ঢাকা, শুক্রবার 24 February 2017, ১২ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কপোতাক্ষের পর মৃত্যু  হলো শিবসা নদীর

 

খুলনা অফিস : কপোতাক্ষ নদের পর এবার মৃত্যু হলো ঐতিহ্যবাহী শিবসা নদীর। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে নদীর বক্ষে পলি জমে চারণভূমি হতে চলেছে নদীটি। জোয়ারের সময় ভরা যৌবন মনে হলেও ভাটার সময় সম্পূর্ণ শুকিয়ে যায়। বন্ধ হয়েছে নৌযান চলাচল। আর এর প্রভাব পড়েছে খুলনার পাইকগাছার ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে এলাকার আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার উপর। নদীটি দ্রুত খনন না করলে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে জনজীবন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শিবসা নদী সুন্দরবনের অন্যতম প্রধান নদী। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা জেলার একটি নদী। মংলাতে পশুর নদী দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে পশ্চিম শাখাটি শিবসা নামে সুন্দরবনের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মোহনার কাছে কুঙ্গা নাম ধারণ করে বঙ্গোপাসাগরে পড়েছে। শিবসা-কুঙ্গার তীরে হিরণ পয়েন্ট অবস্থিত। এর দৈর্ঘ্য ৮৫ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ১৫১০ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা ‘পাউবো’ কর্তৃক শিবসা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ৮৮। নদীটি খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলা, দাকোপ উপজেলা এবং কয়রা উপজেলার মাঝে অবস্থিত। শিবসা নদী উপজেলার লস্কর ইউনিয়ন এলাকায় প্রবহমান কপোতাক্ষ নদ হতে উৎপত্তি লাভ করেছে। অতঃপর এই নদীর জলধারা একই জেলার দাকোপ উপজেলার খুলনা রেঞ্জ ইউনিয়ন এলাকায় প্রবহমান পশুর নদীতে নিপতিত হয়েছে। উৎপত্তির পর প্রায় ২৭ কিমি পাইকগাছা উপজেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে অবশিষ্ট পথ পাইকগাছা এবং দাকোপ উপজেলার সাধারণ সীমা নির্ধারণ করে প্রবাহিত হয়েছে। শিবসা সুন্দরবনের অভ্যন্তরে পশুর নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। শিবসার চলার পথে বাড়–লী, হাঁড়িয়া, বুনাখালী, গড়-ইখালী, মৈনস, তাকী, বেষেখালী, বাদুরগাছা, ভেলতি, কয়রা গাংরাইল, হড্ডা, নালীজল্লা এবং আরও কতিপয় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নদী ও খাল বিভিন্ন দিক থেকে এসে শিবসার সাথে মিশেছে। বছর দু’এক আগেও নদীতে সারাবছর পানিপ্রবাহ পরিদৃষ্ট ছিল এবং ছোটবড় নৌযান চলাচল করতো। এই নদীর অধিকাংশ অংশ উপকূলীয় বনভূমি সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এ নদীর কিছু অংশ বাংলাদেশ-ভারত প্রটোকল রুটের অন্তগত। এই নদী বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দ্বিতীয় শ্রেণির নৌপথ হিসেবে স্বীকৃত। পাইকগাছা উপজেলার অন্যান্য নদ-নদীগুলোর সংযোগ রয়েছে শিবসার সাথে। যার কারণে বৃহৎ এলাকার পানি সরবরাহের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে শিবসা নদী। এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে যখন আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি তখন যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিল শিবসা নদী। এক সময় নদী দিয়ে চলত লঞ্চ, স্টীমারসহ ভারী-ভারী নৌযান। জেলা শহরে যাতায়াতসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের সকল পণ্য আনা-নেয়ার অন্যতম মাধ্যমও ছিল এ নদীটি। জেলে সম্প্রদায়সহ শত শত নিম্ন আয়ের পরিবার নদী থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত। কিন্তু কালের বিবর্তনে ঐতিহ্যবাহী নদীটি আজ মৃত প্রায়। নদীর বক্ষে পলি জমে গত কয়েক বছরের ব্যবধানে নদীর শুরু থেকে অর্থাৎ কপোতাক্ষের শেষ প্রান্ত শিববাটি থেকে সোলাদানার ত্রিমোহনী পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার নদী সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে মরাখালে পরিণত হয়েছে। জোয়ারের সময় প্রাণবন্ত মনে হলেও ভাটার সময় সম্পূর্ণ শুকিয়ে যায়। যার কারণে জোয়ারের সময় পারাপাররত যাত্রীরা নৌকায় পার হলেও ভাটার সময় হাটু কাঁদা ভেঙ্গে পায়ে হেটে নদী পার হয়। নদীর মৃত্যুতে আগামী বর্ষা মওসুমে ওই অঞ্চল বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ