ঢাকা, শুক্রবার 24 February 2017, ১২ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দিঘলিয়ার ইউএনওসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

 

খুলনা অফিস : ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক এক ব্যক্তির কাছ থেকে দুই লাখ টাকার চেক নেয়ার অভিযোগে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুর রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বুধবার উপজেলার পানিগাতি গ্রামের জাহিদ খান খুলনার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক ইকরামুল হক শামীম মামলাটি গ্রহণ করে আগামী ১৬ মার্চ শুনানির দিন ধার্য করেন।

মামলায় অপর বিবাদিরা হলেন, দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড দিঘলিয়া শাখার ব্যবস্থাপক, উপজেলার পানিগাতি গ্রামের ছত্তার বিশ্বাসের ছেলে মো. আহাদ বিশ্বাস এবং ব্রক্ষ্মগাতি গ্রামের মোক্তার শেখের ছেলে মো. মোফাজ্জেল শেখ ও সামছুর রহমান শেখের স্ত্রী মোছা. বেবি বেগম।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদি জাহিদ খান ঢাকার উত্তর বাড্ডা ভাওয়ালী পাড়া মসজিদ রোড এলাকার গালফ বাংলা ট্রেনিং অ্যান্ড টেস্টিং সেন্টারে মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ পদে চাকরি করেন। সে সুবাদে এ প্রতিষ্ঠানের ট্রেনিং এবং শর্ত পূরণ সােেপ দিঘলিয়া উপজেলার পানিগাতি গ্রামের ছত্তার বিশ্বাসের ছেলে মো. আহাদ বিশ্বাস এবং ব্রক্ষ্মগাতি গ্রামের মোক্তার শেখের ছেলে মো. মোফাজ্জেল শেখকে গত বছরের ১৮ জুন কাতারের আরবাকন ট্রেডিং এন্ড কন্ট্রাক্টিং-ইউসিসি নামক কোম্পানিতে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু অসদাচরণের কারণে ১০ মাস পর তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। এ ঘটনার এক বছর পর তারা এ বিষয়ে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহমানের কাছে অভিযোগ করেন। এর বিপরীতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি তিনি বাদিকে নোটিশ করেন। নোটিশ পেয়ে তিনি গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ইউএনও’র দপ্তরে হাজির হলেও তিনি ছিলেন না। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাদি পুনরায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে হাজির হলে তিনি তার সঙ্গে অশোভন, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং মারমুখী আচরণ করে তাৎণিকভাবে দুই লাখ টাকা প্রদানের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এমনকি এ সময় অভিযোগের বিপে প্রমাণপত্র দেখানোর চেষ্টা করলেও টাকা না দিলে তিনি বাদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যম ছয় মাসের কারাদন্ড দেয়ার ভয় দেখান। এক পর্যায়ে তিনি থানার ওসিসহ পুলিশের একটি দল হাজির করেন। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপককে ডেকে বাদির হিসাবের বিপরীতে চেকবই ইস্যু করিয়ে আলাদা তিনটি পাতায় দুই লাখ টাকা (দু’টিতে ৫০ হাজার করে এবং একটিতে এক লাখ) লিখিয়ে নেন এবং সাদা কাগজে স্বার দিতেও বাধ্য করেন। এ সময় বাদির ব্যাংকে ওই পরিমাণ টাকা নেই-জানালে ইউএনও ক্ষিপ্ত হয়ে চেক ডিজঅনার করে তার বিরুদ্ধে এনআই অ্যাক্টে মামলা করে জেলের ঘানি টানানোর হুমকি দেন। বাদিপে মামলা দাখিলকারী এডভোকেট মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, আদালত মামলাটি গ্রহণ পূর্বক আগামী ১৬ মার্চ শুনানির দিন ধার্য করেন।

বাদি জাহিদ খান বলেন, তার নামে আগে ইস্যুকৃত চেকের সাতটি পাতা থাকা সত্ত্বেও ইউএনও আব্দুর রহমান ব্যাংক ম্যানেজারকে নতুন করে চেকবই ইস্যু করতে বাধ্য করেন। যে চেকের তিনটি পাতায় দুই লাখ টাকা লিখে জোর পূর্বক তার স্বার নেয়া হয়।

সোনালী ব্যাংক লিমিটেড দিঘলিয়া শাখার ব্যবস্থাপক কঙ্কন কুমার দত্ত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইউএনও আব্দুর রহমানের কথায় তিনি জাহিদ খানের আবেদনের ভিত্তিতে চেক ইস্যু করেন। একজন ব্যাংক কর্মকর্তাকে ইউএনও’র দপ্তরে পাঠিয়ে বন্ডে স্বার নিয়ে চেক বই জাহিদ খানের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এইএনও’র সঙ্গে জাহিদ খানের কোনো দ্বন্দ্ব বা সমস্যা আছে কী না তা আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে ইউএনও আব্দুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ