ঢাকা, বৃহস্পতিবার 23 February 2017, ১১ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কমলনগরের ওসি ও ইউপি চেয়ারম্যানের ক্ষমা প্রার্থনা

স্টাফ রিপোর্টার : বিচার বহির্ভূতভাবে গ্রাম্য সালিশে শাস্তির ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অকুল কুমার বিশ্বাস ও চর মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী হাইকোর্টে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। আগামী ৯ মার্চ আবারও তাদের হাজির হতে বলেছেন আদালত।
এ বিষয়ে শুনানিতে হাইকোর্ট বলেছেন, চেয়ারম্যান সাহেব এত ক্ষমতা কোথায় পেলেন? মারপিট করার এখতিয়ার কোথায় পেলেন? চেয়ারম্যান কি এতই ক্ষমতাধর যে আইন হাতে তুলে নেবেন? বিষয়টি সহজে ছাড়া হবে না।
একইসঙ্গে ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চেয়ারম্যান দাফতরিক দায়িত্ব পালন করেছেন কিনা, সে বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দিতে বলেন। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুরের বিচারিক আদালত থেকে ওই চেয়ারম্যানের নেয়া জামিনের নথিও তলব করা হয়।
গতকাল বুধবার বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি একেএম সাহিদুল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে এ বিষয়ে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী এস এম রেজাউল করিম। চেয়ারম্যানের পক্ষে শুনানি করেন আবদুর রব চৌধুরী ও ওসির পক্ষে শুনানি করেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল সোহেল। এছাড়া আদালতে ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এ এস এম নাজমুল হক উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চর মার্টিন ইউনিয়নের গ্রাম্য সালিশে ফতোয়ার নামে বিচার বর্হিভূত শাস্তি প্রদানের ঘটনায় স্বপ্রণোদিত রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ওই দিনই গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন ব্লাস্ট-এর আইন উপদেষ্টা ও পরিচালক এস এম রেজাউল করিম আদালতের নজরে আনলে আদালত এ রুল জারি করেন।
ফতোয়ার নামে গ্রাম্য সালিশে নারী ও পুরুষকে বিচার বর্হিভূত শাস্তি প্রদান কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ব বর্হিভূত ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয় রুলে। পাশাপাশি শাস্তি প্রদানকারী ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না এবং কমলনগর থানার ওসির বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ