ঢাকা, শুক্রবার 24 February 2017, ১২ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সাধারণ কয়েদিরা পরিবারের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতে পারবে -আইজি প্রিজন

 

স্টাফ রিপোর্টার : ‘বন্দিদের সংশোধন, সমাজে পুনর্বাসন’- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত পালিত হবে কারা সপ্তাহ- ২০১৭। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানান কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন।

২৬ ফেব্রুয়ারি ফজরের নামাজের পর সব কারা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে কারা সপ্তাহের সূচনা হবে। ওইদিন বেলা ১১টায় গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সপ্তাহের উদ্বোধন করবেন।

ইফতেখার উদ্দীন বলেন, কারাগারে সেবার মান বৃদ্ধি, এটিকে সংশোধনাগারে রূপান্তরে আরো একধাপে এগিয়ে যাওয়া, কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কাজের উদ্দীপনা বৃদ্ধি, কারাগার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পরিবর্তন, কারা কর্মকর্তা-বন্দি ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সেতুবন্ধন সৃষ্টি, কারা কর্মচারীদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন এবং জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঠেকাতে ভূমিকা পালনে করা সপ্তাহ ২০১৭ উদযাপন করা হবে।

তিনি বলেন, কারা সপ্তাহ উপলক্ষে সারাদেশের ৬৮টি কারাগারে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সব কারাগারে তথ্য ও সেবাকেন্দ্র পরিচালনা করা হবে। কয়েকটি কারাগারে বন্দিদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে কারা মেলার আয়োজন করা হবে। কারারক্ষী ও বন্দিদের নিয়ে বিশেষ দরবার, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কারারক্ষীদের নিয়ে বিশেষ প্যারেড ও প্রীতিভোজের আয়োজন করা হবে।

তিনি আরো বলেন, এক সময় কারাগার শুধুমাত্র সাজা কার্যকরের প্রতিষ্ঠান হিসেবে মানা হতো। বর্তমানে সাজা কর্যকরের পাশাপাশি আসামিরা যেন কারাগার থেকে বের হয়ে পুনরায় অপরাধে না জড়ায় সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।

বন্দিদশা থেকে বের হয়ে আসামিরা যেন সমাজে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হতে পারেন সে ব্যাপারে কারা অধিদপ্তরের বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে দৃষ্টিপাত করে ইফতেখার উদ্দীন বলেন, বন্দিদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে কারা প্রশাসন বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন , শীঘ্রই সাধারণ কয়েদিরা তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কথা বলার সুযোগ পাবেন। তবে টপ টেরর বা শীর্ষ সন্ত্রাসী ও জঙ্গিরা এ সুবিধা পাবে না। তিনি বলেন, শীঘ্রই এ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। বন্দিরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় তা মনিটরিংয়ের জন্য গোয়েন্দা সদস্যরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন এবং তাদের কথোপকথন মনিটরিং করবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত মন্ত্রিসভার আগামী বৈঠকে এর চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আমরা এই প্রকল্পটি চালু করবো। আশা করছি আগামী এক মাসের মধ্যেই এটি কার্যকর করা সম্ভব হবে।

ইফতেখার উদ্দীন বলেন, গত বছরের ১০ এপ্রিল কেরানীগঞ্জে নতুন কেন্দ্রীয় কারাগার উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বন্দিদের জন্য এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ-টু-আই প্রোগামের আওতায় কারাবন্দিদের ফোনে কথা বলা সংক্রান্ত ‘প্রিজন লিংক’ প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে খুব শিগগিরই এর প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রথমে কোন বন্দি কারাগারের আসলে তার নথিপত্র ব্যবস্থা করা হয়। বন্দিদের কাছ থেকে দুটি নম্বর রেজিস্টারে নথিভুক্ত করা হয়। এ দুটি নম্বর বাবা-মা কিংবা স্ত্রী-সন্তানের হতে হবে।

আইজি প্রিজন বলেন, কারাগারের ভেতর মোবাইল পাচার ঠেকানো যায়নি। শত শত মোবাইল বন্দিদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। এরমধ্যে একটি-দুটি ঢুকে পড়ছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও কারাগারে মোবাইল ও ড্রাগ প্রবেশ ঠেকাতে পারেনি। অথচ তাদের আরও উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে। সে তুলনায় আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হয়। তবে কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে বন্দিদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের ফোনে কথা বলিয়ে দেওয়ার সুযোগ করিয়ে দিলে, যে চক্রটি কারাগারের ভেতর মোবাইল পাচার করছে তারা আর ব্যবসা করতে পারবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ