ঢাকা, শুক্রবার 24 February 2017, ১২ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আন্তর্জাতিক পাঁচটি ক্রেতা সংগঠনের বর্জনের ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার : কাল শুরু হচ্ছে ঢাকা এপারেল সামিট ২০১৭। এবারের এই সামিটে বাংলাদেশে শ্রমিক ছাঁটাই এবং শ্রমিক নেতাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক পাঁচটি ক্রেতা সংগঠন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। এতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। যদি তদন্তে চুক্তির বরখেলাপ প্রমাণিত হয় তাহলে বাংলাদেশকে দেওয়া বিশেষ বাণিজ্য সুবিধাও স্থগিত করতে হবে বলে দাবি জানিয়েছে ক্লিন ক্লোদস ক্যাম্পেইন।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতকরণে সরকারি, বেসরকারি খাত, দাতা সংস্থা, ব্র্যান্ড, শ্রমিক সংগঠনসহ এই সেক্টরের সকলকে নিয়ে আগামী ২৫ ফেব্রয়ারি শুরু হতে যাচ্ছে ‘ঢাকা এপারেল সামিট-২০১৭’। কিন্তু‘ বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক কেনে এমন পাঁচটি বড় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড বাংলাদেশে শ্রমিক ছাঁটাই এবং শ্রমিক নেতাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ঢাকায় আসন্ন (বিজিএমইএ) এপারেল সামিটের অনুষ্ঠান বর্জন করছে। এই পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় পোশাক ব্র্যান্ডগুলো হলো এইচএন্ডএম, জারা, সিএন্ডএ, নেক্সট এবং টিচিবো।

আন্তর্জাতিক শ্রমিক অধিকার সংগঠন ক্লিন ক্লোদস ক্যাম্পেইন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২৫শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা এপারেল সামিটে এই ব্র্যান্ডগুলো অংশ নিচ্ছে না। তাদের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে সম্প্রতি আশুলিয়ায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক আন্দোলনের পর অন্তত ১৫০০ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। এছাড়াও কমপক্ষে ৩৪ জন শ্রমিক এবং শ্রমিক নেতাকেও আটক করা হয়। যা শ্রমনীতির পরিপন্থী।

তবে বাংলাদেশে শ্রমিক ছাঁটাই এবং শ্রমিক নেতাদের হয়রানি বন্ধ করতে বাংলাদেশ সরকার এবং বিক্রেতাদের ওপর চাপ দেওয়ার জন্য পোশাক ব্র্যান্ডগুলোর সাথে এখনও দেন-দরবার করছে ক্লিন ক্লোদস। কিন্তু শুধু কয়েকটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড একটি অনুষ্ঠান বর্জন করলে কতটা চাপ তৈরি হবে?

এ প্রশ্নের জবাবে নেদারল্যান্ডসে ক্লিন ক্লোদস ক্যাম্পেইনের মুখপাত্র মিরিয়াম ভ্যান হিউটেন বলেন, তারা মনে করেন এই বয়কটের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি কঠোর বার্তা যাবে। এর ফলে বিজিএমইএ এবং বাংলাদেশ সরকারের কাছে একটি পরিষ্কার সংকেত যাবে যে যদি না গ্রেফতারকৃত শ্রমিক এবং শ্রমিক নেতাদের মুক্ত করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা মিথ্যা অভিযোগ বাতিল না করা হয়, হয়রানি বন্ধ না করা হয় তাহলে এই ধরনের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া সম্ভব নয়।

ক্লিন ক্লোদসের ওই মুখপাত্র আরও যোগ করেন, শুধু অনুষ্ঠান বয়কটই যথেষ্ট নয়, আমরা ব্র্যান্ডগুলোকে বলছি তোমরা স্পষ্টভাবে সবাইকে জানিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে বলো ইউনিয়ন নেতাদের সাজানো মামলা তুলে নিতে হবে এবং আইনসঙ্গতভাব সংগঠন করার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

মিরিয়াম ভ্যান হিউটেন আরও দাবি করেন ব্রান্ডগুলোর সাথে চুক্তিতে শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং বিরোধ নিষ্পত্তির সঠিক কাঠামো থাকতে হবে।

বাংলাদেশের সরকার এবং দেশের পোশাক খাতের মালিকপক্ষ অবশ্য শ্রমিক নির্যাতনের এসব অভিযোগ আগাগোড়াই অস্বীকার করে আসছে। তারা বলছে, এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। যদি এসব আহ্বানকে বা বয়কটকে বাংলাদেশের সরকার বা পোশাক খাত অগ্রাহ্য করে তাহলে তাদের সামনে কী করার থাকবে?

এই প্রশ্নের জবাবে ক্লিন ক্লোদসের মিরিয়াম ভ্যান হিউটেন জানান, শ্রমিকের অধিকার খর্ব করার বিষয়টি তদন্ত করতে তারা ইতিমধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইবিএ চুক্তিতে এই অধিকার নিশ্চিত করার শর্ত আছে। গ্লোবাল ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাথে যৌথভাবে আমরা ই ইউ এর কাছে এই দাবি করেছি। যদি তদন্তে চুক্তির বরখেলাপ প্রমাণিত হয় তাহলে বাংলাদেশকে দেওয়া বিশেষ বাণিজ্য সুবিধাও স্থগিত করতে হবে দাবি জানিয়েছে ক্লিন ক্লোদস ক্যাম্পেইন।

এবারের এপারেল সামিটের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘টুগেদার ফর বেটার টুমোরো’। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে প্রথম এপারেল সামিটের আয়োজন করে বিজিএমইএ। সেই সম্মেলনে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি ৫ হাজার কোটি বা ৫০ বিলিয়ন ডলারের নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়। এ জন্য একটি পথনকশা বা রোডম্যাপ চূড়ান্ত করে পরের বছর সরকারকে দেন সংগঠনটির নেতারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ