ছিল। মুরগীর সঠিক সংখ্যা তারা বলতে পারেনি। তবে প্রত্যাক্ষদর্শীরা বলছে সব মিলিয়ে ৩শ’ থেকে ৪ শ’ মুরগী হতে পারে। পুলিশের উপস্থিতিতে এলাকাবাসী হাঁস-মুরগী খামারে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রেফতারের দাবী জানায়।
খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যার পর উপ-পরিচালক ডা. গোলাম কাদির তার মোবাইল বন্ধ করে দেয়। রাত্রী ৯ টার সময় তাকে ফোনে পাওয়া গেলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি রহস্যজনক ভাবে কোন উত্তর দেননি। খামারের উপ-পরিচালক পুলিশের কাছে স্বীকার করে খামারে কর্মচারীরা নিজেরাই মুরগী কিনে নিয়ে জবাই করে বাসাই নিয়ে যাচ্ছিল বলে জানাই পুলিশ। পোল্ট্রি জেনেট্রিস্ট হুমায়ন কবিরের নিকট বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি নিশ্চুপ থাকে। মুরগী চুরির ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বদিউজ্জামান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানসহ এলাকার আরও অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ রাতে মুরগি চুরির বিষয়টি জানতে খামারে গিয়ে খামারের উপ-পরিচালক একেএম গোলাম কাদিরকে জিজ্ঞাসা করলে তাদেরকে কোন উত্তর দেননি।
এতে করে তারাও ক্ষোভ প্রকাশ করে। এদিকে এ বিষয়টি নিয়ে রাত্রী ১ টা পর্যন্ত গড়িমসি চালায় এবং অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোন ব্যাবস্থা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এলাকার সাধারণ জনগণ। এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সী জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ