ঢাকা, শুক্রবার 24 February 2017, ১২ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শফিক রেহমান লন্ডন যেতে পারেননি 

 

স্টাফ রিপোর্টার : সজীব ওয়াজেদ জয়কে ‘অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্র’ মামলায় জামিনে থাকা শফিক রেহমানের লন্ডনযাত্রা আটকে দিয়েছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ধরার কথা ছিল শফিক রেহমানের। লন্ডনে চিকিৎসাধীন স্ত্রী তালেয়া রেহমানের পাশে থাকতে যুক্তরাজ্যে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ইমিগ্রেশন পুলিশ ফিরিয়ে দেওয়ায় তিনি ইস্কাটনের বাসায় ফিরে যান।

শফিক রেহমানের ব্যক্তিগত সহকারী হরিপদ দাস বলেন, লন্ডন যাওয়ার উদ্দেশে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন শফিক রেহমান। কিন্তু তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বাসায় ফিরে এসেছেন।

হরিপদ দাসের ভাষ্য, ইমিগ্রেশনে প্রবেশের পর বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা এসে শফিক রেহমানের কাছ থেকে পাসপোর্টসহ অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে নেন। কাগজপত্র যাচাই–বাছাই করা হবে বলে জানান কর্মকর্তারা। পরে পাসপোর্ট ও কাগজপত্র ফেরত দেওয়া হয়। শফিক রেহমানকে যেতে দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়ে কর্মকর্তারা দুঃখ প্রকাশ করেন। এ সময় শফিক রেহমান প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখান। কিন্তু কর্মকর্তারা তা আমলে নেননি।

শফিক রেহমান সম্পাদিত ‘মৌচাকে ঢিল’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক সজীব ওনাসিস বলেন, শফিক রেহমানের স্ত্রী তালেয়া রেহমান লন্ডনে চিকিৎসাধীন। তাঁর পাশে থাকার জন্য লন্ডনে যেতে চেয়েছিলেন শফিক রেহমান। গতকাল সকাল সাতটায় তাঁর ফ্লাইট ছিল। আদালতের রায়ের অনুলিপিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ফ্লাইটে উঠতে দেয়নি ইমিগ্রেশন পুলিশ।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, “শফিক রেহমান সাহেব বোর্ডিং পাস নিয়ে উড়োজাহাজে যাওয়ার পথে তাকে ইমিগ্রেশন পুলিশের সদস্যরা বলেন, তার যাওয়ার নির্দেশনা নেই।”

আদালতের প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখালেও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি অভিযোগ করে শায়রুল বলেন, “উনার স্ত্রী তালেয়া রেহমান গত ২২ জানুয়ারি লন্ডনে গেছেন চিকিৎসা নিতে। তিনি খুবই অসুস্থ। তাকে দেখতে এবং নিজের চিকিৎসার জন্যই লন্ডন যাচ্ছিলেন শফিক রেহমান।”

যায়যায়দিনের সাবেক সম্পাদক শফিক রেহমানকে কেন যেতে দেওয়া হয়নি জানতে চাইলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ভোরের দিকে উনি এসেছিলেন। কিন্তু উনার মূল কাগজপত্র আমাদের হাতে না আসায় সমস্যা হচ্ছিল। সব কাগজ ঠিকমত পেলে হয়তো পরে তিনি রওনা হতে পারবেন।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে ‘অপহরণের লক্ষ্যে’ তার সম্পর্কে তথ্য পেতে এফবিআইয়ের এক এজেন্টকে ঘুষ দেওয়ায় দেশটির আদালতে গত বছর প্রবাসী এক বিএনপি নেতার ছেলের কারাদন্ড হয়। সেই রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকায় করা এক মামলায় গতবছর ১৬ এপ্রিল শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাঁচ মাস জেলে কাটানোর পর আপিল বিভাগের জামিনে গত ৬ সেপ্টেম্বর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ